
জালাল উদ্দিন লস্কর,স্টাফ রিপোর্টার:
হবিগঞ্জের মাধবপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতীর পেটে গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাধবপুরের মা মণি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। পরে অসুস্থ হয়ে পড়া ওই নারীকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে গজ-ব্যান্ডেজ বের করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর স্বজনরা। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
তবে পেটে গজ-ব্যান্ডেজ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে মা মণি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ওই রোগীর অন্ত্রে যক্ষ্মা (টিবি) এবং এর কারণে খাদ্য চলাচলের পথে ব্লক ধরা পড়ে। হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে তাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করা হচ্ছে বলেও দাবি কর্তৃপক্ষের।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই প্রসবব্যথা নিয়ে মাধবপুর উপজেলার শ্রীধরপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে ঝুমা আক্তারকে মা মণি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পর সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. আরিফ ঝুমার সিজার করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের পর বাড়িতে ফেরার পর থেকেই ঝুমা পেটে ব্যথা ও অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। কয়েক দফা চিকিৎসা নেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) তাকে পুনরায় মা মণি হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্বজনদের দাবি, তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেখানে চিকিৎসার সুযোগ নেই জানিয়ে তাকে সিলেটে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে তাকে সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের দাবি, সেখানে রোববার রাতে ঝুমার পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়। এ সময় তাঁর পেট থেকে গজ-ব্যান্ডেজ বের করা হয়েছে বলে স্বজনরা জানান। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে মা মণি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ঝুমা সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। তিন দিন পর মা ও নবজাতক সুস্থ অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি যান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, পরবর্তীতে পেটে ব্যথা নিয়ে ঝুমা হাসপাতালে এলে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং ব্যথা কমে যাওয়ায় তিনি বাড়ি ফিরে যান। পরে আবার ব্যথা বাড়লে আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়। এতে পেটে তরল পদার্থের উপস্থিতি পাওয়ার পর উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে সিলেটে পাঠানো হয়।
হাসপাতালের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সিলেটে অস্ত্রোপচারজনিত জটিলতার আশঙ্কায় তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হলেও সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অন্ত্রে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। এর ফলে খাদ্য চলাচলের পথে ব্লক তৈরি হয়েছিল। পরে এ জটিলতার কারণে পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়।
মা মণি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, পরবর্তী অস্ত্রোপচারে সিজারিয়ান অপারেশনজনিত কোনো জটিলতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে পেটে গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগকে তারা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ফ্রন্ট ডেস্কের শাকির নামের একজন জানান, এ বিষয়ে হাসপাতালের পক্ষ থেকে তথ্য দেওয়ার সুযোগ নেই। রোগীর অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে প্রসূতীর পরিবারের অভিযোগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মধ্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি, অস্ত্রোপচারের প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















