
পারভেজ হাসান লাখাই প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার করাব ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আগাপুর গ্রামে পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমি জোরপূর্বক দখলের বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক বৃদ্ধ বাবাসহ একই পরিবারের তিনজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, হামলার সময় ঘর ভাঙচুর, অবরুদ্ধ করে রাখা এবং পকেটে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ঘটনাটি গত ২১ আগস্ট রাত পৌনে ৯টার দিকে ঘটে বলে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বুল্লা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় বাসিন্দা সকিল সরকার (২৫) বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তার আপন ভাই অকিল সরকার, চাচাতো ভাই রঞ্জন সরকার ও অঞ্জন সরকার, চাচা দীলন সরকার এবং সঞ্জয়, অজয় ও বিজয় সরকারের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করা হয়েছে।
সকিল সরকারের চিৎকার শুনে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন তার বাবা অনিল সরকার (৭৫) ও স্ত্রী ইশিতা সরকার (২২)। অভিযোগ রয়েছে, তাদেরও মারধর করা হয়। পরে অনিল সরকার ও ইশিতা সরকারকে মারধরের পর তাদের ঘর ভাঙচুর করে ঘরের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলেও দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা পরেশ সরকারসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং করাব ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিক মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনজনই চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সকিল সরকার অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তার পকেটে থাকা বেতনের টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মামলা করলে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব কারণে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন এবং ভয়ে বাড়িতে যেতে পারছেন না বলে জানান।
এ বিষয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিক মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকিল সরকারের বাবা অনিল সরকার এক কানি থেকে কিছু বেশি জমি ক্রয় করেছিলেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই ক্রয়কৃত জমি জোরপূর্বক দখলকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত। তাদের অভিযোগ, অনিল সরকারের বড় ছেলে অকিল সরকার ওই জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং এ বিরোধ থেকেই হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 

























