
বাংলার খবর ডেস্ক
যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক ধর্মীয় উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে হবিগঞ্জের মাধবপুরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস, আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার মাধবপুর উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আয়োজনে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।
ঐতিহ্যবাহী খান্দুরা পাক দরবার শরীফের পীরজাদা আলহাজ সৈয়দ জুবায়ের কামাল পীর সাহেব ও পীরজাদা আলহাজ সৈয়দ শরিফুর রহমানের নেতৃত্বে জশনে জুলুস ও আলোচনা সভায় বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন।
এতে মাধবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান এবং মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সোহেল রানাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। পরে বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, ইমাম-মুয়াজ্জিন, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জশনে জুলুসে অংশ নেন।
জশনে জুলুসটি মাধবপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় দরুদ শরিফ পাঠ ও ইসলামী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিভিন্ন সড়ক ও জনপদ। সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত জুলুসকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত ও শান্তির দূত। তাঁর জীবনাদর্শে ন্যায়বিচার, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, সহনশীলতা ও মানবতার শিক্ষা রয়েছে। সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ দূর করে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবীর শিক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ ও আদর্শ ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও চরিত্র সম্পর্কে জানার পাশাপাশি তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে নিজেদের জীবন গড়ার আহ্বান জানান তারা।
দিনব্যাপী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মাধবপুরজুড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। বিপুলসংখ্যক মুসল্লির অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুসের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়।
বাংলার খবর ডেস্ক : 




















