
আবদুর রউফ আশরাফ,বানিয়াচং প্রতিনিধি:
জুমুআর দিন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিনগুলোর একটি। মুমিনের জীবনে এ দিনটি ইবাদত, দোয়া, জিকির ও আত্মশুদ্ধির বিশেষ সুযোগ নিয়ে আসে। আল্লাহ তাআলার রহমত ও মাগফিরাত লাভের আশায় এ দিনে বেশি বেশি নেক আমল করা উচিত। এর মধ্যে দরূদ শরীফ পাঠ ও এস্তেগফার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল।
দরূদ শরীফ: মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও রহমতের মাধ্যম
দরূদ পাঠ করা মুমিনের ভালোবাসা ও আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি সালাত পাঠান। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত পাঠ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।”
— সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৬
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর একবার দরূদ পাঠের ফজিলত সম্পর্কে সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি তাঁর ওপর একবার দরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করেন।
জুমুআর দিনে বেশি বেশি দরূদ পাঠের ব্যাপারেও হাদীসে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমুআর দিনে তাঁর ওপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ করতে। কারণ উম্মতের পাঠানো দরূদ তাঁর কাছে পেশ করা হয়।
এস্তেগফার: পাপমোচন ও বরকত লাভের আমল
এস্তেগফার অর্থ আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। তাই নিজের গুনাহ ও অপরাধের জন্য আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
পবিত্র কুরআনে হযরত নূহ (আ.)-এর বক্তব্য তুলে ধরে আল্লাহ তাআলা বলেন—
“তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করবেন এবং তোমাদের জন্য উদ্যান ও নদীনালা সৃষ্টি করবেন।”
— সূরা নূহ, আয়াত: ১০-১২
এ থেকে বোঝা যায়, এস্তেগফার শুধু গুনাহ মাফের মাধ্যম নয়; বরং আল্লাহর রহমত, বরকত ও অনুগ্রহ লাভেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।
হাদীসে এস্তেগফারের ফজিলত
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত এস্তেগফার করার ফজিলত বর্ণনা করেছেন। এতে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি নিয়মিত এস্তেগফার করে, আল্লাহ তার জন্য সংকীর্ণতা থেকে বের হওয়ার পথ করে দেন, দুশ্চিন্তা দূর করেন এবং এমন স্থান থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।
— সুনান আবু দাউদ
জুমুআর দিন দরূদ ও এস্তেগফারের বিশেষ গুরুত্ব
জুমুআর দিন দরূদ ও এস্তেগফারকে নিজের নিয়মিত আমলের অংশ করা যেতে পারে। এ দিনে বেশি বেশি জিকির, দরূদ, এস্তেগফার, কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়া করা মুমিনের জন্য কল্যাণকর।
বিশেষ করে জুমুআর দিনে দোয়া কবুলের একটি বিশেষ সময় রয়েছে বলে সহিহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। এ সময়কে কাজে লাগিয়ে নিজের, পরিবারের এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।
আত্মশুদ্ধির জন্য দরূদ ও এস্তেগফার
এস্তেগফারের মাধ্যমে বান্দা নিজের ভুল ও গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়। আর দরূদ শরীফের মাধ্যমে প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে।
তাই জুমুআর দিনে অহেতুক সময় নষ্ট না করে নিজের জবানকে দরূদ ও এস্তেগফারের জিকিরে সিক্ত রাখা যেতে পারে। “আস্তাগফিরুল্লাহ” পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং “আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ” পাঠের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরূদ পাঠ করা মুমিনের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
জুমুআর এই পবিত্র দিনে আসুন, আমরা গুনাহ থেকে তওবা করি, বেশি বেশি এস্তেগফার করি, প্রিয় নবী (সা.)-এর ওপর দরূদ পাঠ করি এবং আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত কামনা করি।
বাংলার খবর ডেস্ক : 
























