ঢাকা ০৫:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

যোগদানের এক দিন পরই বাহুবল থানার ওসি প্রত্যাহার

হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল থানায় যোগদানের মাত্র এক দিন পরই ওসি এম আলী আশরাফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদারকে বাহুবল মডেল থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

বুধবার রাতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ পরিবর্তন আনা হয়।

জানা গেছে, ২১ জুলাই রাত ১০টার দিকে এম আলী আশরাফ বাহুবল মডেল থানায় যোগদান করেন। তবে তার যোগদানের খবর প্রকাশের পর থেকেই বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পূর্ববর্তী দায়িত্বকাল নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ মিয়ার ওপর গুলিবর্ষণ এবং বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি ২০২২ সালের ২৯ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রকাশিত একটি নিন্দা ও প্রতিবাদ বিবৃতিও পুনরায় প্রচার করা হয়। ওই বিবৃতিতে মারুফ মিয়া, চুনারুঘাট কলেজ ছাত্রদলের মাহমুদুর রহমান বাপ্পি, রতন মাহফুজ ফয়সল, আব্দুস সালাম ও রিপনসহ আহত নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করে পুলিশি হামলার নিন্দা জানানো হয়েছিল।

পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার দাবি করা ছাত্রদল নেতা মারুফ মিয়া বলেন, অতীতে যিনি রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগে সমালোচিত ছিলেন, তাকে পার্শ্ববর্তী বাহুবল থানার ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, অতীতের ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনর্বহাল করা হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এম আলী আশরাফ ২০২০ সালের ৯ অক্টোবর চুনারুঘাট থানায় যোগদানের পর বিএনপি, জামায়াতসহ তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়ন চালানোর অভিযোগ ওঠে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনি সেখান থেকে বদলি হন।

পুলিশ সূত্র জানায়, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এম আলী আশরাফ বাংলাদেশ পুলিশে সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগদান করেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে নবীগঞ্জ উপজেলার গোপলার বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এবং ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে চুনারুঘাট থানার ওসি (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে বাহুবল মডেল থানায় নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার দ্রুত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

হাইমচরে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৪, বিভিন্ন মামলায় আরও ৬

error:

যোগদানের এক দিন পরই বাহুবল থানার ওসি প্রত্যাহার

আপডেট সময় ০৬:৫৮:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল থানায় যোগদানের মাত্র এক দিন পরই ওসি এম আলী আশরাফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদারকে বাহুবল মডেল থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

বুধবার রাতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ পরিবর্তন আনা হয়।

জানা গেছে, ২১ জুলাই রাত ১০টার দিকে এম আলী আশরাফ বাহুবল মডেল থানায় যোগদান করেন। তবে তার যোগদানের খবর প্রকাশের পর থেকেই বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পূর্ববর্তী দায়িত্বকাল নিয়ে নানা অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ মিয়ার ওপর গুলিবর্ষণ এবং বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি ২০২২ সালের ২৯ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রকাশিত একটি নিন্দা ও প্রতিবাদ বিবৃতিও পুনরায় প্রচার করা হয়। ওই বিবৃতিতে মারুফ মিয়া, চুনারুঘাট কলেজ ছাত্রদলের মাহমুদুর রহমান বাপ্পি, রতন মাহফুজ ফয়সল, আব্দুস সালাম ও রিপনসহ আহত নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করে পুলিশি হামলার নিন্দা জানানো হয়েছিল।

পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার দাবি করা ছাত্রদল নেতা মারুফ মিয়া বলেন, অতীতে যিনি রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগে সমালোচিত ছিলেন, তাকে পার্শ্ববর্তী বাহুবল থানার ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, অতীতের ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনর্বহাল করা হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এম আলী আশরাফ ২০২০ সালের ৯ অক্টোবর চুনারুঘাট থানায় যোগদানের পর বিএনপি, জামায়াতসহ তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়ন চালানোর অভিযোগ ওঠে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনি সেখান থেকে বদলি হন।

পুলিশ সূত্র জানায়, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এম আলী আশরাফ বাংলাদেশ পুলিশে সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগদান করেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে নবীগঞ্জ উপজেলার গোপলার বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এবং ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে চুনারুঘাট থানার ওসি (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে বাহুবল মডেল থানায় নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার দ্রুত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।