ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পুলিশের পোশাক পরে মহাসড়কে ডাকাতি, র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ৩ Logo ঘোড়ার পা ভাঙার প্রতিশোধ, নাকি এক বীরের জেদ? লাখাই থানা প্রতিষ্ঠার প্রচলিত ইতিহাস Logo লাখাইয়ের ফরদাবাদে ৩০০ ফুটের নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই ভরসা, স্থায়ী সেতুর দাবিতে এলাকাবাসী Logo বিশ্বকাপ উন্মাদনায় শাহজালালপুরে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, উৎসবমুখর পরিবেশ Logo সাতছড়িতে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে মতবিনিময় সভা, নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান Logo মানুষের সেবা করেই জনগণের আস্থা অর্জন করতে চাই: এমপি সৈয়দ মো. ফয়সল Logo লাখাইয়ের বুল্লা বাজারে দুর্ধর্ষ চুরি, নগদ টাকাসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট Logo বিশ্বকাপজয়ীদের জন্য এবার নতুন সম্মাননা, প্রথমবার দেওয়া হবে চ্যাম্পিয়নশিপ রিং Logo লাখাইয়ে কৃষক স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন, শুরু হলো তথ্য সংগ্রহ Logo সাতছড়ি সড়ক ধসে ট্রাক উল্টে যান চলাচল বন্ধ, বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ

ঘোড়ার পা ভাঙার প্রতিশোধ, নাকি এক বীরের জেদ? লাখাই থানা প্রতিষ্ঠার প্রচলিত ইতিহাস

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই থানা প্রতিষ্ঠা নিয়ে স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত ইতিহাস ও জনশ্রুতি রয়েছে, যা আজও মানুষের মুখে মুখে ফিরে আসে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, একটি ঘোড়ার দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল লাখাইকে স্বাধীন থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।

প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ আমলে বর্তমান লাখাই এলাকা ছিল মাধবপুর থানার অধীন একটি পুলিশ আউটপোস্ট। ১৯২০ সালের দিকে আসাম প্রদেশের সরকারি উকিল ও রায়বাহাদুর অ্যাডভোকেট সতীশ চন্দ্র দত্ত একটি মামলার কাজে ঘোড়ায় চড়ে মাধবপুর থানার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

সেসময় মাধবপুর থানার আশপাশে বড় বড় খাল ছিল। একটি খাল পার হওয়ার সময় তার ঘোড়াটি লাফ দিলে পা ভেঙে যায়। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, এই ঘটনায় তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন এবং মাধবপুর থানায় আর প্রবেশ না করে ফিরে যান। আহত ঘোড়াটিকে চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে তিনি আসামের তৎকালীন চিফ কমিশনার স্যার নিকোলাস ডড বিটসন বেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লাখাইকে স্বাধীন থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য তিনি লন্ডনেও যান এবং তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

স্থানীয় ইতিহাসবিদদের মতে, দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ১৯২২ সালের ১০ জানুয়ারি আসাম প্রাদেশিক সরকারের গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে চার নদীর মোহনায় অবস্থিত স্বজনগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে লাখাই থানা প্রতিষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, রায়বাহাদুর সতীশ চন্দ্র দত্তের বাড়ি ছিল লাখাইয়ের স্বজনগ্রাম এলাকায়। পরবর্তীতে ১৯৩০ সালে তিনি হবিগঞ্জ সদর-লাখাই-বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ আসন থেকে ভারতের কেন্দ্রীয় আইনসভার সদস্য (এমএলএ) নির্বাচিত হন এবং গুরুত্বপূর্ণ সাংসদীয় দায়িত্ব পালন করেন।

স্থানীয়দের কাছে লাখাই থানা প্রতিষ্ঠার এই কাহিনি শুধু একটি প্রশাসনিক ইতিহাস নয়, বরং এলাকার ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

**বি.দ্র.:** এ প্রতিবেদনে বর্ণিত ঘটনাগুলো স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ইতিহাস ও হবিগঞ্জ জেলা গবেষণা কেন্দ্রের তথ্যসূত্রের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব ঘটনার কিছু অংশের স্বাধীন ঐতিহাসিক যাচাই সীমিত হতে পারে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশের পোশাক পরে মহাসড়কে ডাকাতি, র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ৩

ঘোড়ার পা ভাঙার প্রতিশোধ, নাকি এক বীরের জেদ? লাখাই থানা প্রতিষ্ঠার প্রচলিত ইতিহাস

আপডেট সময় ১১:০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

পারভেজ হাসান, লাখাই প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই থানা প্রতিষ্ঠা নিয়ে স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত ইতিহাস ও জনশ্রুতি রয়েছে, যা আজও মানুষের মুখে মুখে ফিরে আসে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, একটি ঘোড়ার দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল লাখাইকে স্বাধীন থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।

প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ আমলে বর্তমান লাখাই এলাকা ছিল মাধবপুর থানার অধীন একটি পুলিশ আউটপোস্ট। ১৯২০ সালের দিকে আসাম প্রদেশের সরকারি উকিল ও রায়বাহাদুর অ্যাডভোকেট সতীশ চন্দ্র দত্ত একটি মামলার কাজে ঘোড়ায় চড়ে মাধবপুর থানার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

সেসময় মাধবপুর থানার আশপাশে বড় বড় খাল ছিল। একটি খাল পার হওয়ার সময় তার ঘোড়াটি লাফ দিলে পা ভেঙে যায়। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, এই ঘটনায় তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন এবং মাধবপুর থানায় আর প্রবেশ না করে ফিরে যান। আহত ঘোড়াটিকে চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে তিনি আসামের তৎকালীন চিফ কমিশনার স্যার নিকোলাস ডড বিটসন বেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লাখাইকে স্বাধীন থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য তিনি লন্ডনেও যান এবং তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

স্থানীয় ইতিহাসবিদদের মতে, দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ১৯২২ সালের ১০ জানুয়ারি আসাম প্রাদেশিক সরকারের গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে চার নদীর মোহনায় অবস্থিত স্বজনগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে লাখাই থানা প্রতিষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, রায়বাহাদুর সতীশ চন্দ্র দত্তের বাড়ি ছিল লাখাইয়ের স্বজনগ্রাম এলাকায়। পরবর্তীতে ১৯৩০ সালে তিনি হবিগঞ্জ সদর-লাখাই-বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ আসন থেকে ভারতের কেন্দ্রীয় আইনসভার সদস্য (এমএলএ) নির্বাচিত হন এবং গুরুত্বপূর্ণ সাংসদীয় দায়িত্ব পালন করেন।

স্থানীয়দের কাছে লাখাই থানা প্রতিষ্ঠার এই কাহিনি শুধু একটি প্রশাসনিক ইতিহাস নয়, বরং এলাকার ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

**বি.দ্র.:** এ প্রতিবেদনে বর্ণিত ঘটনাগুলো স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ইতিহাস ও হবিগঞ্জ জেলা গবেষণা কেন্দ্রের তথ্যসূত্রের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব ঘটনার কিছু অংশের স্বাধীন ঐতিহাসিক যাচাই সীমিত হতে পারে।