ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন: যুবকের ৭ দিনের কারাদণ্ড Logo মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা জোরদার, মাদকসেবনের অভিযোগে যুবক আটক Logo মাধবপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, এমপির হস্তক্ষেপ কামনা Logo বাহুবলে মাদকের বিরুদ্ধে ইউএনওর অভিযান: ইয়াবা বহন ও সেবনে নারীর ৯ মাস কারাদণ্ড Logo জামালপুরে ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা: কমিটি বাতিল, অধ্যক্ষকে শোকজ Logo বাহুবলে নারী-সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষ: নিহত ১, আহত ৬ Logo লাখাইয়ে মুড়িয়াউক গ্রামের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট মামলার প্রধান আসামি আক্তার মিয়া গ্রেফতার Logo বর্ষার শুরুতেই লাখাইয়ের শিবপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম: একমাত্র ভরসা নৌকা Logo জামালপুরে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে বিপাকে ১০০ শিক্ষার্থী Logo মাধবপুরে এলপিজির দাম কমলেও সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা

জামালপুরে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে বিপাকে ১০০ শিক্ষার্থী

আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম:

জামালপুরে এইচএসসি ও সমমানের বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় বড় ধরনের প্রশ্নপত্র বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের একটি কক্ষে ভুলবশত ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে অন্তত ১০০ জন শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন।

শনিবার সকালে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের ৪২০২ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ওই কক্ষের সব পরীক্ষার্থী ছিলেন সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের ২০২৬ সালের নিয়মিত শিক্ষার্থী।

পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা চলাকালে কেউ বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্রে স্পষ্টভাবে ‘২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী’ লেখা দেখতে পেয়ে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানালে ভুলের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরীক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলেন, তারা ২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ায় এখন ফলাফল নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

আরেক পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, সারা দেশের শিক্ষার্থীরা এক ধরনের প্রশ্নে পরীক্ষা দিলেও তারা ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন। এতে ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্রসচিব ও অধ্যক্ষ মীর শওকত আলম মীর বলেন, প্রতি বান্ডেলে ২০টি করে প্রশ্নপত্র ছিল। ৪২০২ নম্বর কক্ষের জন্য খোলা পাঁচটি বান্ডেলের মোড়কে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র লেখা থাকলেও ভেতরে ছিল ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র। সিল করা বান্ডেল পরীক্ষা শুরুর আগে খুলে যাচাই করার সুযোগ না থাকায় দায়িত্বরত শিক্ষকরা তা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেন।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই ১০০ শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠানো হবে এবং ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র অনুযায়ী নমনীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এসব প্রশ্নপত্র মূলত অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য ছিল।

কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় এ কেন্দ্রে অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬৯ জন। সব মিলিয়ে এ কেন্দ্রে নয় শতাধিক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।

ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা প্রশ্নপত্র বিতরণে এ ধরনের গুরুতর বিভ্রাটের কারণ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ওপর যাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রশ্নপত্র গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণের প্রতিটি ধাপে আরও কঠোর তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন: যুবকের ৭ দিনের কারাদণ্ড

জামালপুরে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে বিপাকে ১০০ শিক্ষার্থী

আপডেট সময় ১০:১৬:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম:

জামালপুরে এইচএসসি ও সমমানের বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় বড় ধরনের প্রশ্নপত্র বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের একটি কক্ষে ভুলবশত ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে অন্তত ১০০ জন শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন।

শনিবার সকালে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের ৪২০২ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ওই কক্ষের সব পরীক্ষার্থী ছিলেন সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের ২০২৬ সালের নিয়মিত শিক্ষার্থী।

পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা চলাকালে কেউ বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্রে স্পষ্টভাবে ‘২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী’ লেখা দেখতে পেয়ে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানালে ভুলের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরীক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলেন, তারা ২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ায় এখন ফলাফল নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

আরেক পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, সারা দেশের শিক্ষার্থীরা এক ধরনের প্রশ্নে পরীক্ষা দিলেও তারা ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন। এতে ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্রসচিব ও অধ্যক্ষ মীর শওকত আলম মীর বলেন, প্রতি বান্ডেলে ২০টি করে প্রশ্নপত্র ছিল। ৪২০২ নম্বর কক্ষের জন্য খোলা পাঁচটি বান্ডেলের মোড়কে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র লেখা থাকলেও ভেতরে ছিল ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র। সিল করা বান্ডেল পরীক্ষা শুরুর আগে খুলে যাচাই করার সুযোগ না থাকায় দায়িত্বরত শিক্ষকরা তা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেন।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই ১০০ শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠানো হবে এবং ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র অনুযায়ী নমনীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এসব প্রশ্নপত্র মূলত অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য ছিল।

কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় এ কেন্দ্রে অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬৯ জন। সব মিলিয়ে এ কেন্দ্রে নয় শতাধিক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।

ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা প্রশ্নপত্র বিতরণে এ ধরনের গুরুতর বিভ্রাটের কারণ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ওপর যাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রশ্নপত্র গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণের প্রতিটি ধাপে আরও কঠোর তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।