

আবু সায়েম মোহাম্মদ সা'-আদাত উল করীম:
জামালপুরে এইচএসসি ও সমমানের বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় বড় ধরনের প্রশ্নপত্র বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের একটি কক্ষে ভুলবশত ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে অন্তত ১০০ জন শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন।
শনিবার সকালে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের ৪২০২ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ওই কক্ষের সব পরীক্ষার্থী ছিলেন সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের ২০২৬ সালের নিয়মিত শিক্ষার্থী।
পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা চলাকালে কেউ বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্রে স্পষ্টভাবে ‘২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী’ লেখা দেখতে পেয়ে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানালে ভুলের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পরীক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলেন, তারা ২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ায় এখন ফলাফল নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
আরেক পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, সারা দেশের শিক্ষার্থীরা এক ধরনের প্রশ্নে পরীক্ষা দিলেও তারা ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন। এতে ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্রসচিব ও অধ্যক্ষ মীর শওকত আলম মীর বলেন, প্রতি বান্ডেলে ২০টি করে প্রশ্নপত্র ছিল। ৪২০২ নম্বর কক্ষের জন্য খোলা পাঁচটি বান্ডেলের মোড়কে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র লেখা থাকলেও ভেতরে ছিল ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র। সিল করা বান্ডেল পরীক্ষা শুরুর আগে খুলে যাচাই করার সুযোগ না থাকায় দায়িত্বরত শিক্ষকরা তা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেন।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই ১০০ শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠানো হবে এবং ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র অনুযায়ী নমনীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এসব প্রশ্নপত্র মূলত অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য ছিল।
কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় এ কেন্দ্রে অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬৯ জন। সব মিলিয়ে এ কেন্দ্রে নয় শতাধিক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা প্রশ্নপত্র বিতরণে এ ধরনের গুরুতর বিভ্রাটের কারণ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ওপর যাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রশ্নপত্র গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণের প্রতিটি ধাপে আরও কঠোর তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।