ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাদক-জুয়া থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে হবে: এমপি ফয়সল Logo দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বায়োমেট্রিক হাজিরার নির্দেশ Logo মাধবপুরে স্কুলের সামনে মাছের আড়ত, দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা Logo বাহুবলের নিখোঁজ সিএনজি চালক তুহিনের মরদেহ নবীগঞ্জে উদ্ধার Logo হাইমচরে ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবা, কম খরচে পাঠানো যাচ্ছে পার্সেল Logo গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ৭৮ শতাংশ নিটওয়্যার কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত, কমেছে রপ্তানি আদেশ Logo টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন নিগার সুলতানা Logo বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আমারই ছিল: আসিফ নজরুল Logo ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজছে বাংলাদেশ ব্যাংক Logo মাধবপুরে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

দুর্নীতি প্রতিরোধে এবার ইউনিয়ন পর্যায়েও কমিটি গঠন

দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী করতে ইউনিয়ন পর্যায়েও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুপ্রক) কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নতুন অর্থবছর থেকে ইউনিয়ন পর্যায়েও এসব কমিটি গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দুদক ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনের নেতাদের মতে, ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠিত হলে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে। পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা, সামাজিক প্রতিরোধ, সততা, নৈতিকতা ও সুশাসনের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করে নতুন কাঠামো তৈরি করলে উদ্যোগটি আরও সফল হবে।

দুদকের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ইউনিয়ন পর্যায়ের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সাত সদস্যবিশিষ্ট হবে। এতে একজন সভাপতি, প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য এবং অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্য রাখার বিধান রয়েছে। সমাজের সৎ, সচেতন ও স্বেচ্ছাসেবী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে সদস্য নির্বাচন করা হবে।

গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, বিদেশি নাগরিক, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, প্রজাতন্ত্রের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য, আদালতের অপ্রকৃতস্থ ঘোষিত ব্যক্তি, দেউলিয়া, ঋণখেলাপি এবং ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তি এসব কমিটির সদস্য হতে পারবেন না।

দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, দুর্নীতি দমনে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে তৃণমূল জনগণের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি করাই তাদের লক্ষ্য। আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে দুর্নীতি প্রতিরোধ আরও কার্যকর হবে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১৩ সদস্য এবং উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৯ সদস্যের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির উদ্যোগে আলোচনা সভা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, র‌্যালি, মানববন্ধন, সেমিনার, নাটকসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঁচ শতাধিক দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এসব কমিটির উদ্যোগে এক বছরে দেড় হাজারের বেশি আলোচনা সভা, এক হাজারের বেশি বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং শত শত র‌্যালি, মানববন্ধন ও অন্যান্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারলে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কৃষি উপকরণ বিতরণসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি সেবায় অনিয়ম ও দুর্নীতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক-জুয়া থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে হবে: এমপি ফয়সল

error:

দুর্নীতি প্রতিরোধে এবার ইউনিয়ন পর্যায়েও কমিটি গঠন

আপডেট সময় ০২:৩২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী করতে ইউনিয়ন পর্যায়েও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুপ্রক) কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নতুন অর্থবছর থেকে ইউনিয়ন পর্যায়েও এসব কমিটি গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দুদক ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনের নেতাদের মতে, ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠিত হলে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে। পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা, সামাজিক প্রতিরোধ, সততা, নৈতিকতা ও সুশাসনের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করে নতুন কাঠামো তৈরি করলে উদ্যোগটি আরও সফল হবে।

দুদকের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ইউনিয়ন পর্যায়ের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সাত সদস্যবিশিষ্ট হবে। এতে একজন সভাপতি, প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য এবং অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্য রাখার বিধান রয়েছে। সমাজের সৎ, সচেতন ও স্বেচ্ছাসেবী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে সদস্য নির্বাচন করা হবে।

গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, বিদেশি নাগরিক, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, প্রজাতন্ত্রের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য, আদালতের অপ্রকৃতস্থ ঘোষিত ব্যক্তি, দেউলিয়া, ঋণখেলাপি এবং ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তি এসব কমিটির সদস্য হতে পারবেন না।

দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, দুর্নীতি দমনে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে তৃণমূল জনগণের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি করাই তাদের লক্ষ্য। আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে দুর্নীতি প্রতিরোধ আরও কার্যকর হবে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১৩ সদস্য এবং উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৯ সদস্যের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির উদ্যোগে আলোচনা সভা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, র‌্যালি, মানববন্ধন, সেমিনার, নাটকসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঁচ শতাধিক দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এসব কমিটির উদ্যোগে এক বছরে দেড় হাজারের বেশি আলোচনা সভা, এক হাজারের বেশি বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং শত শত র‌্যালি, মানববন্ধন ও অন্যান্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারলে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কৃষি উপকরণ বিতরণসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি সেবায় অনিয়ম ও দুর্নীতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।