ঢাকা ০৪:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আজ কৃষ্ণপুর গণহত্যা দিবস: লাখাইয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন Logo ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ৫ কোটিই পানিতে Logo লাখাইয়ের বুল্লা বাজারে যত্রতত্র ময়লার স্তূপ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি Logo মাধবপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি Logo মাধবপুরে অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার-পাইপ ধ্বংস Logo ঐতিহ্যের টানে মুখর লাখাইয়ের বুল্লা বাজারের শুটকি-শীদলের হাট Logo মশাদিয়ায় খালের ওপর কালভার্ট না থাকায় দুর্ভোগে ১৮ পরিবারসহ শত শত মানুষ Logo জুমার গুরুত্বপূর্ণ আমল Logo যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিল পাস, ১০০ শতাংশ শুল্কের ঝুঁকিতে ভারত Logo পথ বন্ধ করে বাউন্ডারি নির্মাণ, ওসি-চেয়ারম্যানকে ইউএনওর চিঠি

মাধবপুরে এলপিজির দাম কমলেও সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সরকার ১২ কেজি এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের দাম কমালেও হবিগঞ্জের মাধবপুরে সেই সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ২ জুলাই থেকে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫২৮ টাকা। আগের তুলনায় প্রায় ৩০০ টাকা কমানো হলেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো ১ হাজার ৮০০ টাকা বা তারও বেশি দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

মাধবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও পাড়া-মহল্লায় এলপিজি গ্যাস বিক্রি হয়। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অধিকাংশ মানুষ রান্নার কাজে এই গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সরকারি মূল্য কার্যকর হওয়ার পরও আগের দামেই গ্যাস কিনতে বাধ্য হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকির অভাবে ডিলার ও সরবরাহকারী পর্যায়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। ফলে সরকারের নির্ধারিত মূল্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

ধর্মঘর এলাকার বাসিন্দা আমির আলী বলেন, সরকার দাম কমানোর খবর শুনে কয়েকটি দোকানে গেলেও কোথাও ১ হাজার ৮০০ টাকার নিচে সিলিন্ডার পাননি। সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবে কার্যকর না হওয়ায় সাধারণ মানুষ এর সুফল পাচ্ছেন না।

মনতলা এলাকার ব্যবসায়ী সায়েত মিয়া বলেন, দাম কমার ঘোষণায় স্বস্তি এলেও এখনো আগের দামেই গ্যাস কিনতে হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনেকেই মানছেন না।

অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, ডিলারদের কাছ থেকেই তারা আগের দামে গ্যাস সংগ্রহ করছেন। ফলে বাধ্য হয়ে আগের দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতা সোহেল মিয়া বলেন, নতুন দামে এখনো এলপিজি সিলিন্ডার পাননি। ডিলারের কাছ থেকে কম দামে সরবরাহ পেলে তারাও কম দামে বিক্রি করতে পারবেন।

এ বিষয়ে জগদীশপুর এলাকার এলপিজি ডিলার জজ মিয়া বলেন, সরকারি নির্ধারিত দামেই তারা সিলিন্ডার বিক্রি করেছেন। তবে কোনো খুচরা বিক্রেতা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করলে তার দায় ডিলারের নয়।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা হবে, যাতে ভোক্তারা সরকারি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি গ্যাস কিনতে পারেন।

স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের ওপর কঠোর নজরদারি এবং সরকারি মূল্যতালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন নিশ্চিত করা হলে সাধারণ মানুষ নির্ধারিত দামে এলপিজি গ্যাস কিনতে পারবেন।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ কৃষ্ণপুর গণহত্যা দিবস: লাখাইয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

error:

মাধবপুরে এলপিজির দাম কমলেও সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা

আপডেট সময় ০৮:৩১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সরকার ১২ কেজি এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের দাম কমালেও হবিগঞ্জের মাধবপুরে সেই সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ২ জুলাই থেকে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫২৮ টাকা। আগের তুলনায় প্রায় ৩০০ টাকা কমানো হলেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো ১ হাজার ৮০০ টাকা বা তারও বেশি দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

মাধবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও পাড়া-মহল্লায় এলপিজি গ্যাস বিক্রি হয়। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অধিকাংশ মানুষ রান্নার কাজে এই গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সরকারি মূল্য কার্যকর হওয়ার পরও আগের দামেই গ্যাস কিনতে বাধ্য হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকির অভাবে ডিলার ও সরবরাহকারী পর্যায়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। ফলে সরকারের নির্ধারিত মূল্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

ধর্মঘর এলাকার বাসিন্দা আমির আলী বলেন, সরকার দাম কমানোর খবর শুনে কয়েকটি দোকানে গেলেও কোথাও ১ হাজার ৮০০ টাকার নিচে সিলিন্ডার পাননি। সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবে কার্যকর না হওয়ায় সাধারণ মানুষ এর সুফল পাচ্ছেন না।

মনতলা এলাকার ব্যবসায়ী সায়েত মিয়া বলেন, দাম কমার ঘোষণায় স্বস্তি এলেও এখনো আগের দামেই গ্যাস কিনতে হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনেকেই মানছেন না।

অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, ডিলারদের কাছ থেকেই তারা আগের দামে গ্যাস সংগ্রহ করছেন। ফলে বাধ্য হয়ে আগের দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতা সোহেল মিয়া বলেন, নতুন দামে এখনো এলপিজি সিলিন্ডার পাননি। ডিলারের কাছ থেকে কম দামে সরবরাহ পেলে তারাও কম দামে বিক্রি করতে পারবেন।

এ বিষয়ে জগদীশপুর এলাকার এলপিজি ডিলার জজ মিয়া বলেন, সরকারি নির্ধারিত দামেই তারা সিলিন্ডার বিক্রি করেছেন। তবে কোনো খুচরা বিক্রেতা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করলে তার দায় ডিলারের নয়।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা হবে, যাতে ভোক্তারা সরকারি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি গ্যাস কিনতে পারেন।

স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের ওপর কঠোর নজরদারি এবং সরকারি মূল্যতালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন নিশ্চিত করা হলে সাধারণ মানুষ নির্ধারিত দামে এলপিজি গ্যাস কিনতে পারবেন।