ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ৭৮ শতাংশ নিটওয়্যার কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত, কমেছে রপ্তানি আদেশ Logo টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন নিগার সুলতানা Logo বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আমারই ছিল: আসিফ নজরুল Logo ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজছে বাংলাদেশ ব্যাংক Logo মাধবপুরে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড Logo আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেনি বাংলাদেশ: তদন্ত কমিটি Logo সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা Logo সাত বছর পর কারাগার থেকে মুক্ত, প্রথমবার মুক্ত আকাশ দেখল শিশুটি Logo একটি নয়, তারেক রহমানকে দুই সফরের আমন্ত্রণ: দাবি নয়াদিল্লির Logo কূটনীতিকদের পরিচয়ে প্রতারণা, সতর্কবার্তা দিল ঢাকার মার্কিন দূতাবাস

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ৭৮ শতাংশ নিটওয়্যার কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত, কমেছে রপ্তানি আদেশ

দেশের নিটওয়্যার পোশাক খাতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) এক জরিপে দেখা গেছে, সংগঠনটির সক্রিয় সদস্য কারখানার প্রায় ৭৮ শতাংশে উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ বা ব্যাহত হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৫৫ শতাংশ কারখানায় রপ্তানি ক্রয়াদেশ বাতিল কিংবা কমে গেছে।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানিয়েছেন, সংগঠনটির সক্রিয় সদস্য কারখানার প্রায় ২০ শতাংশের তথ্য নিয়ে নির্ধারিত মানদণ্ডে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। জরিপে নিটওয়্যার উৎপাদনে জ্বালানি সংকটের বড় ধরনের প্রভাবের চিত্র উঠে এসেছে।

জরিপ অনুযায়ী, গ্যাসের চাপসংক্রান্ত তথ্য দেওয়া কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহে গড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের তথ্য দেওয়া কারখানাগুলোতে আগের তুলনায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় গড়ে প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।

এর ফলে নিটিং উৎপাদন গড়ে ৩৭ থেকে ৩৮ শতাংশ কমেছে। ডায়িংয়ে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৫১ শতাংশ এবং গার্মেন্টস সেলাইয়ের উৎপাদন কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। প্রায় ৭ শতাংশ কারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্যও জরিপে উঠে এসেছে।

জ্বালানি সংকট সামাল দিতে গিয়ে বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়েছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানাকে বিকল্প জ্বালানির অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়েছে। একই হারে কারখানায় শ্রমঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। প্রায় ৮৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ক্রেতার আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে এবং ৮৭ শতাংশ কারখানায় পণ্য পাঠাতে বিলম্ব হয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় ৬০ শতাংশ কারখানাকে ক্রেতাদের মূল্যছাড় দিতে হয়েছে। প্রায় ৫৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ব্যাংক ঋণ খেলাপির ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। বিকেএমইএর সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, প্রায় সব উত্তরদাতাই গ্যাস ও বিদ্যুৎ—দুই ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন।

তবে জ্বালানি সংকটের কারণে রপ্তানি ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে—এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পোশাক কারখানাগুলো তাদের উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে।

তিনি বলেন, উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়ায় কারখানাগুলোকে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ব্যয় করতে হচ্ছে। অনেক ক্রয়াদেশের শিপমেন্ট পিছিয়ে যাচ্ছে এবং কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে বাড়তি ব্যয়ে আকাশপথে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে—এমন তথ্য তাদের হাতে নেই এবং বিষয়টি নিয়ে তারা জরিপ করছেন।

বিজিএমইএ সভাপতি আরও জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের বৈঠকের পর গ্যাস পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। চট্টগ্রামে সরবরাহে কিছু পরিবর্তন এলেও ঢাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আপস্ট্রিম থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর পর তা পুরো ঢাকায় পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় প্রয়োজন হয়।

এদিকে পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান স্প্যারো গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম জানিয়েছেন, বাস্তবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের উল্লেখযোগ্য উন্নতি এখনো তারা দেখতে পাচ্ছেন না। তার কারখানায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সংকট সমাধানে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আশ্বাস পাওয়া গেলেও বাস্তব পরিস্থিতির উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, সার্বিকভাবে পোশাক খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে কম্পোজিট ইউনিটগুলো গ্যাসের ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের সংকট আরও তীব্র। গার্মেন্টস কারখানাগুলো বিদ্যুতের ওপর বেশি নির্ভরশীল হলেও ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করেও অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু জ্বালানি সংকট নয়, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়াও উৎপাদন কমার অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও টাম্পাকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফিউস সামি আলমগীরও শিল্পকারখানায় জ্বালানি সংকটের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরেছেন। তার মতে, অনেক কারখানায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে জেনারেটর বা বার্নার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ডিজেল ব্যবহার করে উৎপাদন চালাতে হচ্ছে, এতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ মনে করেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কেবল নিটওয়্যার বা পোশাক খাতের সমস্যা নয়। দেশের ছোট, মাঝারি ও বড় শিল্পের পাশাপাশি গৃহস্থালির কার্যক্রমও জ্বালানি সরবরাহের ব্যাঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। শিল্পের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী সরবরাহ সক্ষমতা বাড়াতে হবে। গ্যাস সীমিত সম্পদ হওয়ায় দেশের নিজস্ব উৎসের পাশাপাশি আমদানির ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকা জরুরি।

সার্বিকভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট পোশাক শিল্পের উৎপাদন, কর্মঘণ্টা, উৎপাদন ব্যয় ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করেছে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত পরিস্থিতির বাস্তব উন্নতি এবং শিল্পের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ৭৮ শতাংশ নিটওয়্যার কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত, কমেছে রপ্তানি আদেশ

error:

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ৭৮ শতাংশ নিটওয়্যার কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত, কমেছে রপ্তানি আদেশ

আপডেট সময় ১১:৫৯:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের নিটওয়্যার পোশাক খাতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) এক জরিপে দেখা গেছে, সংগঠনটির সক্রিয় সদস্য কারখানার প্রায় ৭৮ শতাংশে উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ বা ব্যাহত হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৫৫ শতাংশ কারখানায় রপ্তানি ক্রয়াদেশ বাতিল কিংবা কমে গেছে।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানিয়েছেন, সংগঠনটির সক্রিয় সদস্য কারখানার প্রায় ২০ শতাংশের তথ্য নিয়ে নির্ধারিত মানদণ্ডে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। জরিপে নিটওয়্যার উৎপাদনে জ্বালানি সংকটের বড় ধরনের প্রভাবের চিত্র উঠে এসেছে।

জরিপ অনুযায়ী, গ্যাসের চাপসংক্রান্ত তথ্য দেওয়া কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহে গড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের তথ্য দেওয়া কারখানাগুলোতে আগের তুলনায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় গড়ে প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।

এর ফলে নিটিং উৎপাদন গড়ে ৩৭ থেকে ৩৮ শতাংশ কমেছে। ডায়িংয়ে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৫১ শতাংশ এবং গার্মেন্টস সেলাইয়ের উৎপাদন কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। প্রায় ৭ শতাংশ কারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্যও জরিপে উঠে এসেছে।

জ্বালানি সংকট সামাল দিতে গিয়ে বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়েছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানাকে বিকল্প জ্বালানির অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়েছে। একই হারে কারখানায় শ্রমঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। প্রায় ৮৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ক্রেতার আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে এবং ৮৭ শতাংশ কারখানায় পণ্য পাঠাতে বিলম্ব হয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় ৬০ শতাংশ কারখানাকে ক্রেতাদের মূল্যছাড় দিতে হয়েছে। প্রায় ৫৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ব্যাংক ঋণ খেলাপির ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। বিকেএমইএর সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, প্রায় সব উত্তরদাতাই গ্যাস ও বিদ্যুৎ—দুই ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন।

তবে জ্বালানি সংকটের কারণে রপ্তানি ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে—এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পোশাক কারখানাগুলো তাদের উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে।

তিনি বলেন, উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়ায় কারখানাগুলোকে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ব্যয় করতে হচ্ছে। অনেক ক্রয়াদেশের শিপমেন্ট পিছিয়ে যাচ্ছে এবং কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে বাড়তি ব্যয়ে আকাশপথে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে—এমন তথ্য তাদের হাতে নেই এবং বিষয়টি নিয়ে তারা জরিপ করছেন।

বিজিএমইএ সভাপতি আরও জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের বৈঠকের পর গ্যাস পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। চট্টগ্রামে সরবরাহে কিছু পরিবর্তন এলেও ঢাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আপস্ট্রিম থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর পর তা পুরো ঢাকায় পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় প্রয়োজন হয়।

এদিকে পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান স্প্যারো গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম জানিয়েছেন, বাস্তবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের উল্লেখযোগ্য উন্নতি এখনো তারা দেখতে পাচ্ছেন না। তার কারখানায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সংকট সমাধানে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আশ্বাস পাওয়া গেলেও বাস্তব পরিস্থিতির উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, সার্বিকভাবে পোশাক খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে কম্পোজিট ইউনিটগুলো গ্যাসের ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের সংকট আরও তীব্র। গার্মেন্টস কারখানাগুলো বিদ্যুতের ওপর বেশি নির্ভরশীল হলেও ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করেও অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু জ্বালানি সংকট নয়, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়াও উৎপাদন কমার অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও টাম্পাকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফিউস সামি আলমগীরও শিল্পকারখানায় জ্বালানি সংকটের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরেছেন। তার মতে, অনেক কারখানায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে জেনারেটর বা বার্নার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ডিজেল ব্যবহার করে উৎপাদন চালাতে হচ্ছে, এতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ মনে করেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কেবল নিটওয়্যার বা পোশাক খাতের সমস্যা নয়। দেশের ছোট, মাঝারি ও বড় শিল্পের পাশাপাশি গৃহস্থালির কার্যক্রমও জ্বালানি সরবরাহের ব্যাঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। শিল্পের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী সরবরাহ সক্ষমতা বাড়াতে হবে। গ্যাস সীমিত সম্পদ হওয়ায় দেশের নিজস্ব উৎসের পাশাপাশি আমদানির ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকা জরুরি।

সার্বিকভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট পোশাক শিল্পের উৎপাদন, কর্মঘণ্টা, উৎপাদন ব্যয় ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করেছে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত পরিস্থিতির বাস্তব উন্নতি এবং শিল্পের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন।