
জালাল উদ্দীন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার:
হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভার কাটিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে দীর্ঘদিন ধরে চলছে মাছের পাইকারি আড়ত। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাছ কেনাবেচা, পরিবহন ও ভিড়ের কারণে বিদ্যালয় এলাকায় তৈরি হচ্ছে দুর্গন্ধ, শব্দদূষণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ও পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সামনে বসা এসব পাইকারি আড়তে নাসিরনগর ও লাখাই উপজেলার হাওরাঞ্চল থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আসে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এসব মাছ কিনে নেন। পরে ভৈরব, সিলেট, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাছের চালান পাঠানো হয়।
মাছের আড়তকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে ব্যবসায়ী, ক্রেতা, মাছবাহী যানবাহন ও শ্রমিকদের আনাগোনা থাকে। এতে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া এবং পাঠদানের পরিবেশও বিঘ্নিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি সুকোমল দাস বলেন, স্থায়ী মাছের আড়ত তৈরির জন্য জায়গা বরাদ্দ চেয়ে পৌরসভায় একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। জায়গার ব্যবস্থা করা হলে তারা আগেই বর্তমান স্থান থেকে সরে যেতেন।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চন্দ্র দাস বলেন, বিদ্যালয়ের সামনে থেকে মাছের আড়ত সরানোর দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আড়ত সরানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাছের পচা দুর্গন্ধে বিদ্যালয়ে পাঠদান ও আশপাশের এলাকায় বসবাস কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, মাছের আড়ত বসার কারণে বাজারে আসা লোকজন বিদ্যালয়ের ভেতর প্রস্রাব-পায়খানা করায় পরিবেশ আরও দূষিত হচ্ছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা না করায় ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে বর্তমান স্থানেই ব্যবসা করছেন।
কাটিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিফাত আরা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের সামনে সড়কের ওপর মাছের আড়ত থাকায় প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শব্দদূষণ ও অস্বস্তিকর পরিবেশের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও পড়াশোনা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাধবপুর বাজার বিদ্যালয়টির ক্যাচমেন্ট এলাকার মধ্যে পড়ে। এ এলাকায় বিদ্যালয়ে ভর্তি উপযোগী অনেক শিশু থাকলেও মাছের আড়তের নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের এ বিদ্যালয়ে ভর্তি না করিয়ে অন্যত্র ভর্তি করাচ্ছেন। মাছের আড়ত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কবির হোসেন বলেন, উপজেলা সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে অতীতেও কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এর কোনো সুরাহা হয়নি।
মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান বলেন, বিদ্যালয়ের সামনে মাছের আড়ত থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার জন্যই এটি অস্বস্তিকর। বিশেষ করে শিশুদের দীর্ঘসময় এমন পরিবেশে অবস্থান করতে হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি মাছের বর্জ্য ও অপরিচ্ছন্নতার কারণে মশা-মাছির মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাও রয়েছে।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা দেখা হবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 




















