ঢাকা ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ Logo বাহুবলে আবারও পুলিশের বাধায় এনসিপি Logo পুলিশকে হাসনাত: ‘দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন না’ Logo সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার Logo চট্টগ্রামে এনসিপির কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধা, হাতাহাতি Logo চা বাগানে এমপির প্রচেষ্টায় নতুন ঘর পেল আদিবাসী পরিবার Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য আনারস পাঠালেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী Logo এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি Logo নাসীর-সারজিসের ওপর হামলার প্রতিবাদে হবিগঞ্জ আসছেন নাহিদ-হাসনাত-আখতার

মাধবপুরে ফসলি জমি কেটে সাবাড় করছে অসাধু চক্র, নির্বিকার প্রশাসন।

মাধবপুর (প্রতিনিধি) হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রির ভয়াবহ দৌরাত্ম্য চলছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে এক্সক্যাভেটর দিয়ে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে তা ইটভাটা ও জমি ভরাটের কাজে সরবরাহ করছে প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ী চক্র। প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় এ অবৈধ মাটি বাণিজ্য দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, এ উপজেলার অধিকাংশ জমি তিন ফসলি। ধান, সবজি ও নানা ফসল উৎপাদিত হলেও প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ জমির মাটি কেটে নেওয়ায় আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। প্রলোভন দেখিয়ে দরিদ্র কৃষকদের কাছ থেকে জমির মাটি কিনে নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। অনেক কৃষকও সাময়িক নগদ অর্থের আশায় জমির উর্বর মাটি বিক্রি করছেন। ফলে জমি ৮-১০ ফুট গভীর হয়ে পুকুর বা ডোবায় পরিণত হচ্ছে।

রবিবার (৫ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ধর্মঘর, চৌমুহনী, বহরা, আদাঐর, বুল্লা, বাঘাসুরাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে রাতভর এক্সক্যাভেটর দিয়ে জমির মাটি কেটে ট্রাক্টর-ট্রলিতে করে ইটভাটায় পাচার হচ্ছে। এতে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রামীণ সড়ক ভেঙে যাচ্ছে, জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এই ব্যবসা চলছে, প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।

চৌমুহনীর বিভিন্ন স্থানে সোনাই নদীর পাড় কেটে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। এর ফলে হুমকির মুখে পড়েছে তিন ফসলি জমি, আঞ্চলিক সড়ক, সেতু ও পরিবেশ।

কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূর মুহাম্মদ জানান, অভিযোগ পেলেই অভিযান চালানো হয়। তবে স্থানীয় কৃষকরা স্বীকার করেছেন, শুষ্ক মৌসুমে ধানিজমির মাটি বিক্রি বেশি হচ্ছে। এক মাটি ব্যবসায়ী দাবি করেন, “আমরা জোর করে কাটছি না, কৃষকরাই বিক্রি করছে।”

মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার বলেন, জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ায় পুষ্টি উপাদান কমে গিয়ে ফসল উৎপাদন বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে পড়ছে। কৃষকদের মাটি বিক্রি না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাশেম জানান, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

বাংলার খবর
জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা

error:

মাধবপুরে ফসলি জমি কেটে সাবাড় করছে অসাধু চক্র, নির্বিকার প্রশাসন।

আপডেট সময় ০৫:৪২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৫

মাধবপুর (প্রতিনিধি) হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রির ভয়াবহ দৌরাত্ম্য চলছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে এক্সক্যাভেটর দিয়ে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে তা ইটভাটা ও জমি ভরাটের কাজে সরবরাহ করছে প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ী চক্র। প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় এ অবৈধ মাটি বাণিজ্য দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, এ উপজেলার অধিকাংশ জমি তিন ফসলি। ধান, সবজি ও নানা ফসল উৎপাদিত হলেও প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ জমির মাটি কেটে নেওয়ায় আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। প্রলোভন দেখিয়ে দরিদ্র কৃষকদের কাছ থেকে জমির মাটি কিনে নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। অনেক কৃষকও সাময়িক নগদ অর্থের আশায় জমির উর্বর মাটি বিক্রি করছেন। ফলে জমি ৮-১০ ফুট গভীর হয়ে পুকুর বা ডোবায় পরিণত হচ্ছে।

রবিবার (৫ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ধর্মঘর, চৌমুহনী, বহরা, আদাঐর, বুল্লা, বাঘাসুরাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে রাতভর এক্সক্যাভেটর দিয়ে জমির মাটি কেটে ট্রাক্টর-ট্রলিতে করে ইটভাটায় পাচার হচ্ছে। এতে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রামীণ সড়ক ভেঙে যাচ্ছে, জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এই ব্যবসা চলছে, প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।

চৌমুহনীর বিভিন্ন স্থানে সোনাই নদীর পাড় কেটে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। এর ফলে হুমকির মুখে পড়েছে তিন ফসলি জমি, আঞ্চলিক সড়ক, সেতু ও পরিবেশ।

কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূর মুহাম্মদ জানান, অভিযোগ পেলেই অভিযান চালানো হয়। তবে স্থানীয় কৃষকরা স্বীকার করেছেন, শুষ্ক মৌসুমে ধানিজমির মাটি বিক্রি বেশি হচ্ছে। এক মাটি ব্যবসায়ী দাবি করেন, “আমরা জোর করে কাটছি না, কৃষকরাই বিক্রি করছে।”

মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার বলেন, জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ায় পুষ্টি উপাদান কমে গিয়ে ফসল উৎপাদন বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে পড়ছে। কৃষকদের মাটি বিক্রি না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাশেম জানান, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।