ঢাকা ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ Logo মাধবপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দিনব্যাপী অভিযান, ড্রেজার-বেকো-পাইপ ধ্বংস Logo মাধবপুরের কৃষকপুত্র আশেক মিয়ার বিসিএস জয়, শিক্ষা ক্যাডারে গেজেটভুক্ত Logo মাদক সেবনে বাবা-মাকে মারধর, যুবকের ৬ মাসের জেল Logo মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসারদের আবাসনে চরম দুর্ভোগ, তিন মাসেও মেলেনি ফ্যান Logo মাধবপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান Logo মাধবপুরের আব্দুল কাইয়ুমের ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সাফল্য Logo হবিগঞ্জে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে ৮১৫ কোটি টাকার প্রকল্প: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo সার ডিলার নিয়োগের তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে, চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ হয়নি Logo নাসিরনগরে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

রাবার উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার পথে শাহজিবাজার রাবার বাগান

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিহবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত শাহজীবাজার রাবার বাগান দীর্ঘদিন লোকসান কাটিয়ে অবশেষে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। নতুন চারায় আচ্ছাদিত সবুজ বাগান যেন নবজীবনের বার্তা বহন করছে।

বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ১৯৮০ সালে প্রায় ২ হাজার ১০৪ একর পাহাড়ি জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় এই বাগান। পর্যায়ক্রমে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার গাছ রোপণ করা হয়। ১৯৯০ সাল থেকে এসব গাছ থেকে রাবার উৎপাদন শুরু হয়। তবে ২০১৫ সালের পর থেকে বেশিরভাগ গাছের উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাওয়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায় এবং বাগান লোকসানে পড়ে।

শাহজীবাজার রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক নন্দী গোপাল রায় জানান, বহু গাছ জীবনচক্র হারানোয় উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছিল। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৬০ একর জমিতে নতুন গাছ লাগানো হয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যেই এসব চারা গাছ থেকে নতুন রাবার উৎপাদন শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৭০ মেট্রিক টন রাবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আমরা ৪২৯.৯৪ মেট্রিক টন উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৯৫ মেট্রিক টনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যেই ৩৭৬.২২ মেট্রিক টন উৎপাদন সম্পন্ন হয়েছে।” তার ভাষ্যমতে, এই ধারাবাহিকতাই প্রমাণ করছে যে শাহজীবাজার রাবার বাগান নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে এই বাগানে প্রায় ২৫৭ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করছেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, দায়িত্বশীলতা এবং একাগ্র প্রচেষ্টায় বাগানটি আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। ব্যবস্থাপকের সঠিক দিকনির্দেশনা কর্মীদের ঐকান্তিক সহযোগিতায় লোকসান কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশের রাবার শিল্পে আরও বড় অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ব্যবস্থাপক নন্দী গোপাল রায় দৃঢ় কণ্ঠে জানান, “আমরা চাই শাহজীবাজার রাবার বাগান শুধু লোকসান কাটিয়েই নয়, আগামীতে দেশের অর্থনীতিতে রাবার শিল্পের একটি শক্তিশালী অবলম্বন হয়ে উঠুক।”

আরও জানা যায়, সরকার রাবার উৎপাদন বাড়াতে ক্লোন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকার কাছে ক্লোনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। একটি দেশ আবেদনে সাড়া দিয়েছে। একই সঙ্গে রাবার শিল্প থেকে বৈচিত্র্যমুখী বনজ শিল্পের প্রসার ঘটাতেও মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার।

লাখাইয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

error:

রাবার উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার পথে শাহজিবাজার রাবার বাগান

আপডেট সময় ১২:২২:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিহবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত শাহজীবাজার রাবার বাগান দীর্ঘদিন লোকসান কাটিয়ে অবশেষে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। নতুন চারায় আচ্ছাদিত সবুজ বাগান যেন নবজীবনের বার্তা বহন করছে।

বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ১৯৮০ সালে প্রায় ২ হাজার ১০৪ একর পাহাড়ি জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় এই বাগান। পর্যায়ক্রমে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার গাছ রোপণ করা হয়। ১৯৯০ সাল থেকে এসব গাছ থেকে রাবার উৎপাদন শুরু হয়। তবে ২০১৫ সালের পর থেকে বেশিরভাগ গাছের উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাওয়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায় এবং বাগান লোকসানে পড়ে।

শাহজীবাজার রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক নন্দী গোপাল রায় জানান, বহু গাছ জীবনচক্র হারানোয় উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছিল। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৬০ একর জমিতে নতুন গাছ লাগানো হয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যেই এসব চারা গাছ থেকে নতুন রাবার উৎপাদন শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৭০ মেট্রিক টন রাবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আমরা ৪২৯.৯৪ মেট্রিক টন উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৯৫ মেট্রিক টনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যেই ৩৭৬.২২ মেট্রিক টন উৎপাদন সম্পন্ন হয়েছে।” তার ভাষ্যমতে, এই ধারাবাহিকতাই প্রমাণ করছে যে শাহজীবাজার রাবার বাগান নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে এই বাগানে প্রায় ২৫৭ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করছেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, দায়িত্বশীলতা এবং একাগ্র প্রচেষ্টায় বাগানটি আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। ব্যবস্থাপকের সঠিক দিকনির্দেশনা কর্মীদের ঐকান্তিক সহযোগিতায় লোকসান কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশের রাবার শিল্পে আরও বড় অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ব্যবস্থাপক নন্দী গোপাল রায় দৃঢ় কণ্ঠে জানান, “আমরা চাই শাহজীবাজার রাবার বাগান শুধু লোকসান কাটিয়েই নয়, আগামীতে দেশের অর্থনীতিতে রাবার শিল্পের একটি শক্তিশালী অবলম্বন হয়ে উঠুক।”

আরও জানা যায়, সরকার রাবার উৎপাদন বাড়াতে ক্লোন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকার কাছে ক্লোনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। একটি দেশ আবেদনে সাড়া দিয়েছে। একই সঙ্গে রাবার শিল্প থেকে বৈচিত্র্যমুখী বনজ শিল্পের প্রসার ঘটাতেও মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার।