ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস, ক্ষমতার দাপট দেখালে রেহাই নেই: এমপি ফয়সল Logo সাংবাদিকদের কল্যাণে নানান উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: বাছির জামাল Logo মহাসড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগে বাছির মিয়া আটক Logo মানবিক কাজে এগিয়ে সিমি কিবরিয়া, বদলে যাচ্ছে জনপদের চিত্র Logo সৌদি আরবে ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা, দেশে ঈদ কবে? Logo ‘সাকিব যেকোনো সময় চলে আসতে পারে’ Logo অন্যায় করলে ছাড় নেই, মিথ্যা মামলায় হয়রানি নয় — মাধবপুরে এমপি সৈয়দ মোঃ ফয়সল Logo প্রেমিকের সহায়তায় শাশুড়িকে হত্যা, আদালতে দায় স্বীকার গৃহবধূর Logo মাধবপুরে নেশাগ্রস্ত ছেলের অত্যাচারে পিতা বাড়িছাড়া, ইউএনওর কাছে অভিযোগ Logo বামৈ গ্রামে সীমানা বিরোধের জেরে বৃদ্ধার মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

কোটা আন্দোলনের নিউজ করায় গ্রেপ্তার হন সাংবাদিক, সঙ্গে ছিল ৫ বছরের শিশু

বাংলার খবর প্রতিনিধি, শেরপুর:
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংবাদ প্রকাশ করায় শেরপুরের সাংবাদিক মো. আবু হানিফকে তার ৫ বছরের শিশু সন্তানসহ গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই, যা স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

জাতীয় দৈনিক ‘দিনকাল’ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ছিলেন সাংবাদিক আবু হানিফ। জানা যায়, ১৩, ১৭ ও ২০ জুলাই তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের খবর সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন। ২০ জুলাইয়ের ঘটনার পর পুলিশ ২১ তারিখ একটি বিস্ফোরক মামলায় তাকে ২ নম্বর আসামি করে।

২৩ জুলাই বিকেলে শহরের কলেজ মোড় থেকে পুলিশ তাকে এবং তার সঙ্গে থাকা ৫ বছরের ছেলে আয়াতকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে। এসময় এসআই কামরুল ও এসআই ওয়াদুদের নেতৃত্বে পুলিশ তাকে ঘিরে ফেলে। আবু হানিফ জানান, তিনি বিরিয়ানি আনতে বের হয়েছিলেন; কারফিউর কারণে দোকান বন্ধ ছিল। ফেরার পথে পুলিশ তার পথ আটকায়।

আবু হানিফ আরও বলেন, “আমি আগেও সরকারের নানা দুর্নীতি ও ভোট ডাকাতি নিয়ে লেখালেখি করেছি। কোটা আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষেও লিখেছিলাম। অথচ কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই আমাকে আটক করে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “পুলিশ বলে আমি বিএনপি নেতা। আমি বলি আমি সাংবাদিক। তখন আমার শিশুসন্তান ভয়ে কান্না শুরু করে। আমি অনুরোধ করি ছেলের সামনে গালাগালি না করতে। কিন্তু পুলিশ গায়ে পড়ে আমার ছেলেসহ আমাকে থানায় নিয়ে যায়।”

পরে তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্ত ওসি তাকে বলেন, “আমি জানি আপনি ভালো মানুষ। আইনের সব সুযোগ ব্যবহার করে আপনাকে মুক্ত করব।”

পরদিন ২৪ জুলাই তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর ছাত্রজনতার আন্দোলনে তিনি মুক্তি পান।

সাংবাদিক মহলে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস, ক্ষমতার দাপট দেখালে রেহাই নেই: এমপি ফয়সল

error:

কোটা আন্দোলনের নিউজ করায় গ্রেপ্তার হন সাংবাদিক, সঙ্গে ছিল ৫ বছরের শিশু

আপডেট সময় ০৩:৫৯:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

বাংলার খবর প্রতিনিধি, শেরপুর:
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংবাদ প্রকাশ করায় শেরপুরের সাংবাদিক মো. আবু হানিফকে তার ৫ বছরের শিশু সন্তানসহ গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই, যা স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

জাতীয় দৈনিক ‘দিনকাল’ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ছিলেন সাংবাদিক আবু হানিফ। জানা যায়, ১৩, ১৭ ও ২০ জুলাই তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের খবর সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন। ২০ জুলাইয়ের ঘটনার পর পুলিশ ২১ তারিখ একটি বিস্ফোরক মামলায় তাকে ২ নম্বর আসামি করে।

২৩ জুলাই বিকেলে শহরের কলেজ মোড় থেকে পুলিশ তাকে এবং তার সঙ্গে থাকা ৫ বছরের ছেলে আয়াতকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে। এসময় এসআই কামরুল ও এসআই ওয়াদুদের নেতৃত্বে পুলিশ তাকে ঘিরে ফেলে। আবু হানিফ জানান, তিনি বিরিয়ানি আনতে বের হয়েছিলেন; কারফিউর কারণে দোকান বন্ধ ছিল। ফেরার পথে পুলিশ তার পথ আটকায়।

আবু হানিফ আরও বলেন, “আমি আগেও সরকারের নানা দুর্নীতি ও ভোট ডাকাতি নিয়ে লেখালেখি করেছি। কোটা আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষেও লিখেছিলাম। অথচ কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই আমাকে আটক করে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “পুলিশ বলে আমি বিএনপি নেতা। আমি বলি আমি সাংবাদিক। তখন আমার শিশুসন্তান ভয়ে কান্না শুরু করে। আমি অনুরোধ করি ছেলের সামনে গালাগালি না করতে। কিন্তু পুলিশ গায়ে পড়ে আমার ছেলেসহ আমাকে থানায় নিয়ে যায়।”

পরে তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্ত ওসি তাকে বলেন, “আমি জানি আপনি ভালো মানুষ। আইনের সব সুযোগ ব্যবহার করে আপনাকে মুক্ত করব।”

পরদিন ২৪ জুলাই তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর ছাত্রজনতার আন্দোলনে তিনি মুক্তি পান।

সাংবাদিক মহলে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।