
জালাল উদ্দিন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার:
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করেছেন ছাত্রদল নেতাকর্মী ও নিয়োগবঞ্চিতরা। এ সময় ইউএনও মাহমুদা বেগম সাথীকে লাঞ্ছিত এবং তাঁর কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্থানীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন ছাত্রদল নেতাকর্মী ও নিয়োগপ্রত্যাশীরা। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করেন তারা। এ সময় ইউএনওকে অকথ্য ভাষায় তিরস্কার এবং তাঁর কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছাত্রদল নেতাকর্মীর পাশাপাশি নিয়োগে বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থীও ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোবাশ্বির আহমেদ মজনু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতাকর্মীদের শহীদ মিনারে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। কর্মসূচিতে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ রাসেল মিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ৪ নম্বর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মিয়া ও জনাব আলী কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক এমদাদুল ইসলাম বাবুও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগের জন্য প্রায় ১ হাজার ৬০০ জন আবেদন করেন। মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষে বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
ফল প্রকাশের পর থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। ছাত্রদল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, চূড়ান্ত তালিকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিভিন্ন মামলার আসামি কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সালমান জামান লস্কর ও শাহ শোয়েবসহ কয়েকজনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের দাবি, নিয়োগ তালিকা বাতিল করে পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিয়োগ কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১ হাজার ৬০০ আবেদনকারীর মধ্য থেকে দক্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে নয়টি বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। মেধাক্রমের ভিত্তিতে ১০০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত এবং আরও ৬০ শতাংশ প্রার্থীকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে—মেধার বাইরে জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতের আগে স্থানীয় বিএনপির নীতিনির্ধারকদেরও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল। তালিকায় কোনো মামলার আসামি বা অপরাধী থাকলে তা জানালে যাচাই করে বাদ দেওয়ার সুযোগ ছিল। নিয়োগ নীতিমালায়ও এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহরাব হোসাইন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। নিয়োগকে কেন্দ্র করে হামলা-ভাঙচুর কোনোভাবেই কাম্য নয়। যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সহকারী পুলিশ সুপার প্রবাস রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ইউএনও কার্যালয় থেকে একটি অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
এদিকে ইউএনও মাহমুদা বেগম সাথীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলার খবর ডেস্ক : 

























