ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩ Logo সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার Logo লাখাইয়ে তারেক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েল মিয়া গ্রেপ্তার Logo নাসিরনগরের ফান্দাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক শাহকে ঘিরে আলোচনা Logo হাইমচরে পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে মেম্বার প্রার্থী আবদুর রহমান পাটওয়ারীর উঠান বৈঠক Logo মনতলা কলেজে মাহবুব স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল Logo এলপি গ্যাসের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর দাবি, বৃহস্পতিবার বিইআরসির গণশুনানি Logo লাখাইয়ে কীটনাশক দিয়ে সাড়ে ৪ কানি টমেটো ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক-শ্রমিক Logo পুষ্পমাল্য, সম্মাননা ও উপহারে সজ্জিত গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষক তহুরা বেগম

বর্ষার পানিতে তলিয়ে যায় লাখাইয়ের বটতলা বাজার, স্থানীয়দের কাছে ‘ছয় মাসী বাজার’

পারভেজ হাসান, লাখাই (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

বর্ষা এলেই পানিতে তলিয়ে যায় হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার লাখাই ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বটতলা বাজার। সামান্য পানি বাড়লেই বাজারের দোকানপাট ও সংযোগ সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় ব্যাহত হয় স্বাভাবিক বেচাকেনা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ব্যবসায়ীদের বাজার অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়। এ কারণে স্থানীয়দের কাছে বাজারটি এখন ‘ছয় মাসী বাজার’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, বটতলা বাজারটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এলাকার মানুষ এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বাজারের ভেতরের সংযোগ সড়ক ও আশপাশের নিচু এলাকার কারণে বর্ষা শুরু হলেই বৃষ্টির পানি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে বাজার প্লাবিত হয়।

পানি বাড়তে থাকলে দোকানপাটে বেচাকেনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ব্যবসায়ীদের মালামাল সরিয়ে নিয়ে বাজারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে কোনো উঁচু স্থানে স্থানান্তর করতে হয়। এতে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়কেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর বাজার স্থানান্তরের কারণে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়। নতুন জায়গায় দোকান তৈরি, পণ্য পরিবহন এবং ব্যবসা গুছিয়ে নিতে গিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। পানিতে দোকান ও পণ্যসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

এক ব্যবসায়ী বলেন, বর্ষা এলেই তাদের দুশ্চিন্তা শুরু হয়। দোকান পানিতে ডুবে যাওয়ায় মালামাল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে অন্য জায়গায় দোকান সরাতে গিয়ে বাড়তি অর্থ খরচ করতে হয়, যা ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের চাপ।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বাজারের এই সমস্যার অন্যতম কারণ নিচু সংযোগ সড়ক। সড়কটি প্রয়োজনীয় উচ্চতায় উন্নীত ও টেকসইভাবে সংস্কার করা হলে বর্ষার পানি বাজারে প্রবেশের প্রবণতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

তারা আরও বলেন, সংযোগ সড়কটি উঁচু করা হলে প্রতিবছর বাজার স্থানান্তরের প্রয়োজন হবে না। ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত পরিবহন ও দোকান তৈরির খরচও কমবে। একই সঙ্গে সারা বছর বাজারে স্বাভাবিক বেচাকেনা চালু রাখা সম্ভব হবে।

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে বটতলা বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বর্ষা মৌসুমের আগেই সংযোগ সড়ক উঁচুকরণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান চান তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩

error:

বর্ষার পানিতে তলিয়ে যায় লাখাইয়ের বটতলা বাজার, স্থানীয়দের কাছে ‘ছয় মাসী বাজার’

আপডেট সময় ০১:০১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

পারভেজ হাসান, লাখাই (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

বর্ষা এলেই পানিতে তলিয়ে যায় হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার লাখাই ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বটতলা বাজার। সামান্য পানি বাড়লেই বাজারের দোকানপাট ও সংযোগ সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় ব্যাহত হয় স্বাভাবিক বেচাকেনা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ব্যবসায়ীদের বাজার অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়। এ কারণে স্থানীয়দের কাছে বাজারটি এখন ‘ছয় মাসী বাজার’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, বটতলা বাজারটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এলাকার মানুষ এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বাজারের ভেতরের সংযোগ সড়ক ও আশপাশের নিচু এলাকার কারণে বর্ষা শুরু হলেই বৃষ্টির পানি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে বাজার প্লাবিত হয়।

পানি বাড়তে থাকলে দোকানপাটে বেচাকেনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ব্যবসায়ীদের মালামাল সরিয়ে নিয়ে বাজারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে কোনো উঁচু স্থানে স্থানান্তর করতে হয়। এতে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়কেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর বাজার স্থানান্তরের কারণে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়। নতুন জায়গায় দোকান তৈরি, পণ্য পরিবহন এবং ব্যবসা গুছিয়ে নিতে গিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। পানিতে দোকান ও পণ্যসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

এক ব্যবসায়ী বলেন, বর্ষা এলেই তাদের দুশ্চিন্তা শুরু হয়। দোকান পানিতে ডুবে যাওয়ায় মালামাল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে অন্য জায়গায় দোকান সরাতে গিয়ে বাড়তি অর্থ খরচ করতে হয়, যা ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের চাপ।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বাজারের এই সমস্যার অন্যতম কারণ নিচু সংযোগ সড়ক। সড়কটি প্রয়োজনীয় উচ্চতায় উন্নীত ও টেকসইভাবে সংস্কার করা হলে বর্ষার পানি বাজারে প্রবেশের প্রবণতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

তারা আরও বলেন, সংযোগ সড়কটি উঁচু করা হলে প্রতিবছর বাজার স্থানান্তরের প্রয়োজন হবে না। ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত পরিবহন ও দোকান তৈরির খরচও কমবে। একই সঙ্গে সারা বছর বাজারে স্বাভাবিক বেচাকেনা চালু রাখা সম্ভব হবে।

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে বটতলা বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বর্ষা মৌসুমের আগেই সংযোগ সড়ক উঁচুকরণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান চান তারা।