
জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জন্মতারিখসহ বিভিন্ন তথ্য সংশোধনের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে নতুন পরিপত্র জারি করেছে ইসি সচিবালয়। এর ফলে অনলাইনে যাচাই করা যায় এমন জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাই নিষ্পত্তি করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশনস) মো. সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।
পরিপত্র অনুযায়ী, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ‘ক’ শ্রেণির আবেদন হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব আবেদন সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসার, সিনিয়র জেলা বা জেলা নির্বাচন অফিসার এবং এনআইডি উইংয়ের সহকারী পরিচালক, উপপরিচালক ও পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরাসরি নিষ্পত্তি করতে পারবেন।
শিক্ষা সনদের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য বা দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, কোনো আবেদন ইলেকট্রনিকভাবে অনুমোদন বা বাতিল করার সময় কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (সিএমএস) আবশ্যিকভাবে সংশ্লিষ্ট নোট দিতে হবে।
আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রত্যেক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিষ্পত্তি করা অন্তত তিনটি আবেদন যাচাই করে সঠিকভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদন পরিচালক (অপারেশনস)-এর ইন্টারনাল অ্যাকাউন্টে পাঠাতে হবে।
এ ছাড়া উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন এবং জন্মতারিখের পাশাপাশি নিজের নাম, বাবা ও মায়ের নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তনের আবেদন মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে।
নির্দেশনায় আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, জন্মতারিখ, নিজের নাম এবং বাবা-মায়ের নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একই তথ্যের ঘরে দ্বিতীয়বার সংশোধনের সুযোগ থাকবে না।
নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশনার ফলে এনআইডির তথ্য সংশোধনে মাঠপর্যায়ে আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে যাচাইযোগ্য শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের অপেক্ষার সময় ও ভোগান্তি কমতে পারে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 
























