
শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার জানান, গুলশান থেকে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
এর আগে বুধবার সকালে ঢাকার শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দেন সাবেক এই মন্ত্রী। পরে আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
সেখানে লতিফ সিদ্দিকী জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি ১০ নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছেন।
তিনি আরও জানিয়েছিলেন, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করলে আগামী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটিতে সাবেক মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নাম রয়েছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলার আসামিদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
মামলায় গ্রেপ্তার থাকা আসামিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এম শহিদুল হক, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুসহ কয়েকজন রয়েছেন।
লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 

























