ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আন্দিউড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোত্তাকিম চৌধুরীকে ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ Logo পিকআপে ৫৫ কেজি গাঁজা, মাধবপুরে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ৪ Logo হবিগঞ্জের রঘুনন্দন বনাঞ্চল এলাকায় রাতের আধারে অবাধে বালু উওোলন ও গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ বনদস্যুরা Logo আধুনিকায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে বদলে গেছে লাখাই মুক্তিযোদ্ধা সরকারি ডিগ্রি কলেজ Logo জনগণের পাশে থেকে সেবার প্রত্যয়, ইউপি সদস্য প্রার্থী হিসেবে দোয়া-সহযোগিতা চাইলেন বিএম ফরিদ আহমেদ Logo মন্ত্রীর সঙ্গে এমপি সৈয়দ মো. ফয়সলের একান্ত সাক্ষাৎ, মাধবপুর-চুনারুঘাটের সড়ক-সেতু উন্নয়নের দাবি Logo পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo শুরুটা যেভাবে, আজ সাংবাদিকতায় মেহেরাব Logo হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, নোংরা পরিবেশ দেখে ক্ষোভ Logo মতপ্রকাশে ভয়, অনলাইনে নিজেদের ‘গুটিয়ে নিচ্ছেন’ সাংবাদিকরা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে দুঃখপ্রকাশ হাসনাত আব্দুল্লাহ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে দুঃখপ্রকাশ হাসনাত আব্দুল্লাহ

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো পরিস্থিতি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মতে, এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় আলেম-ওলামাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন এবং এতে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্ট বন্ধ হওয়ার ঘটনাটি গণমাধ্যমে যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, বাস্তব চিত্র তার চেয়ে ভিন্ন। গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিলেন। পরে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

তিনি দাবি করেন, ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করেননি, বরং শুধু শব্দ কমাতে বলেছিলেন। তাই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে এমন ধারণা তৈরি করা সঠিক নয় বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে নৌকাবাইচের স্থান উল্লেখ করতে গিয়ে নিজের তথ্যগত ভুলের কথাও স্বীকার করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, সিলেটের জায়গায় ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলেছিলেন। এ ত্রুটির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন।

তিনি আরও বলেন, সংসদে মূল ঘটনা এবং গণমাধ্যমে ঘটনাটির উপস্থাপন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা উচিত ছিল। তবে সম্পূরক প্রশ্নের সময় সীমিত থাকায় সে সুযোগ তিনি পাননি।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তিনি ও তাঁর দল জুলাইয়ের আদর্শকে ধারণ করেন এবং সেই আদর্শের ভিত্তিতেই নীতি ও সিদ্ধান্ত নিতে চান। তাঁর ভাষ্য, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং কেউ অন্যের মত বা দৃষ্টিভঙ্গি জোর করে চাপিয়ে দিতে পারবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার। এ দেশে মসজিদ, মন্দির, সঙ্গীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা ও সিনেমা উৎসবসহ বিভিন্ন ধর্ম, মত ও সংস্কৃতির মানুষের নিজ নিজ কর্মকাণ্ডের সুযোগ থাকা উচিত। যার যে বিষয় পছন্দ, তিনি সেখানে অংশ নেবেন এবং যার পছন্দ নয়, তিনি সেখানে যাবেন না। সরকারের দায়িত্ব হলো প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্যের ওপর জোর খাটিয়ে নিজেদের মতামত চাপিয়ে দিলে সরকারকে তা প্রতিহত করতে হবে। সরকার যদি এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, জুলাই ছিল ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে একটি সর্বজনীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যেই তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

বাংলার খবর
জনপ্রিয় সংবাদ

আন্দিউড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোত্তাকিম চৌধুরীকে ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ

error:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে দুঃখপ্রকাশ হাসনাত আব্দুল্লাহ

আপডেট সময় ০২:৩১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো পরিস্থিতি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মতে, এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় আলেম-ওলামাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন এবং এতে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্ট বন্ধ হওয়ার ঘটনাটি গণমাধ্যমে যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, বাস্তব চিত্র তার চেয়ে ভিন্ন। গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিলেন। পরে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

তিনি দাবি করেন, ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করেননি, বরং শুধু শব্দ কমাতে বলেছিলেন। তাই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে এমন ধারণা তৈরি করা সঠিক নয় বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে নৌকাবাইচের স্থান উল্লেখ করতে গিয়ে নিজের তথ্যগত ভুলের কথাও স্বীকার করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, সিলেটের জায়গায় ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলেছিলেন। এ ত্রুটির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন।

তিনি আরও বলেন, সংসদে মূল ঘটনা এবং গণমাধ্যমে ঘটনাটির উপস্থাপন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা উচিত ছিল। তবে সম্পূরক প্রশ্নের সময় সীমিত থাকায় সে সুযোগ তিনি পাননি।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তিনি ও তাঁর দল জুলাইয়ের আদর্শকে ধারণ করেন এবং সেই আদর্শের ভিত্তিতেই নীতি ও সিদ্ধান্ত নিতে চান। তাঁর ভাষ্য, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং কেউ অন্যের মত বা দৃষ্টিভঙ্গি জোর করে চাপিয়ে দিতে পারবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার। এ দেশে মসজিদ, মন্দির, সঙ্গীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা ও সিনেমা উৎসবসহ বিভিন্ন ধর্ম, মত ও সংস্কৃতির মানুষের নিজ নিজ কর্মকাণ্ডের সুযোগ থাকা উচিত। যার যে বিষয় পছন্দ, তিনি সেখানে অংশ নেবেন এবং যার পছন্দ নয়, তিনি সেখানে যাবেন না। সরকারের দায়িত্ব হলো প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্যের ওপর জোর খাটিয়ে নিজেদের মতামত চাপিয়ে দিলে সরকারকে তা প্রতিহত করতে হবে। সরকার যদি এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, জুলাই ছিল ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে একটি সর্বজনীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যেই তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।