ঢাকা ১০:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩ Logo সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার Logo লাখাইয়ে তারেক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েল মিয়া গ্রেপ্তার Logo নাসিরনগরের ফান্দাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক শাহকে ঘিরে আলোচনা Logo হাইমচরে পল্টন ট্র্যাজেডি স্মরণে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে মেম্বার প্রার্থী আবদুর রহমান পাটওয়ারীর উঠান বৈঠক Logo মনতলা কলেজে মাহবুব স্যারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল Logo এলপি গ্যাসের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর দাবি, বৃহস্পতিবার বিইআরসির গণশুনানি Logo লাখাইয়ে কীটনাশক দিয়ে সাড়ে ৪ কানি টমেটো ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক-শ্রমিক Logo পুষ্পমাল্য, সম্মাননা ও উপহারে সজ্জিত গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন শিক্ষক তহুরা বেগম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাসের বুকে নৌকা বাইচ, দুই পাড়ে মানুষের ঢল

দীর্ঘ তিন বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে তিতাসের দুই তীরে নেমে আসে মানুষের ঢল। বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের হেইও হাঁক আর প্রতিযোগিতার উত্তেজনায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে নদীপাড়।

দুপুর ২টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। উদ্বোধনের পর থেকেই তিতাসের দুই পাড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, নৌকা বাইচ বাংলার ঐতিহ্যের অংশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাওরাঞ্চল হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে নৌকা বাইচের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, দীর্ঘ তিন বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় তিনি আনন্দিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কটূক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নৌকা বাইচের আয়োজনের মধ্য দিয়ে জেলার মানুষ তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।

দুপুর থেকে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এতে অংশ নেয় ১০টি নৌকা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া মাঝিমাল্লারা একই ধরনের পোশাক পরে সারিবদ্ধভাবে বৈঠা চালিয়ে তিতাসের বুকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মাঝি সর্দারের নির্দেশনায় সমন্বিতভাবে বৈঠা চালানোর দৃশ্য উপভোগ করেন নদীর দুই পাড়ে জড়ো হওয়া বিপুলসংখ্যক দর্শক।

নৌকা বাইচ দেখতে আসা সোহেল ও শামীম আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন পর তিতাস নদীতে আবারও নৌকা বাইচ হওয়ায় তারা আনন্দিত। প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করার দাবি জানান তারা।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া মাঝি আরমান ও বাদল মিয়া বলেন, তারা নিয়মিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নৌকা বাইচে অংশ নেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে তারা আনন্দিত।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ক্ষমতাপুরের শাপলা বয়েজ ক্লাব। দ্বিতীয় হয় সদর উপজেলার মজলিশপুরের জয়নাল আবেদিন ও জিল্লুর রহমানের নৌকা। তৃতীয় স্থান অর্জন করে নবীনগর উপজেলা থেকে অংশ নেওয়া ফইল।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী মাঝিমাল্লাদের হাতে ট্রফি ও মোট সাড়ে ৪ লাখ টাকা পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। প্রথম স্থান অর্জনকারীকে ২ লাখ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে ১ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়।

নৌকা বাইচকে ঘিরে তিতাস নদীর দুই পাড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জেলার ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হলে নতুন প্রজন্মের কাছে নৌকা বাইচের ঐতিহ্য আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩

error:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাসের বুকে নৌকা বাইচ, দুই পাড়ে মানুষের ঢল

আপডেট সময় ০৯:১৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ তিন বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে তিতাসের দুই তীরে নেমে আসে মানুষের ঢল। বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের হেইও হাঁক আর প্রতিযোগিতার উত্তেজনায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে নদীপাড়।

দুপুর ২টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। উদ্বোধনের পর থেকেই তিতাসের দুই পাড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, নৌকা বাইচ বাংলার ঐতিহ্যের অংশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাওরাঞ্চল হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে নৌকা বাইচের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, দীর্ঘ তিন বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় তিনি আনন্দিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কটূক্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নৌকা বাইচের আয়োজনের মধ্য দিয়ে জেলার মানুষ তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।

দুপুর থেকে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এতে অংশ নেয় ১০টি নৌকা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া মাঝিমাল্লারা একই ধরনের পোশাক পরে সারিবদ্ধভাবে বৈঠা চালিয়ে তিতাসের বুকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মাঝি সর্দারের নির্দেশনায় সমন্বিতভাবে বৈঠা চালানোর দৃশ্য উপভোগ করেন নদীর দুই পাড়ে জড়ো হওয়া বিপুলসংখ্যক দর্শক।

নৌকা বাইচ দেখতে আসা সোহেল ও শামীম আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন পর তিতাস নদীতে আবারও নৌকা বাইচ হওয়ায় তারা আনন্দিত। প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করার দাবি জানান তারা।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া মাঝি আরমান ও বাদল মিয়া বলেন, তারা নিয়মিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নৌকা বাইচে অংশ নেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে তারা আনন্দিত।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ক্ষমতাপুরের শাপলা বয়েজ ক্লাব। দ্বিতীয় হয় সদর উপজেলার মজলিশপুরের জয়নাল আবেদিন ও জিল্লুর রহমানের নৌকা। তৃতীয় স্থান অর্জন করে নবীনগর উপজেলা থেকে অংশ নেওয়া ফইল।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী মাঝিমাল্লাদের হাতে ট্রফি ও মোট সাড়ে ৪ লাখ টাকা পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। প্রথম স্থান অর্জনকারীকে ২ লাখ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে ১ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়।

নৌকা বাইচকে ঘিরে তিতাস নদীর দুই পাড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জেলার ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হলে নতুন প্রজন্মের কাছে নৌকা বাইচের ঐতিহ্য আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।