ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুর কাটিয়ারা মাছ বাজারে খুচরা মাছ ব্যবসায়ীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo লাখাইয়ে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হওয়ায় হুইপ জি কে গউছকে ছাত্রদল নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা Logo সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক, আতঙ্কে খাবার ফেলে বেরিয়ে গেলেন পর্যটকরা Logo দুই মাসের শিশুর পা ভাঙার চেষ্টা, গোপন ক্যামেরায় ধরা চাচির নির্যাতন Logo মাধবপুরে বালু উত্তোলনকারীদের হামলায় রাবার বাগানের কর্মকর্তাদের হত্যাচেষ্টার অভিযোগ Logo এমসি কলেজে ধর্ষণ: সাইফুরের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন, ৪ জন খালাস Logo মাধবপুরে কাজিরচক-এতিমপুর সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে হাজারো মানুষ, দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর! Logo বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি Logo হবিগঞ্জে ডিবির অভিযানে ১০৫ বোতল বিদেশি মদ ও মিনি পিকআপ জব্দ, আটক ১ Logo যানজট নিরসনে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার অভিযান, নম্বর প্লেটবিহীন ১৪০ অবৈধ টমটম আটক

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক, আতঙ্কে খাবার ফেলে বেরিয়ে গেলেন পর্যটকরা

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এলাকায় বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানের সময় হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকরা আতঙ্কিত হয়ে খাবার ফেলে বাইরে বেরিয়ে যান। একই সঙ্গে অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সামনে অবস্থিত মোস্তাক হোটেল ও আবুল হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পর্যটকরা দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় বন্যপ্রাণী ও বন সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা একটি এক্সকাভেটর দিয়ে হোটেলের টিনের চাল ভাঙার কাজ শুরু করেন। অভিযানে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল উপস্থিত ছিলেন।
হঠাৎ এক্সকাভেটর দিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই খাবার অসমাপ্ত রেখেই দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পর্যটক বলেন, “আমরা বসে খাবার খাচ্ছিলাম। কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা বা সময় না দিয়েই এভাবে অভিযান চালানো কতটা দায়িত্বশীলতার পরিচয়, সেটিই প্রশ্ন।”
অভিযান চলাকালে পাশের মাসুম বিল্লাহর হোটেলের সামনেও এক্সকাভেটর প্রায় দুই থেকে তিন মিনিট অবস্থান করে। তবে হোটেলটির মালিককে কিছু না বলেই সেটি সেখান থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং ক্ষতিগ্রস্ত মোস্তাক হোটেলের মালিক অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরে এক্সকাভেটর নিয়ে সাতছড়ি ত্রিপুরা পল্লীর হারিছ দেববর্মা ও চিত্তরঞ্জন দেববর্মার মালিকানাধীন নিসর্গ হোটেলে অভিযান চালাতে গেলে ত্রিপুরা পল্লীর নারী-পুরুষ একত্র হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের বাধা দেন। এতে উচ্ছেদ অভিযান সাময়িকভাবে থেমে যায়।
এর আগে একই অভিযানে বন বিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কয়েকটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বনভূমিতে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালিত হলেও এতদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আবার অনেকের মতে, বনভূমি রক্ষায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ প্রয়োজন হলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
তবে অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ এবং পর্যটকদের আতঙ্কিত হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ বা অভিযান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুর কাটিয়ারা মাছ বাজারে খুচরা মাছ ব্যবসায়ীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক, আতঙ্কে খাবার ফেলে বেরিয়ে গেলেন পর্যটকরা

আপডেট সময় ০৯:০৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এলাকায় বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানের সময় হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকরা আতঙ্কিত হয়ে খাবার ফেলে বাইরে বেরিয়ে যান। একই সঙ্গে অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সামনে অবস্থিত মোস্তাক হোটেল ও আবুল হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পর্যটকরা দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় বন্যপ্রাণী ও বন সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা একটি এক্সকাভেটর দিয়ে হোটেলের টিনের চাল ভাঙার কাজ শুরু করেন। অভিযানে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল উপস্থিত ছিলেন।
হঠাৎ এক্সকাভেটর দিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই খাবার অসমাপ্ত রেখেই দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পর্যটক বলেন, “আমরা বসে খাবার খাচ্ছিলাম। কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা বা সময় না দিয়েই এভাবে অভিযান চালানো কতটা দায়িত্বশীলতার পরিচয়, সেটিই প্রশ্ন।”
অভিযান চলাকালে পাশের মাসুম বিল্লাহর হোটেলের সামনেও এক্সকাভেটর প্রায় দুই থেকে তিন মিনিট অবস্থান করে। তবে হোটেলটির মালিককে কিছু না বলেই সেটি সেখান থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং ক্ষতিগ্রস্ত মোস্তাক হোটেলের মালিক অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরে এক্সকাভেটর নিয়ে সাতছড়ি ত্রিপুরা পল্লীর হারিছ দেববর্মা ও চিত্তরঞ্জন দেববর্মার মালিকানাধীন নিসর্গ হোটেলে অভিযান চালাতে গেলে ত্রিপুরা পল্লীর নারী-পুরুষ একত্র হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের বাধা দেন। এতে উচ্ছেদ অভিযান সাময়িকভাবে থেমে যায়।
এর আগে একই অভিযানে বন বিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কয়েকটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বনভূমিতে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালিত হলেও এতদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আবার অনেকের মতে, বনভূমি রক্ষায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ প্রয়োজন হলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
তবে অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ এবং পর্যটকদের আতঙ্কিত হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ বা অভিযান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।