ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা নয় Logo বাহুবলে জিরাবোঝাই ট্রাক আটকে চাঁদা দাবির অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা হেলালসহ আটক ২ Logo মাধবপুরে বন বিভাগের ছড়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ Logo বালির নিচে লুকিয়ে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিকস, মদ ও গাঁজা Logo বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৭তম প্রয়াণ দিবস আজ Logo লাখাইয়ে ৯ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি বিল্লাল গ্রেপ্তার Logo মাধবপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo অসহায় পরিবারের দীর্ঘদিনের পানির সংকট দূর করলেন সমাজসেবক আবিদ আলম Logo খাদ্যশস্যের মজুত বেড়ে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার টন, নিরাপদ সীমা ১৬ লাখ Logo আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে বুল্লা বাজারে কবির খাঁন চৌধুরীর গণসংযোগ

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক, আতঙ্কে খাবার ফেলে বেরিয়ে গেলেন পর্যটকরা

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এলাকায় বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানের সময় হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকরা আতঙ্কিত হয়ে খাবার ফেলে বাইরে বেরিয়ে যান। একই সঙ্গে অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সামনে অবস্থিত মোস্তাক হোটেল ও আবুল হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পর্যটকরা দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় বন্যপ্রাণী ও বন সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা একটি এক্সকাভেটর দিয়ে হোটেলের টিনের চাল ভাঙার কাজ শুরু করেন। অভিযানে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল উপস্থিত ছিলেন।
হঠাৎ এক্সকাভেটর দিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই খাবার অসমাপ্ত রেখেই দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পর্যটক বলেন, “আমরা বসে খাবার খাচ্ছিলাম। কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা বা সময় না দিয়েই এভাবে অভিযান চালানো কতটা দায়িত্বশীলতার পরিচয়, সেটিই প্রশ্ন।”
অভিযান চলাকালে পাশের মাসুম বিল্লাহর হোটেলের সামনেও এক্সকাভেটর প্রায় দুই থেকে তিন মিনিট অবস্থান করে। তবে হোটেলটির মালিককে কিছু না বলেই সেটি সেখান থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং ক্ষতিগ্রস্ত মোস্তাক হোটেলের মালিক অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরে এক্সকাভেটর নিয়ে সাতছড়ি ত্রিপুরা পল্লীর হারিছ দেববর্মা ও চিত্তরঞ্জন দেববর্মার মালিকানাধীন নিসর্গ হোটেলে অভিযান চালাতে গেলে ত্রিপুরা পল্লীর নারী-পুরুষ একত্র হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের বাধা দেন। এতে উচ্ছেদ অভিযান সাময়িকভাবে থেমে যায়।
এর আগে একই অভিযানে বন বিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কয়েকটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বনভূমিতে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালিত হলেও এতদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আবার অনেকের মতে, বনভূমি রক্ষায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ প্রয়োজন হলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
তবে অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ এবং পর্যটকদের আতঙ্কিত হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ বা অভিযান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা নয়

error:

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক, আতঙ্কে খাবার ফেলে বেরিয়ে গেলেন পর্যটকরা

আপডেট সময় ০৯:০৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এলাকায় বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানের সময় হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকরা আতঙ্কিত হয়ে খাবার ফেলে বাইরে বেরিয়ে যান। একই সঙ্গে অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সামনে অবস্থিত মোস্তাক হোটেল ও আবুল হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পর্যটকরা দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় বন্যপ্রাণী ও বন সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা একটি এক্সকাভেটর দিয়ে হোটেলের টিনের চাল ভাঙার কাজ শুরু করেন। অভিযানে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল উপস্থিত ছিলেন।
হঠাৎ এক্সকাভেটর দিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই খাবার অসমাপ্ত রেখেই দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পর্যটক বলেন, “আমরা বসে খাবার খাচ্ছিলাম। কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা বা সময় না দিয়েই এভাবে অভিযান চালানো কতটা দায়িত্বশীলতার পরিচয়, সেটিই প্রশ্ন।”
অভিযান চলাকালে পাশের মাসুম বিল্লাহর হোটেলের সামনেও এক্সকাভেটর প্রায় দুই থেকে তিন মিনিট অবস্থান করে। তবে হোটেলটির মালিককে কিছু না বলেই সেটি সেখান থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং ক্ষতিগ্রস্ত মোস্তাক হোটেলের মালিক অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরে এক্সকাভেটর নিয়ে সাতছড়ি ত্রিপুরা পল্লীর হারিছ দেববর্মা ও চিত্তরঞ্জন দেববর্মার মালিকানাধীন নিসর্গ হোটেলে অভিযান চালাতে গেলে ত্রিপুরা পল্লীর নারী-পুরুষ একত্র হয়ে বন বিভাগের সদস্যদের বাধা দেন। এতে উচ্ছেদ অভিযান সাময়িকভাবে থেমে যায়।
এর আগে একই অভিযানে বন বিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কয়েকটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বনভূমিতে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালিত হলেও এতদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আবার অনেকের মতে, বনভূমি রক্ষায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ প্রয়োজন হলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
তবে অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ এবং পর্যটকদের আতঙ্কিত হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ বা অভিযান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।