ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে ১ম শ্রেণির ৬ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গণধোলাইয়ের পর বখাটে পুলিশে সোপর্দ Logo লাখাইয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে ঢিল ছোড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পিতা-পুত্রসহ আহত একাধিক Logo লাখাইয়ে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা সুচিত্রা রানী দাশের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি Logo ৭২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, মাধবপুরে পুলিশের অভিযান Logo গায়ক আসিফ আকবর গ্রেফতার Logo স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে এমপি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo সীমান্তে অব্যাহত বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, কঠোর অবস্থানে বিজিবি Logo মাধবপুরে সুরমা চা বাগান থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার Logo মাধবপুরে চুরির অভিযোগে যুবকের মাথা ন্যাড়া, আঁকা হলো আর্জেন্টিনার পতাকা Logo চুনারুঘাটে বসতঘর থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

লাখাইয়ে চলন্ত নৌকা থেকে নদীতে ফেলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে নিখোঁজের অভিযোগ, আটক ২

পারভেজ হাসান, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় চলন্ত ইঞ্জিনচালিত ট্রলার থেকে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নদীতে তলিয়ে যাওয়ার পর থেকে ওই যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

লাখাই থানাধীন ৬নং বুল্লা ইউনিয়নের ভরপুর্নী গ্রামস্থ বাজারের পশ্চিম-দক্ষিণে ভলাকান্দি ব্রিজ সংলগ্ন ‘মরা গাং’ নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ যুবকের নাম মো. ফখরুদ্দিন (৩৫)। তিনি ভরপুর্নী নোয়াহাটি গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক ও মৃত মোস্তফা খাতুনের ছেলে। স্থানীয়দের কাছে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুল্লা বাজার থেকে সুজাতপুরগামী একটি যাত্রীবাহী ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে ফখরুদ্দিনসহ অন্যান্য যাত্রী ছিলেন। নৌকাটি ভরপুর্নী এলাকার কাছে পৌঁছালে ফখরুদ্দিন হঠাৎ এক নারী যাত্রীকে জড়িয়ে ধরেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ সময় ওই নারীর চিৎকার শুনে তার স্বামী মো. রাসেল মিয়া ও অপর যাত্রী মো. বোরহান মিয়া এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তারা ফখরুদ্দিনকে নৌকা থেকে নামিয়ে চলন্ত ট্রলার থেকে নদীতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফখরুদ্দিন নদীতে পড়ে যাওয়ার পর নৌকায় থাকা যাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান। তবে তিনি পানির নিচে তলিয়ে গেলে আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা অভিযুক্ত রাসেল ও বোরহানকে আটক করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে লাখাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরীফ আহমেদের নির্দেশনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জনরোষ থেকে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

আটককৃতরা হলেন— মো. রাসেল মিয়া (২২), পিতা: মো. ফারুক মিয়া, গ্রাম: কোকগাঁও, মোরাকরি ইউনিয়ন এবং মো. বোরহান মিয়া (২৬), পিতা: মৃত আমানুল্লাহ, গ্রাম: বুল্লা বাজার, লাখাই।

ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা অভিযান চালিয়েও নিখোঁজ ফখরুদ্দিনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার বর্ধন জানান, পানির নিচে মাছ ধরার জন্য স্থাপিত গাছের ডালপালা ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এরপরও নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ বলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযুক্ত দুই যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে ১ম শ্রেণির ৬ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গণধোলাইয়ের পর বখাটে পুলিশে সোপর্দ

লাখাইয়ে চলন্ত নৌকা থেকে নদীতে ফেলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে নিখোঁজের অভিযোগ, আটক ২

আপডেট সময় ০৯:৩০:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

পারভেজ হাসান, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় চলন্ত ইঞ্জিনচালিত ট্রলার থেকে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নদীতে তলিয়ে যাওয়ার পর থেকে ওই যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

লাখাই থানাধীন ৬নং বুল্লা ইউনিয়নের ভরপুর্নী গ্রামস্থ বাজারের পশ্চিম-দক্ষিণে ভলাকান্দি ব্রিজ সংলগ্ন ‘মরা গাং’ নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ যুবকের নাম মো. ফখরুদ্দিন (৩৫)। তিনি ভরপুর্নী নোয়াহাটি গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক ও মৃত মোস্তফা খাতুনের ছেলে। স্থানীয়দের কাছে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুল্লা বাজার থেকে সুজাতপুরগামী একটি যাত্রীবাহী ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে ফখরুদ্দিনসহ অন্যান্য যাত্রী ছিলেন। নৌকাটি ভরপুর্নী এলাকার কাছে পৌঁছালে ফখরুদ্দিন হঠাৎ এক নারী যাত্রীকে জড়িয়ে ধরেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ সময় ওই নারীর চিৎকার শুনে তার স্বামী মো. রাসেল মিয়া ও অপর যাত্রী মো. বোরহান মিয়া এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তারা ফখরুদ্দিনকে নৌকা থেকে নামিয়ে চলন্ত ট্রলার থেকে নদীতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফখরুদ্দিন নদীতে পড়ে যাওয়ার পর নৌকায় থাকা যাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান। তবে তিনি পানির নিচে তলিয়ে গেলে আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা অভিযুক্ত রাসেল ও বোরহানকে আটক করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে লাখাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরীফ আহমেদের নির্দেশনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জনরোষ থেকে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

আটককৃতরা হলেন— মো. রাসেল মিয়া (২২), পিতা: মো. ফারুক মিয়া, গ্রাম: কোকগাঁও, মোরাকরি ইউনিয়ন এবং মো. বোরহান মিয়া (২৬), পিতা: মৃত আমানুল্লাহ, গ্রাম: বুল্লা বাজার, লাখাই।

ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা অভিযান চালিয়েও নিখোঁজ ফখরুদ্দিনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার বর্ধন জানান, পানির নিচে মাছ ধরার জন্য স্থাপিত গাছের ডালপালা ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এরপরও নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ বলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযুক্ত দুই যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।