ঢাকা ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ১০০ টাকায় গরুর মাংস দিয়ে ভাত বিক্রেতা ‘ভাইরাল মিজান’ গ্রেপ্তার Logo প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতে ইসলামের ৯ দফা দাবি পেশ Logo রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন মির্জা ফখরুল Logo নোয়াপাড়া চা বাগানের সংকট নিরসনে ইউএনওর বৈঠক, সোমবার কাজে ফেরার আশাবাদ Logo মাধবপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৩ ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহত ২ আহত ২৫; ঝুঁকিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক Logo মাধবপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনে অভিযান, ড্রেজার ও পাইপলাইন বিনষ্ট Logo মাধবপুরে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত ২০ Logo সালমান শাহ হত্যা মামলায় অভিনেতা ডন হক গ্রেফতার Logo সিলেটের জৈন্তাপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৮ Logo মাধবপুরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২, আড়াই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

মাধবপুরে অবৈধ বালু মহোৎসব: প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দখলদারিত্বে হুমকিতে পরিবেশ ও কৃষিজমি

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার হরিণখোলা গ্রামে ডরা ছড়া নদীতে চলছে প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে ট্রাক্টরে করে বিক্রি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে মাসে কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে এই অবৈধ বালু ব্যবসায়। প্রতিদিনই নদীর বুক চিরে ড্রেজার মেশিনে বালু তোলা হচ্ছে, যার ফলে নদীর পাড় ভেঙে আশপাশের পৈত্রিক সম্পত্তি ও কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী ট্রাক্টরের চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলোও অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, মোঃ জিয়াউর রহমান (জিয়া) নামের এক ব্যক্তি এই অবৈধ বালু ব্যবসার মূল পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। এ বিষয়ে আঃ মান্নান নামে এক ব্যক্তি মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান জিয়া পূর্ববর্তী সরকারের আমলে প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দালালি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি সম্প্রতি স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীও এ বালু ব্যবসায় ‘শেয়ার নেওয়ার চেষ্টা’ করছেন, যার ফলে প্রশাসনের অভিযান কার্যকর হচ্ছে না।

হরিণখোলা গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
> “ডরা ছড়ার পাড়ে আমার পৈত্রিক জমি ছিল, এখন অর্ধেক নদীর মধ্যে চলে গেছে। ট্রাক্টরের শব্দে রাতে ঘুমানো যায় না, রাস্তাগুলো ভেঙে গেছে।”

এ বিষয়ে মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুল ইসলাম জানান,
> “অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ডরা ছড়া নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে, পাশাপাশি সরকারি রাজস্বেরও বিপুল ক্ষতি হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

১০০ টাকায় গরুর মাংস দিয়ে ভাত বিক্রেতা ‘ভাইরাল মিজান’ গ্রেপ্তার

error:

মাধবপুরে অবৈধ বালু মহোৎসব: প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দখলদারিত্বে হুমকিতে পরিবেশ ও কৃষিজমি

আপডেট সময় ০৭:১১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার হরিণখোলা গ্রামে ডরা ছড়া নদীতে চলছে প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে ট্রাক্টরে করে বিক্রি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে মাসে কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে এই অবৈধ বালু ব্যবসায়। প্রতিদিনই নদীর বুক চিরে ড্রেজার মেশিনে বালু তোলা হচ্ছে, যার ফলে নদীর পাড় ভেঙে আশপাশের পৈত্রিক সম্পত্তি ও কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী ট্রাক্টরের চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলোও অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, মোঃ জিয়াউর রহমান (জিয়া) নামের এক ব্যক্তি এই অবৈধ বালু ব্যবসার মূল পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। এ বিষয়ে আঃ মান্নান নামে এক ব্যক্তি মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান জিয়া পূর্ববর্তী সরকারের আমলে প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দালালি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি সম্প্রতি স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীও এ বালু ব্যবসায় ‘শেয়ার নেওয়ার চেষ্টা’ করছেন, যার ফলে প্রশাসনের অভিযান কার্যকর হচ্ছে না।

হরিণখোলা গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
> “ডরা ছড়ার পাড়ে আমার পৈত্রিক জমি ছিল, এখন অর্ধেক নদীর মধ্যে চলে গেছে। ট্রাক্টরের শব্দে রাতে ঘুমানো যায় না, রাস্তাগুলো ভেঙে গেছে।”

এ বিষয়ে মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুল ইসলাম জানান,
> “অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ডরা ছড়া নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে, পাশাপাশি সরকারি রাজস্বেরও বিপুল ক্ষতি হবে।