ঢাকা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হবিগঞ্জের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন মাইলফলক, এনসিএলে ছয় ক্রিকেটার Logo মাহমুদউল্লাহ, নাসির ও ইমরুলদের নিয়ে বাংলাদেশের শক্তিশালী দল ঘোষণা Logo লাখাইয়ে টমটম চালক আরজান হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন Logo চূড়ান্ত সুপারিশের পরও নিয়োগপত্র পাননি ৩৫১ প্রার্থী Logo শেখ ইমাদ উদ্দিনকে গুণীজন সংবর্ধনা দিল তাহযিবুল উম্মাহ মাদরাসা Logo হাইমচরে চোরাই ব্যাটারি উদ্ধারে গ্রেপ্তার দুই Logo নাসিরনগরে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের অভিযোগে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ Logo নোয়াপাড়ায় মোস্তাফিজুরকে হুইল চেয়ার প্রদান Logo নাসিরনগরে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক Logo হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

মাধবপুরে অবৈধ বালু মহোৎসব: প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দখলদারিত্বে হুমকিতে পরিবেশ ও কৃষিজমি

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার হরিণখোলা গ্রামে ডরা ছড়া নদীতে চলছে প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে ট্রাক্টরে করে বিক্রি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে মাসে কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে এই অবৈধ বালু ব্যবসায়। প্রতিদিনই নদীর বুক চিরে ড্রেজার মেশিনে বালু তোলা হচ্ছে, যার ফলে নদীর পাড় ভেঙে আশপাশের পৈত্রিক সম্পত্তি ও কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী ট্রাক্টরের চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলোও অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, মোঃ জিয়াউর রহমান (জিয়া) নামের এক ব্যক্তি এই অবৈধ বালু ব্যবসার মূল পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। এ বিষয়ে আঃ মান্নান নামে এক ব্যক্তি মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান জিয়া পূর্ববর্তী সরকারের আমলে প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দালালি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি সম্প্রতি স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীও এ বালু ব্যবসায় ‘শেয়ার নেওয়ার চেষ্টা’ করছেন, যার ফলে প্রশাসনের অভিযান কার্যকর হচ্ছে না।

হরিণখোলা গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
> “ডরা ছড়ার পাড়ে আমার পৈত্রিক জমি ছিল, এখন অর্ধেক নদীর মধ্যে চলে গেছে। ট্রাক্টরের শব্দে রাতে ঘুমানো যায় না, রাস্তাগুলো ভেঙে গেছে।”

এ বিষয়ে মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুল ইসলাম জানান,
> “অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ডরা ছড়া নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে, পাশাপাশি সরকারি রাজস্বেরও বিপুল ক্ষতি হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন মাইলফলক, এনসিএলে ছয় ক্রিকেটার

error:

মাধবপুরে অবৈধ বালু মহোৎসব: প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দখলদারিত্বে হুমকিতে পরিবেশ ও কৃষিজমি

আপডেট সময় ০৭:১১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার হরিণখোলা গ্রামে ডরা ছড়া নদীতে চলছে প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে ট্রাক্টরে করে বিক্রি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে মাসে কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে এই অবৈধ বালু ব্যবসায়। প্রতিদিনই নদীর বুক চিরে ড্রেজার মেশিনে বালু তোলা হচ্ছে, যার ফলে নদীর পাড় ভেঙে আশপাশের পৈত্রিক সম্পত্তি ও কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী ট্রাক্টরের চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলোও অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, মোঃ জিয়াউর রহমান (জিয়া) নামের এক ব্যক্তি এই অবৈধ বালু ব্যবসার মূল পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। এ বিষয়ে আঃ মান্নান নামে এক ব্যক্তি মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান জিয়া পূর্ববর্তী সরকারের আমলে প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দালালি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি সম্প্রতি স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীও এ বালু ব্যবসায় ‘শেয়ার নেওয়ার চেষ্টা’ করছেন, যার ফলে প্রশাসনের অভিযান কার্যকর হচ্ছে না।

হরিণখোলা গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
> “ডরা ছড়ার পাড়ে আমার পৈত্রিক জমি ছিল, এখন অর্ধেক নদীর মধ্যে চলে গেছে। ট্রাক্টরের শব্দে রাতে ঘুমানো যায় না, রাস্তাগুলো ভেঙে গেছে।”

এ বিষয়ে মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুল ইসলাম জানান,
> “অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ডরা ছড়া নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে, পাশাপাশি সরকারি রাজস্বেরও বিপুল ক্ষতি হবে।