ঢাকা ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo শিশুদের প্রতি নবীজির স্নেহ: আমাদের অনুকরণীয় Logo নবীগঞ্জে মুফতি আব্দুল কাইয়ুমকে সম্মাননা স্মারক প্রদান Logo লাখাইয়ে ইয়াবা বিক্রিতে বাধা, প্রতিবন্ধী যুবককে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ Logo হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ নির্বাচিত হলেন ইকতিয়ার মিয়া Logo মাধবপুরে চুরির অভিযোগে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীর হামলা, কয়েকটি বাড়ির মালামালে আগুন Logo হাইমচরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসনের উদ্বোধন Logo হাইমচর মহাবিদ্যালয়ে ১০ দিনব্যাপী ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণ Logo ফেসবুকের আয় ও বন্ধুদের সহযোগিতায় অসহায় রাশিদার নতুন ঘর নির্মাণ করলেন শান্ত শাহ Logo লাখাই থানার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন শরীফ আহমেদ Logo দোয়ারাবাজারে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধন

মাধবপুরে পল্লী বিদ্যুতের ভৌতিক বিল, বিপাকে শত শত গ্রাহক

বাংলার খবর ডেস্ক:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের আন্দিউড়া গ্রামে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিলের চাপে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় গ্রাহকরা। চলতি অক্টোবর মাসে অনেকেই আগের চেয়ে দ্বিগুণ থেকে সাত গুণ পর্যন্ত বেশি বিল পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকরা বলছেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কিছু কর্মকর্তার অবহেলা ও অনিয়মের কারণেই এ ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল আসে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে। কিন্তু চলতি মাসে অনেকেরই বিল এসেছে ২,৫০০ থেকে ৪,৬০০ টাকা পর্যন্ত। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাদের আগের মাসের তুলনায় সাত গুণ বেশি বিল ধরানো হয়েছে।

পূর্ব আন্দিউড়া গ্রামের মিনা আক্তার জানান, “আমার বাড়ির বিদ্যুৎ বিল সাধারণত ৭০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে থাকলেও এবার এসেছে ৪,০০০ টাকা। এটা কীভাবে সম্ভব?”

একই গ্রামের আব্দুল হামিদ বলেন, “আগস্টে যা বিল এসেছিল, সেপ্টেম্বরে সেটি সাত গুণ বেড়েছে। অফিসে জানতে গেলে বলা হয়, আগের মাসে নাকি কম বিল করা হয়েছে। আমি একজন খেটে খাওয়া মানুষ, হঠাৎ এত বড় অঙ্কের বিল কীভাবে পরিশোধ করব?”

বাদশা মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন নিয়মিত মিটার না দেখে অনুমান করে বিল তৈরি করে নিয়ে যায়। হঠাৎ এত বড় বিল আমাদের পক্ষে পরিশোধ করা অসম্ভব।”

মিছির মিয়া জানান, “আমাদের বিদ্যুৎ বিল সাধারণত ৬০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে থাকত। কিন্তু এবার এসেছে ৪,৬০০ টাকা। শুধু আমার না, গ্রামের প্রায় ৫০০ পরিবার একই ধরনের বিল পেয়েছে।”

বাজারের মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টরাও জানিয়েছেন, বিল পরিশোধে এসে অনেক গ্রাহক অতিরিক্ত বিল নিয়ে অভিযোগ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য মো. ছাদেক মিয়া বলেন, “আমাদের গ্রামে অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজে নিয়োজিত। এভাবে হঠাৎ করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসায় মানুষজন দুশ্চিন্তায় পড়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত।”

এ বিষয়ে মাধবপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) প্রকৌশলী আবুল হাসান বলেন, “আমাদের এক সুপারভাইজার দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। তিনি গ্রাহকের বাড়িতে না গিয়ে অনুমানভিত্তিক বিল দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “রিডিং অনুযায়ী বিল করা হয়ে থাকে। যদি কেউ মনে করেন বিল অস্বাভাবিক, তাহলে অফিসে লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। মিটারের আগের ও বর্তমান ইউনিট যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুদের প্রতি নবীজির স্নেহ: আমাদের অনুকরণীয়

error:

মাধবপুরে পল্লী বিদ্যুতের ভৌতিক বিল, বিপাকে শত শত গ্রাহক

আপডেট সময় ০৫:০৬:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫

বাংলার খবর ডেস্ক:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের আন্দিউড়া গ্রামে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিলের চাপে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় গ্রাহকরা। চলতি অক্টোবর মাসে অনেকেই আগের চেয়ে দ্বিগুণ থেকে সাত গুণ পর্যন্ত বেশি বিল পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকরা বলছেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কিছু কর্মকর্তার অবহেলা ও অনিয়মের কারণেই এ ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল আসে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে। কিন্তু চলতি মাসে অনেকেরই বিল এসেছে ২,৫০০ থেকে ৪,৬০০ টাকা পর্যন্ত। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাদের আগের মাসের তুলনায় সাত গুণ বেশি বিল ধরানো হয়েছে।

পূর্ব আন্দিউড়া গ্রামের মিনা আক্তার জানান, “আমার বাড়ির বিদ্যুৎ বিল সাধারণত ৭০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে থাকলেও এবার এসেছে ৪,০০০ টাকা। এটা কীভাবে সম্ভব?”

একই গ্রামের আব্দুল হামিদ বলেন, “আগস্টে যা বিল এসেছিল, সেপ্টেম্বরে সেটি সাত গুণ বেড়েছে। অফিসে জানতে গেলে বলা হয়, আগের মাসে নাকি কম বিল করা হয়েছে। আমি একজন খেটে খাওয়া মানুষ, হঠাৎ এত বড় অঙ্কের বিল কীভাবে পরিশোধ করব?”

বাদশা মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন নিয়মিত মিটার না দেখে অনুমান করে বিল তৈরি করে নিয়ে যায়। হঠাৎ এত বড় বিল আমাদের পক্ষে পরিশোধ করা অসম্ভব।”

মিছির মিয়া জানান, “আমাদের বিদ্যুৎ বিল সাধারণত ৬০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে থাকত। কিন্তু এবার এসেছে ৪,৬০০ টাকা। শুধু আমার না, গ্রামের প্রায় ৫০০ পরিবার একই ধরনের বিল পেয়েছে।”

বাজারের মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টরাও জানিয়েছেন, বিল পরিশোধে এসে অনেক গ্রাহক অতিরিক্ত বিল নিয়ে অভিযোগ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য মো. ছাদেক মিয়া বলেন, “আমাদের গ্রামে অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজে নিয়োজিত। এভাবে হঠাৎ করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসায় মানুষজন দুশ্চিন্তায় পড়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত।”

এ বিষয়ে মাধবপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) প্রকৌশলী আবুল হাসান বলেন, “আমাদের এক সুপারভাইজার দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। তিনি গ্রাহকের বাড়িতে না গিয়ে অনুমানভিত্তিক বিল দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “রিডিং অনুযায়ী বিল করা হয়ে থাকে। যদি কেউ মনে করেন বিল অস্বাভাবিক, তাহলে অফিসে লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। মিটারের আগের ও বর্তমান ইউনিট যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”