ঢাকা ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, দেশজুড়ে সতর্কতা Logo সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস Logo চুনারুঘাটে ঘর ভেঙে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ Logo লাখাইয়ে বিএনপি নেতা ছুরে রহমানের মৃত্যুতে শোকসভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo মাধবপুরে রেলে কাটা দ্বিখণ্ডিত লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে পিবিআই Logo কেউ যেন নতুনভাবে উস্কানিতে লিপ্ত না হই, শিবিরকে অনুরোধ ছাত্রদল সভাপতির Logo লাখাইয়ে বিধবার জমি দখলে বাধা, আদালতের রায় কার্যকর চেয়ে থানায় অভিযোগ Logo শাহজীবাজারে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ: হবিগঞ্জে শুক্রবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ Logo সাইফ, তামিম, সৌম্যর দ্রুত বিদায়ে চাপে বাংলাদেশ Logo লাখাইয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে অচলাবস্থা, সেবা না পেয়ে দুর্ভোগে এলাকাবাসী

ভারতে সংশোধিত ওয়াকফ আইন স্থগিত

ভারতে সংশোধিত ওয়াকফ আইন স্থগিত করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল বুধবার থেকে এই আইনের বিরুদ্ধে করা ৭৩টি পিটিশনের শুনানি শুরু হয়। আজ বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ সংশোধিত ওয়াক্ফ আইন স্থগিতের ঘোষণা দেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

আইন স্থগিতের পর সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে নিশ্চিত করা হয়, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত ওয়কফ বোর্ডে নতুন নিয়োগ বা সম্পত্তির অবস্থা পরিবর্তন করা হবে না। পুরোনো ওয়াক্ফ এবং ‘ওয়াক্ফ বাই ইউজার’ সম্পত্তিও আগের মতো থাকবে।

চলতি মাসের শুরুতে ভারতে বিতর্কিত এ ওয়াকফ বিল পাস হয়। এরপর এ নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা শুরু হয়। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে এক বিক্ষোভে তিনজন নিহত হন। বিতর্কিত ওই আইনে বলা হয়েছিল, এখন থেকে ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিমরাও থাকতে পারবে। আজ সরকার আদালতকে ‘ওয়াকফ নিয়োগ’ না করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে; এর মাধ্যমে মূলত অমুসলিমদের ওয়াফক বোর্ডে স্থান দেওয়ার বিষয়টি স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে।

তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরও দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ‘ওয়াকফ বাই ইউজার’ এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে মুসলমানরা দীর্ঘদিন ধর্মীয় বা দানের কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তিকে ওয়াকফ হিসেবে দাবি করতে পারে, এমনকি কাগজপত্র না থাকলেও। নতুন আইনে বলা হয়েছে, বিরোধপূর্ণ বা সরকারি জমিতে এটি প্রযোজ্য হবে না।

নতুন আইনে কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিল ও রাজ্য ওয়াক্ফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্য রাখার বিধান আছে। এতে মুসলিম সদস্যের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। কাউন্সিলে ২২ জনের মধ্যে ৮ জন এবং রাজ্য বোর্ডে ১১ জনের মধ্যে ৪ জন মুসলিম থাকবে। এই বিধান মুসলিম সম্প্রদায় ও বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

গতকালের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি, দিল্লি হাইকোর্ট ওয়াকফ জমির ওপর। সব ওয়াকফ বাই ইউজার ভুল নয়।’ তিনি জানান, ১৩শ, ১৪শ বা ১৫শ শতাব্দীর মসজিদের জন্য কাগজপত্র পাওয়া অসম্ভব। তিনি সরকারকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি বলছেন, আদালতের রায়ে প্রতিষ্ঠিত ওয়াকফ এখন বাতিল হবে? আইন দিয়ে আদালতের রায় বাতিল করা যায় না।’

তিনি প্রশ্ন করেন, ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিমদের প্রবেশ করতে দেওয়ার বদলে সরকার কি হিন্দু এন্ডোমেন্ট বোর্ডে মুসলিমদের জায়গা দেবে কি না।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

বাংলার খবর
জনপ্রিয় সংবাদ

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, দেশজুড়ে সতর্কতা

error:

ভারতে সংশোধিত ওয়াকফ আইন স্থগিত

আপডেট সময় ০৮:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫

ভারতে সংশোধিত ওয়াকফ আইন স্থগিত করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল বুধবার থেকে এই আইনের বিরুদ্ধে করা ৭৩টি পিটিশনের শুনানি শুরু হয়। আজ বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ সংশোধিত ওয়াক্ফ আইন স্থগিতের ঘোষণা দেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

আইন স্থগিতের পর সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে নিশ্চিত করা হয়, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত ওয়কফ বোর্ডে নতুন নিয়োগ বা সম্পত্তির অবস্থা পরিবর্তন করা হবে না। পুরোনো ওয়াক্ফ এবং ‘ওয়াক্ফ বাই ইউজার’ সম্পত্তিও আগের মতো থাকবে।

চলতি মাসের শুরুতে ভারতে বিতর্কিত এ ওয়াকফ বিল পাস হয়। এরপর এ নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা শুরু হয়। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে এক বিক্ষোভে তিনজন নিহত হন। বিতর্কিত ওই আইনে বলা হয়েছিল, এখন থেকে ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিমরাও থাকতে পারবে। আজ সরকার আদালতকে ‘ওয়াকফ নিয়োগ’ না করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে; এর মাধ্যমে মূলত অমুসলিমদের ওয়াফক বোর্ডে স্থান দেওয়ার বিষয়টি স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে।

তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরও দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ‘ওয়াকফ বাই ইউজার’ এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে মুসলমানরা দীর্ঘদিন ধর্মীয় বা দানের কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তিকে ওয়াকফ হিসেবে দাবি করতে পারে, এমনকি কাগজপত্র না থাকলেও। নতুন আইনে বলা হয়েছে, বিরোধপূর্ণ বা সরকারি জমিতে এটি প্রযোজ্য হবে না।

নতুন আইনে কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিল ও রাজ্য ওয়াক্ফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্য রাখার বিধান আছে। এতে মুসলিম সদস্যের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। কাউন্সিলে ২২ জনের মধ্যে ৮ জন এবং রাজ্য বোর্ডে ১১ জনের মধ্যে ৪ জন মুসলিম থাকবে। এই বিধান মুসলিম সম্প্রদায় ও বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

গতকালের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি, দিল্লি হাইকোর্ট ওয়াকফ জমির ওপর। সব ওয়াকফ বাই ইউজার ভুল নয়।’ তিনি জানান, ১৩শ, ১৪শ বা ১৫শ শতাব্দীর মসজিদের জন্য কাগজপত্র পাওয়া অসম্ভব। তিনি সরকারকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি বলছেন, আদালতের রায়ে প্রতিষ্ঠিত ওয়াকফ এখন বাতিল হবে? আইন দিয়ে আদালতের রায় বাতিল করা যায় না।’

তিনি প্রশ্ন করেন, ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিমদের প্রবেশ করতে দেওয়ার বদলে সরকার কি হিন্দু এন্ডোমেন্ট বোর্ডে মুসলিমদের জায়গা দেবে কি না।