ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চুনারুঘাটে ভূমি বিষয়ক কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত Logo মাধবপুরে নারীকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা Logo উন্নয়ন বরাদ্দে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে: এমপি ফয়সল Logo মাধবপুরে সোনাই নদীতে ডুবে ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু Logo লাখাইয়ে মিনিবাসের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে মিশুক, আহত ২ Logo মাধবপুরে সংরক্ষিত বন থেকে গাছ চুরি, ট্রাক্টরসহ আটক ২ Logo লাখাইয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে মালবাহী পিকআপ, আহত ৩ Logo লাখাইয়ে বিলে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, ১৫-২০ লাখ টাকার মাছ নিধন Logo হবিগঞ্জ রেড ক্রিসেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন এস.এফ.এ.এম. শাহজাহান Logo মালদ্বীপে সংবর্ধিত ফেনী জেলা বিএনপির দুই নেতা

মাধবপুরে নারীকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

খণ্ডকালীন শিক্ষিকাকে চাকরিচ্যুতিরও অভিযোগ

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক নারীকে যৌন নিপীড়ন, শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শাহপুর (দক্ষিণ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন খানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ওই নারীকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এ মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগকারী রেহেনা খাতুন (ছদ্মনাম) লোহাইদ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। তাঁর একটি সন্তান রয়েছে। অভিযুক্ত আলাউদ্দিন খান পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁকে বিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেন। বাড়ির কাছাকাছি কর্মস্থল এবং সন্তানের দেখাশোনার সুবিধার কথা বিবেচনা করে তিনি ওই প্রস্তাবে রাজি হন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১১ অক্টোবর চাকরির বিষয়ে কথা বলার একপর্যায়ে অভিযুক্ত তাঁকে বিদ্যালয়ের সিঁড়ির পাশের একটি কক্ষে নিয়ে চৌকির ওপর ফেলে দেন। এরপর এক হাতে তাঁর মুখ চেপে ধরে অন্য হাত দিয়ে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় ওই নারী চিৎকার করলে অভিযুক্ত তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী। পরে কৌশলে অভিযুক্তের হাত থেকে মুক্ত হয়ে বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাটি কাউকে জানালে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেন অভিযুক্ত। মানসম্মানের কথা বিবেচনা করে প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনকে জানান ওই নারী। তাঁরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। তবে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কোনো কারণ ছাড়াই তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত এর আগেও গ্রামের আরও দুই নারীর সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করেছেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে স্থানীয় লোকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদ জানান। এ ঘটনায় মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়।

ভুক্তভোগীর দাবি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। উল্টো অভিযুক্ত তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে আসছেন। এসব কারণে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী আরও দাবি করেন, ঘটনার বিষয়ে তাঁর কাছে সাক্ষী রয়েছেন। পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে আদান-প্রদান করা বার্তার স্ক্রিনশটও সংরক্ষিত রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন খানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে সাংবাদিক পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন এবং পরে কথা বলবেন বলে জানান। তবে পরবর্তী সময়ে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আপলোডকারীর তথ্য
Avatar photo

Sekh Sadi

জনপ্রিয় সংবাদ

চুনারুঘাটে ভূমি বিষয়ক কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

error:

মাধবপুরে নারীকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ১০:০৭:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

খণ্ডকালীন শিক্ষিকাকে চাকরিচ্যুতিরও অভিযোগ

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক নারীকে যৌন নিপীড়ন, শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শাহপুর (দক্ষিণ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন খানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ওই নারীকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এ মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগকারী রেহেনা খাতুন (ছদ্মনাম) লোহাইদ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। তাঁর একটি সন্তান রয়েছে। অভিযুক্ত আলাউদ্দিন খান পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁকে বিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেন। বাড়ির কাছাকাছি কর্মস্থল এবং সন্তানের দেখাশোনার সুবিধার কথা বিবেচনা করে তিনি ওই প্রস্তাবে রাজি হন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১১ অক্টোবর চাকরির বিষয়ে কথা বলার একপর্যায়ে অভিযুক্ত তাঁকে বিদ্যালয়ের সিঁড়ির পাশের একটি কক্ষে নিয়ে চৌকির ওপর ফেলে দেন। এরপর এক হাতে তাঁর মুখ চেপে ধরে অন্য হাত দিয়ে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় ওই নারী চিৎকার করলে অভিযুক্ত তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী। পরে কৌশলে অভিযুক্তের হাত থেকে মুক্ত হয়ে বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাটি কাউকে জানালে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেন অভিযুক্ত। মানসম্মানের কথা বিবেচনা করে প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনকে জানান ওই নারী। তাঁরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। তবে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কোনো কারণ ছাড়াই তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত এর আগেও গ্রামের আরও দুই নারীর সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করেছেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে স্থানীয় লোকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদ জানান। এ ঘটনায় মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়।

ভুক্তভোগীর দাবি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। উল্টো অভিযুক্ত তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে আসছেন। এসব কারণে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী আরও দাবি করেন, ঘটনার বিষয়ে তাঁর কাছে সাক্ষী রয়েছেন। পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে আদান-প্রদান করা বার্তার স্ক্রিনশটও সংরক্ষিত রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন খানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে সাংবাদিক পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন এবং পরে কথা বলবেন বলে জানান। তবে পরবর্তী সময়ে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।