ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু’—ফোনালাপের সূত্র ধরে ৩ বছর পর সেপটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪ Logo হাইমচরে এইচএসসি-আলিমে পাসের হার ৩৯.৮৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ মাত্র ৩ Logo দীর্ঘদিন পর চালু হলো হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স সেবা Logo লাখাইয়ে মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার শূন্য, সার্বিক ফলাফলেও হতাশাজনক চিত্র Logo জামালপুরে চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য, টানা দুই বছর ফেল সবাই Logo হাইমচর সরকারি কলেজে এইচএসসির ফল বিপর্যয়, পাসের হার ৩৪.০৪ শতাংশ Logo চাকরিচ্যুতি ও বকেয়া বেতন নিয়ে জামালপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালের বিরুদ্ধে শ্রম আইনে অভিযোগ Logo হাইমচরে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিলেন এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক Logo লাখাইয়ে তৃতীয় স্ত্রীর মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হুমায়ূন গ্রেফতার Logo লাখাইয়ে সার বিক্রিতে অনিয়ম, বিএডিসি ডিলারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

হাইমচরে এইচএসসি-আলিমে পাসের হার ৩৯.৮৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ মাত্র ৩

আফতাবুল ইসলাম মেহেরাব হাইমচর প্রতিনিধি

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, উপজেলার সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৫৮০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৩১ জন। সম্মিলিত পাসের হার ৩৯.৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী। এদিকে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন ৬১০ জন। তাঁদের মধ্যে ৩০ জন পরীক্ষায় অংশ নেননি।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, এইচএসসি পরীক্ষায় উপজেলার চারটি কলেজ থেকে ৪৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৬৪ জন। পাসের হার ৩২.৯৩ শতাংশ। এ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনজন।

অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় উপজেলার তিনটি মাদ্রাসা থেকে ৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৬৭ জন। এ ক্ষেত্রে পাসের হার ৮১.৭১ শতাংশ। তবে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয় থেকে ৪২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৪৪ জন। পাসের হার ৩৪.০৪ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪৪০ জন।

মোয়াজ্জেম হোসেন কলেজ থেকে ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১০ জন। পাসের হার ২৫.৬৪ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটিতে নিবন্ধিত ছিলেন ৪১ জন।

দুর্গাপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন আটজন। পাসের হার ৩২ শতাংশ। সেখানে নিবন্ধিত ছিলেন ২৬ জন।

মালেরহাট যুব সংঘ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র দুজন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১৮.১৮ শতাংশ। সেখানে নিবন্ধিত ছিলেন ১২ জন।

আলিম পরীক্ষার ফলাফলে গন্ডামারা আবুবকর ছিদ্দিকী ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২২ জন। পাসের হার ৭৮.৫৭ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটিতে নিবন্ধিত ছিলেন ২৯ জন।

আলগীবাজার আলিম (সিনিয়র) মাদ্রাসা থেকে ৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩২ জন। পাসের হার ৮৮.৮৯ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধিত ছিলেন ৪৩ জন।

এ ছাড়া কাটাখালী হামিদিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৩ জন। পাসের হার ৭২.২২ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটিতে নিবন্ধিত ছিলেন ১৯ জন।

ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলিম পরীক্ষায় পাসের হার এইচএসসির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিপরীতে, এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকেরও বেশি অকৃতকার্য হয়েছেন। কয়েকটি কলেজে পাসের হার ৩০ শতাংশের নিচে থাকায় উপজেলার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শিক্ষাবিদদের মতে—এমন কোনো বক্তব্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত না করে যুক্ত করা সমীচীন নয়। তবে ফলাফলের এ চিত্রের পেছনে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

Tag :

মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু’—ফোনালাপের সূত্র ধরে ৩ বছর পর সেপটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

error:

হাইমচরে এইচএসসি-আলিমে পাসের হার ৩৯.৮৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ মাত্র ৩

আপডেট সময় ১২:২০:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

আফতাবুল ইসলাম মেহেরাব হাইমচর প্রতিনিধি

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, উপজেলার সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৫৮০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৩১ জন। সম্মিলিত পাসের হার ৩৯.৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী। এদিকে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন ৬১০ জন। তাঁদের মধ্যে ৩০ জন পরীক্ষায় অংশ নেননি।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, এইচএসসি পরীক্ষায় উপজেলার চারটি কলেজ থেকে ৪৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৬৪ জন। পাসের হার ৩২.৯৩ শতাংশ। এ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনজন।

অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় উপজেলার তিনটি মাদ্রাসা থেকে ৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৬৭ জন। এ ক্ষেত্রে পাসের হার ৮১.৭১ শতাংশ। তবে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয় থেকে ৪২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৪৪ জন। পাসের হার ৩৪.০৪ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪৪০ জন।

মোয়াজ্জেম হোসেন কলেজ থেকে ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১০ জন। পাসের হার ২৫.৬৪ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটিতে নিবন্ধিত ছিলেন ৪১ জন।

দুর্গাপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন আটজন। পাসের হার ৩২ শতাংশ। সেখানে নিবন্ধিত ছিলেন ২৬ জন।

মালেরহাট যুব সংঘ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র দুজন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১৮.১৮ শতাংশ। সেখানে নিবন্ধিত ছিলেন ১২ জন।

আলিম পরীক্ষার ফলাফলে গন্ডামারা আবুবকর ছিদ্দিকী ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২২ জন। পাসের হার ৭৮.৫৭ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটিতে নিবন্ধিত ছিলেন ২৯ জন।

আলগীবাজার আলিম (সিনিয়র) মাদ্রাসা থেকে ৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩২ জন। পাসের হার ৮৮.৮৯ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধিত ছিলেন ৪৩ জন।

এ ছাড়া কাটাখালী হামিদিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৩ জন। পাসের হার ৭২.২২ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটিতে নিবন্ধিত ছিলেন ১৯ জন।

ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলিম পরীক্ষায় পাসের হার এইচএসসির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিপরীতে, এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকেরও বেশি অকৃতকার্য হয়েছেন। কয়েকটি কলেজে পাসের হার ৩০ শতাংশের নিচে থাকায় উপজেলার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শিক্ষাবিদদের মতে—এমন কোনো বক্তব্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত না করে যুক্ত করা সমীচীন নয়। তবে ফলাফলের এ চিত্রের পেছনে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।