ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু’—ফোনালাপের সূত্র ধরে ৩ বছর পর সেপটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪ Logo হাইমচরে এইচএসসি-আলিমে পাসের হার ৩৯.৮৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ মাত্র ৩ Logo দীর্ঘদিন পর চালু হলো হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স সেবা Logo লাখাইয়ে মোড়াকরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার শূন্য, সার্বিক ফলাফলেও হতাশাজনক চিত্র Logo জামালপুরে চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য, টানা দুই বছর ফেল সবাই Logo হাইমচর সরকারি কলেজে এইচএসসির ফল বিপর্যয়, পাসের হার ৩৪.০৪ শতাংশ Logo চাকরিচ্যুতি ও বকেয়া বেতন নিয়ে জামালপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালের বিরুদ্ধে শ্রম আইনে অভিযোগ Logo হাইমচরে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিলেন এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক Logo লাখাইয়ে তৃতীয় স্ত্রীর মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হুমায়ূন গ্রেফতার Logo লাখাইয়ে সার বিক্রিতে অনিয়ম, বিএডিসি ডিলারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু’—ফোনালাপের সূত্র ধরে ৩ বছর পর সেপটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
‘মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু’—এমন একটি ফোনালাপের সূত্র ধরে তিন বছর আগে নিখোঁজ হওয়া মহব্বত আলী (৩৯) হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ। হবিগঞ্জের মাধবপুরে একটি বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংক থেকে তাঁর কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নতুন করে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
নিহত মহব্বত আলী রামনগর গ্রামের রুসমত আলীর ছেলে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন একই গ্রামের শাহ আলম (৩৪), তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৪), প্রতিবেশী জয়নাল মিয়া (২১) ও ইয়াছিন মিয়া (২৪)।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইদুর রহমান জানান, ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই মহব্বত আলী নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা ওই বছরের ১৮ আগস্ট মাধবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে মাদক-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মহব্বতকে হত্যার অভিযোগ করা হয়।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি এক ব্যক্তির সঙ্গে ঝগড়ার সময় ফোনে শাহ আলম বলেন, ‘মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু।’ ওই কথোপকথনের রেকর্ড গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আসার পর তদন্তে নতুন মোড় নেয়। ফোনালাপের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে শাহ আলমসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, এর আগে এ হত্যা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে নতুন ফোনালাপের সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাহ আলমের ভাতিজির সঙ্গে মহব্বতের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে শাহ আলমের স্ত্রী জাহানারা বেগমের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেন মহব্বত। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাহানারা বেগম মহব্বতকে তাঁদের বাড়িতে ডেকে নেন। বাড়িতে লোকজন আসবে—এমন কথা বলে তাঁকে একটি ওয়ার্ডরোবের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্যে জানা গেছে।

ওসি সোহেল রানা বলেন, উদ্ধার করা কঙ্কাল ডিবি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, নিহত মহব্বত আলীর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা ছিল। স্থানীয় কয়েকজন মাদককারবারির সঙ্গেও তাঁর বিরোধ চলছিল। নিখোঁজের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এসব বিরোধের সূত্র ধরে আগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁরা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

আগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন শফিক মিয়া (৩৮), তাঁর ছোট ভাই শিপন মিয়া (৩৪), জয়নাল মিয়া (৩৫), মামুন মিয়া (২৩), গিয়াস উদ্দিন (৪০) ও বাবু মিয়া (২৫)।

Tag :

মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু’—ফোনালাপের সূত্র ধরে ৩ বছর পর সেপটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

error:

মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু’—ফোনালাপের সূত্র ধরে ৩ বছর পর সেপটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

আপডেট সময় ১২:৪৬:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
‘মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু’—এমন একটি ফোনালাপের সূত্র ধরে তিন বছর আগে নিখোঁজ হওয়া মহব্বত আলী (৩৯) হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ। হবিগঞ্জের মাধবপুরে একটি বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংক থেকে তাঁর কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নতুন করে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
নিহত মহব্বত আলী রামনগর গ্রামের রুসমত আলীর ছেলে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন একই গ্রামের শাহ আলম (৩৪), তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৪), প্রতিবেশী জয়নাল মিয়া (২১) ও ইয়াছিন মিয়া (২৪)।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইদুর রহমান জানান, ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই মহব্বত আলী নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা ওই বছরের ১৮ আগস্ট মাধবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে মাদক-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মহব্বতকে হত্যার অভিযোগ করা হয়।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি এক ব্যক্তির সঙ্গে ঝগড়ার সময় ফোনে শাহ আলম বলেন, ‘মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু।’ ওই কথোপকথনের রেকর্ড গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আসার পর তদন্তে নতুন মোড় নেয়। ফোনালাপের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে শাহ আলমসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, এর আগে এ হত্যা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে নতুন ফোনালাপের সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাহ আলমের ভাতিজির সঙ্গে মহব্বতের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে শাহ আলমের স্ত্রী জাহানারা বেগমের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেন মহব্বত। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাহানারা বেগম মহব্বতকে তাঁদের বাড়িতে ডেকে নেন। বাড়িতে লোকজন আসবে—এমন কথা বলে তাঁকে একটি ওয়ার্ডরোবের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্যে জানা গেছে।

ওসি সোহেল রানা বলেন, উদ্ধার করা কঙ্কাল ডিবি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, নিহত মহব্বত আলীর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা ছিল। স্থানীয় কয়েকজন মাদককারবারির সঙ্গেও তাঁর বিরোধ চলছিল। নিখোঁজের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এসব বিরোধের সূত্র ধরে আগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁরা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

আগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন শফিক মিয়া (৩৮), তাঁর ছোট ভাই শিপন মিয়া (৩৪), জয়নাল মিয়া (৩৫), মামুন মিয়া (২৩), গিয়াস উদ্দিন (৪০) ও বাবু মিয়া (২৫)।