ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে সংরক্ষিত বন থেকে গাছ চুরি, ট্রাক্টরসহ আটক ২ Logo লাখাইয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে মালবাহী পিকআপ, আহত ৩ Logo লাখাইয়ে বিলে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, ১৫-২০ লাখ টাকার মাছ নিধন Logo হবিগঞ্জ রেড ক্রিসেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন এস.এফ.এ.এম. শাহজাহান Logo মালদ্বীপে সংবর্ধিত ফেনী জেলা বিএনপির দুই নেতা Logo নাসিরনগরে পুঁটি মাছের চ্যাপা শুঁটকি শিল্পে সম্ভাবনা, প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা Logo চুনারুঘাটে ডেনমার্ক প্রবাসীর মায়ের স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ Logo লাখাইয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নোমান সারওয়ার জনির জন্মদিন উদযাপন Logo মাধবপুরে ছয় দিন ধরে বন্ধ চার চা বাগান, সাড়ে চার হাজার শ্রমিকের পাওনা নিয়ে সংকট Logo লাখাইয়ে সালিশ বৈঠকে তালাক ও টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে যুবকের ওপর হামলা

সাত বছর পর কারাগার থেকে মুক্ত, প্রথমবার মুক্ত আকাশ দেখল শিশুটি

সাত বছর পর কারাগার থেকে মুক্ত, প্রথমবার মুক্ত আকাশ দেখল শিশুটি

বাংলার খবর ডেস্ক ফেনীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় খালাস পাওয়ার পর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন আসামি কামরুন নাহার মনি। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাঁর সঙ্গে কারাগারে জন্ম নেওয়া সাত বছর বয়সী কন্যা রাথীও কারাগার থেকে বের হয়।

২০১৯ সালে নুসরাত হত্যা মামলার ঘটনায় কামরুন নাহার মনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়া ও কারাভোগের সময় তাঁর কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর থেকে সাত বছর বয়স পর্যন্ত শিশুটির জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে কারাগারের ভেতরে। মঙ্গলবার মায়ের সঙ্গে মুক্তি পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো কারাগারের বাইরে এসে মুক্ত পরিবেশে যাওয়ার সুযোগ পেল শিশুটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে ১০ জনকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর দুই আসামি সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে খালাস পাওয়া ১০ আসামি হলেন—মাকসুদ আলম, রুহুল আমিন, কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা ও আবছার উদ্দিন।

মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের ও উম্মে সুলতানা ওরফে পপির।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে তাঁর ওপর হামলা ও আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

হাইকোর্টের রায়ের পর মামলায় খালাস পাওয়া কামরুন নাহার মনি এবং তাঁর কারাগারে জন্ম নেওয়া কন্যা রাথীর মুক্তির মধ্য দিয়ে সাত বছরের বন্দিজীবনের অবসান হলো শিশুটির।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে সংরক্ষিত বন থেকে গাছ চুরি, ট্রাক্টরসহ আটক ২

error:

সাত বছর পর কারাগার থেকে মুক্ত, প্রথমবার মুক্ত আকাশ দেখল শিশুটি

আপডেট সময় ০৮:৫১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলার খবর ডেস্ক ফেনীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় খালাস পাওয়ার পর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন আসামি কামরুন নাহার মনি। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাঁর সঙ্গে কারাগারে জন্ম নেওয়া সাত বছর বয়সী কন্যা রাথীও কারাগার থেকে বের হয়।

২০১৯ সালে নুসরাত হত্যা মামলার ঘটনায় কামরুন নাহার মনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়া ও কারাভোগের সময় তাঁর কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর থেকে সাত বছর বয়স পর্যন্ত শিশুটির জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে কারাগারের ভেতরে। মঙ্গলবার মায়ের সঙ্গে মুক্তি পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো কারাগারের বাইরে এসে মুক্ত পরিবেশে যাওয়ার সুযোগ পেল শিশুটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে ১০ জনকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর দুই আসামি সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে খালাস পাওয়া ১০ আসামি হলেন—মাকসুদ আলম, রুহুল আমিন, কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা ও আবছার উদ্দিন।

মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের ও উম্মে সুলতানা ওরফে পপির।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে তাঁর ওপর হামলা ও আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

হাইকোর্টের রায়ের পর মামলায় খালাস পাওয়া কামরুন নাহার মনি এবং তাঁর কারাগারে জন্ম নেওয়া কন্যা রাথীর মুক্তির মধ্য দিয়ে সাত বছরের বন্দিজীবনের অবসান হলো শিশুটির।