
বাংলার খবর ডেস্ক: সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) চালানো এ হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি।
ইয়াহিয়া সারি জানান, সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর আবহা, নাজরান ও জিজান এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা এবং খামিস মুশাইতের বিমান ঘাঁটি হামলার লক্ষ্য ছিল। তার দাবি, এসব স্থাপনা লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার ফলে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। জিজান এলাকার একটি বড় তেল স্থাপনাতেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনীর সদস্যরা কাজ করেন এবং কিছু জ্বালানি স্থাপনার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তবে হামলায় আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব হামলাকে গুরুতর উসকানি হিসেবে উল্লেখ করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় মঙ্গলবার অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো ও আঞ্চলিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ।
বাংলার খবর ডেস্ক : 




















