ঢাকা ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo শিক্ষার মানোন্নয়নে দুই মাস পরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা নিয়ে বসবেন এমপি মানিক Logo গল্লাক কলেজের গভর্নিং বডিতে দাতা সদস্য নির্বাচিত হলেন এম এ হান্নান Logo খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছে সরকার: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Logo চাঁদপুর প্রেস ক্লাবে সম্পাদকদের বৃহৎ মতবিনিময়, সংবাদপত্র শিল্পের উন্নয়ন ও আইন সংস্কারের দাবি Logo পদত্যাগ করলেন জহির উদ্দিন স্বপন Logo ওমরাহ করলেন আসিফ মাহমুদ Logo আজ থেকে শুরু কলেরা টিকার ক্যাম্পেইন Logo সড়কপথে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ভোলা, অনুমোদন দিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর হাতে তথ্য মন্ত্রণালয় Logo হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়ের নতুন অধ্যক্ষ বেদারুল আলম

অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, চাঁদপুর ডিবির জালে দুই সদস্য

অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, চাঁদপুর ডিবির জালে দুই সদস্য

আফতাবুল ইসলাম মেহরাব, চাঁদপুর প্রতিনিধি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে একটি অনলাইন প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. লুৎফর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের নোয়াগ্রাম এবং চাঁদপুর মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. হাবিবুর রহমান ওরফে সাজিদ ও হেদায়েত হুজুর (৪১) এবং মো. রকিবুল হাসান নয়ন ওরফে রাব্বী ও রাব্বী শরীফ (৩৬)।

পুলিশ জানায়, চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল কালিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে। প্রথমে হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রের অপর সদস্য রকিবুল হাসান নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চাঁদপুর সদর মডেল থানায় করা একটি সাধারণ ডায়েরি ও বিভিন্ন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে চক্রটির বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সংশ্লিষ্টদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, চক্রটি ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দিত। আকর্ষণীয় ছবি, তুলনামূলক কম দাম এবং দ্রুত পণ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হতো।

ক্রেতারা পণ্য অর্ডার করলে অগ্রিম টাকা নেওয়ার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং ও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা হতো। টাকা পাওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে পণ্য সরবরাহ না করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজনসহ পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অপরিচিত ব্যক্তি বা ফেসবুক পেজের মাধ্যমে পণ্য কেনার আগে বিক্রেতা ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় এবং বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

পুলিশের পক্ষ থেকে অনলাইনে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও অস্বাভাবিক কম দামের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া টাকা না পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো অনলাইন পেজ বা ব্যক্তির মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেও বলা হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

বাংলার খবর
জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার মানোন্নয়নে দুই মাস পরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা নিয়ে বসবেন এমপি মানিক

error:

অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, চাঁদপুর ডিবির জালে দুই সদস্য

আপডেট সময় ০৮:১২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

আফতাবুল ইসলাম মেহরাব, চাঁদপুর প্রতিনিধি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে একটি অনলাইন প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. লুৎফর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের নোয়াগ্রাম এবং চাঁদপুর মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. হাবিবুর রহমান ওরফে সাজিদ ও হেদায়েত হুজুর (৪১) এবং মো. রকিবুল হাসান নয়ন ওরফে রাব্বী ও রাব্বী শরীফ (৩৬)।

পুলিশ জানায়, চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল কালিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে। প্রথমে হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রের অপর সদস্য রকিবুল হাসান নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চাঁদপুর সদর মডেল থানায় করা একটি সাধারণ ডায়েরি ও বিভিন্ন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে চক্রটির বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সংশ্লিষ্টদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, চক্রটি ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দিত। আকর্ষণীয় ছবি, তুলনামূলক কম দাম এবং দ্রুত পণ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা হতো।

ক্রেতারা পণ্য অর্ডার করলে অগ্রিম টাকা নেওয়ার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং ও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা হতো। টাকা পাওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে পণ্য সরবরাহ না করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজনসহ পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অপরিচিত ব্যক্তি বা ফেসবুক পেজের মাধ্যমে পণ্য কেনার আগে বিক্রেতা ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় এবং বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

পুলিশের পক্ষ থেকে অনলাইনে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও অস্বাভাবিক কম দামের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া টাকা না পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো অনলাইন পেজ বা ব্যক্তির মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেও বলা হয়েছে।