
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সাপ্তাহিক রেশন-তলব পরিশোধ না করায় হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগানে কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকরা। শুক্রবার সকাল থেকে বাগানের প্রায় ৯০০ শ্রমিক কাজে যোগ না দেওয়ায় বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাগানে রেশন-তলব, বোনাস, এরিয়ার অর্থ, বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার সংকট চলছে। পাশাপাশি মালিকপক্ষের কাছে তাদের বিভিন্ন বকেয়া পাওনাও রয়েছে। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক রেশন-তলব পরিশোধের কথা থাকলেও রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো অর্থ পাননি তারা। এর প্রতিবাদে শুক্রবার থেকে কর্মবিরতির ডাক দেন শ্রমিকরা।
শ্রমিক নেতা খেলু নায়েক বলেন, “চা শ্রমিকরা স্বল্প মজুরিতে কঠোর পরিশ্রম করে বাগানের উৎপাদন সচল রাখছেন। কিন্তু নিয়মিত রেশন-তলব না পেলে পরিবার নিয়ে চলা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কাজ করে যদি ন্যায্য পাওনাই না পাই, তাহলে শ্রমিকরা কীভাবে কাজে যাবে?”
নোয়াপাড়া চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি কমরেড নায়েক বলেন, “একসময় নোয়াপাড়া চা বাগান একটি প্রথম শ্রেণির সুশৃঙ্খল বাগান ছিল। মালিকপক্ষের উদাসীনতা ও ব্যবস্থাপনা সংকটের কারণে বর্তমানে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর খেসারত দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের। দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনার পাশাপাশি এখন রেশন-তলবও বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিকদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে ফিরবেন না।”
অন্যদিকে মালিকপক্ষের দাবি, টানা কয়েক বছর ধরে লোকসানের কারণে বাগানটি আর্থিক সংকটে রয়েছে। এ অবস্থায় রেশন-তলব, বিভিন্ন বকেয়া পরিশোধ এবং বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।
নোয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক সোহাগ মাহমুদ বলেন, “গত চার বছর ধরে বাগানটি আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকিং জটিলতার কারণে বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের তলব পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী রোববার অথবা সোমবারের মধ্যে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে। আমরা আশা করছি, শ্রমিকরা দ্রুত কাজে ফিরে আসবেন।”
এদিকে শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে বাগানের উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের দাবি, তাদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধ এবং দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 




















