
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা গ্রামে তাহমিনা বেগম (২৩) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিদেশে যাওয়ার জন্য টাকা না দেওয়ায় স্বামী ও তার স্বজনরা তাহমিনাকে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করেছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখনো পুলিশ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
নিহত তাহমিনা বেগম উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের ওসমান মিয়ার মেয়ে। প্রায় সাত বছর আগে বাঘাসুরা গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে তাহির মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে।
নিহতের ভাই আলমগীর মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তাহমিনার শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে জরুরিভাবে সেখানে যেতে বলা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি বোনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
আলমগীরের দাবি, বিদেশ যাওয়ার জন্য কিছুদিন ধরে তাহির মিয়া শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য তাহমিনার ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। টাকা দিতে না পারায় তাকে নিয়মিত নির্যাতন করা হতো।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রায় তিন মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ বিদেশে যাওয়ার টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে তাহির মিয়া ও তার কয়েকজন স্বজন বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে নিহতের পরিবার জানিয়েছে।
খবর পেয়ে মাধবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।”
বাংলার খবর ডেস্ক : 






















