
চুনারুঘাট প্রতিনিধি:
ঘুষ-বাণিজ্য, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ও স্থানীয়দের প্রতিবাদের পর বন অধিদপ্তর সাবেক ডেপুটি রেঞ্জার সৈয়দ আশিক আহমেদকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া রেঞ্জে বদলি করলেও দুই মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও তিনি নিয়মিত নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে এলাকায় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি এলাকায় অবস্থান করে সরকারি বেতন উত্তোলনের পাশাপাশি পুনরায় ঘুষ-বাণিজ্যে জড়িত রয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নব্বইয়ের দশকে সৈয়দ আশিক আহমেদ চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। পরে ফরেস্ট গার্ড হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়ে বিভিন্ন সময় ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ এবং অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি হবিগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে গাছ আটক, ঘুষ গ্রহণ এবং সরকারি গাছ পাচারের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া তার নামে-বেনামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন স্থানে স্থাবর সম্পদ এবং ব্যাংকে অর্থ থাকার অভিযোগও তোলা হয়েছে। অভিযোগপত্রে গ্রামের বাড়িতে প্রায় ৮ শতক জমির ওপর পাঁচতলা ফাউন্ডেশনবিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণ, শ্বশুরবাড়ি, ঢাকার বিভিন্ন এলাকা, বাড্ডা ও ডেমরায় জমি কেনার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় প্রতিবন্ধী সানু মিয়াকে চাঁদাবাজির অভিযোগ করায় মিথ্যা গাছ চুরির মামলায় জড়ানোর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের প্রতিবাদে গত ১৫ মার্চ স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানান। কাঠ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ লিয়াকত হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দিন শামসুসহ স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ।
বর্তমানে বদলির পরও ওই কর্মকর্তা এলাকায় অবস্থান করায় স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে সৈয়দ আশিক আহমেদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 
























