ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চকরিয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠকে পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ৯ Logo মাধবপুরে ক্ষুদে ডাক্তারদের কাছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo মাধবপুরে দুই প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে বৃক্ষরোপণ করলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে ৪১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে সরকার Logo মাধবপুরে প্রাথমিক শিক্ষার বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান সিনেটে জয়ী আবদুল এল-সায়েদ, হতে যাচ্ছেন প্রথম মুসলিম সিনেটর Logo চা শ্রমিকদের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকারে চাঁন্দপুরে নিপেন পাল প্যানেলের মতবিনিময় Logo মাধবপুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেঝেতে বসে পাঠদানে মেতে উঠলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo জামালপুরে ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন Logo মাধবপুরে তিন বছর পর সেফটি ট্যাংক থেকে মিলল মহব্বত আলীর দেহাবশেষ, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

নাসিরনগরে ১০ শয্যা হাসপাতালে একজন নিরাপত্তা প্রহরীই ডাক্তার

মোঃ আব্দুল হান্নান, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক ইউনিয়নের ১০ শয্যাবিশিষ্ট পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে চরম জনবল সংকটে রয়েছে। চিকিৎসকসহ মোট ২৪টি পদের মধ্যে ২৩টিই শূন্য থাকায় বর্তমানে একজন নিরাপত্তা প্রহরীর ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম।

১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের দুটি পদসহ মোট ২৪টি পদ রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ পদ শূন্য থাকায় কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে কর্মরত একমাত্র নিরাপত্তা প্রহরী মো. কামাল হোসেন। ২০১৪ সালের ৩১ জুলাই তিনি নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে যোগদান করেন। ২০২৪ সালে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় কয়েকজন জানান, অসুস্থ শরীর নিয়েও কামাল হোসেন তাঁর সাধ্য অনুযায়ী মানুষের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁদের দাবি, মাঝে মধ্যে একজন চিকিৎসক আসেন, আবার অনেক সময় চিকিৎসকও পাওয়া যায় না। কামাল হোসেন না থাকলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম আরও বেশি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তারা।

নিরাপত্তা প্রহরী মো. কামাল হোসেন বলেন, “আমি অসুস্থ থাকার পরও চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে আমার সাধ্য অনুযায়ী জনগণকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমি স্বল্প বেতনের কর্মচারী। আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, তারাও পড়াশোনা করছে। এই স্বল্প বেতন দিয়ে নিজের চিকিৎসা ও সংসারের খরচ চালানো অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।”

তিনি আরও জানান, প্রায় দুই মাস আগে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অদিতি রায় তাঁর চিকিৎসার জন্য ২২ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সরকারি কল্যাণ তহবিলে সহায়তার জন্য আবেদন করেছেন। তবে এখনো সেখান থেকে কোনো অর্থ পাননি বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অদিতি রায় জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে কোনো কর্মকর্তার পদায়ন না থাকলেও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল সার্জারি অফিসার ডা. মো. সাইদুল মোস্তফাকে সেখানে দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চকরিয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠকে পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ৯

error:

নাসিরনগরে ১০ শয্যা হাসপাতালে একজন নিরাপত্তা প্রহরীই ডাক্তার

আপডেট সময় ০৩:৫৮:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ আব্দুল হান্নান, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক ইউনিয়নের ১০ শয্যাবিশিষ্ট পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে চরম জনবল সংকটে রয়েছে। চিকিৎসকসহ মোট ২৪টি পদের মধ্যে ২৩টিই শূন্য থাকায় বর্তমানে একজন নিরাপত্তা প্রহরীর ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম।

১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের দুটি পদসহ মোট ২৪টি পদ রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ পদ শূন্য থাকায় কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে কর্মরত একমাত্র নিরাপত্তা প্রহরী মো. কামাল হোসেন। ২০১৪ সালের ৩১ জুলাই তিনি নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে যোগদান করেন। ২০২৪ সালে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় কয়েকজন জানান, অসুস্থ শরীর নিয়েও কামাল হোসেন তাঁর সাধ্য অনুযায়ী মানুষের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁদের দাবি, মাঝে মধ্যে একজন চিকিৎসক আসেন, আবার অনেক সময় চিকিৎসকও পাওয়া যায় না। কামাল হোসেন না থাকলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম আরও বেশি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তারা।

নিরাপত্তা প্রহরী মো. কামাল হোসেন বলেন, “আমি অসুস্থ থাকার পরও চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে আমার সাধ্য অনুযায়ী জনগণকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমি স্বল্প বেতনের কর্মচারী। আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, তারাও পড়াশোনা করছে। এই স্বল্প বেতন দিয়ে নিজের চিকিৎসা ও সংসারের খরচ চালানো অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।”

তিনি আরও জানান, প্রায় দুই মাস আগে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অদিতি রায় তাঁর চিকিৎসার জন্য ২২ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সরকারি কল্যাণ তহবিলে সহায়তার জন্য আবেদন করেছেন। তবে এখনো সেখান থেকে কোনো অর্থ পাননি বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অদিতি রায় জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে কোনো কর্মকর্তার পদায়ন না থাকলেও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল সার্জারি অফিসার ডা. মো. সাইদুল মোস্তফাকে সেখানে দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে।