
ডেস্ক নিউজ বাংলার খবর ২৪:
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক সংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা এলাকা থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্র অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় একটি টিলার কাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে। পরে তার বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মো. আব্দুল কাদির জিলানী জানান, শনিবার সকালে তারা ওই এলাকায় কাজ করতে যান। কাজের প্রয়োজনে বাঁশ সংগ্রহ করতে গিয়ে তার সঙ্গে থাকা ভাতিজা একটি শিশুকে পড়ে থাকতে দেখে তাকে জানায়।
তিনি বলেন, কাছে গিয়ে তারা অপ্রতীমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ভয় পেয়ে তারা সেখান থেকে চলে যান। কিছুক্ষণ পর শিশুটির নিখোঁজের খবর শুনে তারা স্থানীয়দের বিষয়টি জানান। পরে স্থানীয়রা তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পান।
সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ জানায়, নিখোঁজের পর অপ্রতীমের মুঠোফোনের সর্বশেষ অবস্থান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় শনাক্ত হয়। ওই অবস্থানের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী এলাকায় তল্লাশি চালান। পরে ম্যাজিক প্যারাডাইস সংলগ্ন পশ্চিম সানন্দা এলাকায় শিশুটির মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপ্রতীমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি ছেলেকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছিলেন।
অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের পরই বিস্তারিত জানা যাবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















