
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বা পরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেও তাকে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য যত দ্রুত সম্ভব দেশে প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরে আসবেন, জানুয়ারিতে আসবেন—এটা আপনার ব্যাপার। কিন্তু আপনাকে তো আমরা কালকেই চাই। অতএব কোনো স্ট্যান্টবাজি করবেন না। এখানে আর কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করবেন না।’
শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশনা সিরিজ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের নেতাদের দেশে ফেরার বিভিন্ন ঘোষণা প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ফাঁকা বক্তব্য দিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার সুযোগ আর নেই। দেশের জনগণ আর কোনো ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসন ফিরে আসুক, তা চায় না।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা পেয়েছে। সেই আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো বিভাজন সৃষ্টি করা যাবে না।
মো. আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, যারা বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে চায় বা দেশে ফিরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য সফল হতে দেওয়া যাবে না। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিচার কার্যক্রম নিয়ে হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে। তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে জনবল ও অবকাঠামো বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপরাধের বিচার ব্যক্তি পর্যায়ের পাশাপাশি সাংগঠনিক পর্যায়েও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
বাংলার খবর ডেস্ক : 
























