
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগানে ঋণের চাপ ও সুদ কারবারিদের হয়রানির অভিযোগে প্রকাশ রেলী (২৬) নামে এক আদিবাসী যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৬ জুলাই) সকালে বাগানের একটি সেকশন থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।
নিহত প্রকাশ রেলী নোয়াপাড়া চা বাগানের মৃত চম্পক রেলীর ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অভাব-অনটনের কারণে প্রকাশ রেলী কয়েকজন সুদ কারবারির কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। প্রথমদিকে নিয়মিত সুদ পরিশোধ করলেও পরে চড়া সুদের বোঝা বহন করতে না পেরে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, পাওনাদারদের চাপ ও হয়রানিতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, সেই চাপের কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
চা বাগানের ইইপি সদস্য বাবুল রেলী বলেন, চা শ্রমিকদের সীমিত আয়ের সুযোগ নিয়ে একটি চক্র উচ্চ সুদে ঋণ দিয়ে থাকে। বিয়ে, চিকিৎসা কিংবা প্রসূতি মায়েদের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে অনেক শ্রমিক বাধ্য হয়ে এসব ঋণ নেন। পরে চক্রবৃদ্ধি সুদের কারণে ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়। অনেক শ্রমিক ঋণের বোঝা সহ্য করতে না পেরে বাগান ছেড়েও চলে গেছেন। প্রকাশ রেলীর ঘটনাও সেই বাস্তবতার একটি মর্মান্তিক উদাহরণ বলে তিনি দাবি করেন।
নোয়াপাড়া ইইপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আতাউল মোস্তফা সোহেল বলেন, চা বাগানে সুদ কারবারিদের দৌরাত্ম্য উদ্বেগজনক। সহজ-সরল শ্রমিকদের উচ্চ সুদে ঋণ দিয়ে পরে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। প্রকাশ রেলীর মৃত্যুর ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। তিনি অবৈধ সুদ কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঋণজনিত মানসিক চাপের বিষয়টি জানা গেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 





















