ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে মালবাহী পিকআপ, আহত ৩ Logo লাখাইয়ে বিলে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, ১৫-২০ লাখ টাকার মাছ নিধন Logo হবিগঞ্জ রেড ক্রিসেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন এস.এফ.এ.এম. শাহজাহান Logo মালদ্বীপে সংবর্ধিত ফেনী জেলা বিএনপির দুই নেতা Logo নাসিরনগরে পুঁটি মাছের চ্যাপা শুঁটকি শিল্পে সম্ভাবনা, প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা Logo চুনারুঘাটে ডেনমার্ক প্রবাসীর মায়ের স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ Logo লাখাইয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নোমান সারওয়ার জনির জন্মদিন উদযাপন Logo মাধবপুরে ছয় দিন ধরে বন্ধ চার চা বাগান, সাড়ে চার হাজার শ্রমিকের পাওনা নিয়ে সংকট Logo লাখাইয়ে সালিশ বৈঠকে তালাক ও টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে যুবকের ওপর হামলা Logo সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত

হবিগঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার আশিক আহমেদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জ বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার আশিক আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করেছেন চুনারুঘাট উপজেলার এক ব্যক্তি।

অভিযোগে বলা হয়, বর্তমানে হবিগঞ্জ বন বিভাগে কর্মরত ডেপুটি রেঞ্জার আশিক আহমেদ বন বিভাগের চাকরির ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, তার উল্লেখযোগ্য কোনো পৈতৃক সম্পত্তি না থাকলেও সরকারি গাছ পাচার, বিভিন্ন ব্যক্তির গাছ আটক করে ঘুষ গ্রহণ এবং অনিয়মের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশিক আহমেদ তার গ্রামের বাড়িতে প্রায় ৮ শতক জমির ওপর পাঁচতলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকেও তার বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি সরকারের কাছে সম্পদের প্রকৃত হিসাব গোপন করে নামমাত্র সম্পদের বিবরণ জমা দিয়েছেন। দীর্ঘদিন তার বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত না হওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তার বাড়ির দক্ষিণ পাশে প্রায় ৫০ শতক জমি ক্রয় করে চারদিকে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। এছাড়া বরাব্দা মৌজায় প্রায় ৫ একর কৃষিজমি ক্রয় করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়। কাকাউশ মৌজাতেও প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা ডেমরার ত্রিমোহনী-মেরাদিয়া রোড এলাকায় প্রায় ৫ কাঠা জমি এবং বাড্ডা এলাকায় নিজের ও স্ত্রীর নামে আরও ২ কাঠা জমি ক্রয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।

স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন ফরেস্ট গার্ড থেকে ডেপুটি রেঞ্জার হওয়া কর্মকর্তা কীভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হলেন। বিষয়টি তদন্ত করা হলে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে মালবাহী পিকআপ, আহত ৩

error:

হবিগঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার আশিক আহমেদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:৩৯:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জ বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার আশিক আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করেছেন চুনারুঘাট উপজেলার এক ব্যক্তি।

অভিযোগে বলা হয়, বর্তমানে হবিগঞ্জ বন বিভাগে কর্মরত ডেপুটি রেঞ্জার আশিক আহমেদ বন বিভাগের চাকরির ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, তার উল্লেখযোগ্য কোনো পৈতৃক সম্পত্তি না থাকলেও সরকারি গাছ পাচার, বিভিন্ন ব্যক্তির গাছ আটক করে ঘুষ গ্রহণ এবং অনিয়মের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশিক আহমেদ তার গ্রামের বাড়িতে প্রায় ৮ শতক জমির ওপর পাঁচতলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকেও তার বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি সরকারের কাছে সম্পদের প্রকৃত হিসাব গোপন করে নামমাত্র সম্পদের বিবরণ জমা দিয়েছেন। দীর্ঘদিন তার বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত না হওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তার বাড়ির দক্ষিণ পাশে প্রায় ৫০ শতক জমি ক্রয় করে চারদিকে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। এছাড়া বরাব্দা মৌজায় প্রায় ৫ একর কৃষিজমি ক্রয় করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়। কাকাউশ মৌজাতেও প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা ডেমরার ত্রিমোহনী-মেরাদিয়া রোড এলাকায় প্রায় ৫ কাঠা জমি এবং বাড্ডা এলাকায় নিজের ও স্ত্রীর নামে আরও ২ কাঠা জমি ক্রয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।

স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন ফরেস্ট গার্ড থেকে ডেপুটি রেঞ্জার হওয়া কর্মকর্তা কীভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হলেন। বিষয়টি তদন্ত করা হলে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।