ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে ছয় দিন ধরে বন্ধ চার চা বাগান, সাড়ে চার হাজার শ্রমিকের পাওনা নিয়ে সংকট Logo লাখাইয়ে সালিশ বৈঠকে তালাক ও টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে যুবকের ওপর হামলা Logo সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত Logo লাখাইয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে ছয় বছরের শিশুর মৃত্যু Logo প্রবাসীর লাগেজ হোম ডেলিভারি না দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা Logo হাইমচরের চরাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ দিল জ্ঞানের আলো সংগঠন Logo লাখাইয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, দুই ব্যবসায়ীকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা Logo মাধবপুরে মামলার বাদী ও তাঁর পরিবারকে হত্যার হুমকির অভিযোগ Logo হাইমচরে ৫ নভেম্বরের মধ্যে পদত্যাগের নির্দেশ বিএনপি নেতার Logo সিংহাগ্রামে অনাবৃষ্টি ও ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় ইস্তিসকার নামাজ ও বিশেষ দোয়া

মাধবপুরে ছয় দিন ধরে বন্ধ চার চা বাগান, সাড়ে চার হাজার শ্রমিকের পাওনা নিয়ে সংকট

মাধবপুর প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়াসহ দেউন্দি কোম্পানির চারটি চা বাগানে ছয় দিন ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। চার সপ্তাহের বকেয়া মজুরি, রেশন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবিতে কাজে যোগ দিচ্ছেন না সাড়ে চার হাজার শ্রমিক। এতে বাগানগুলোতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

কাজ বন্ধ থাকা বাগানগুলো হলো মাধবপুরের নোয়াপাড়া, লালচান, দেউন্দি এবং মৌলভীবাজারের মিরতিংগা চা বাগান। এ ছাড়া গিলানি, কাপাই ও রঘুনন্দন ফাঁড়ি বাগানেও কাজ বন্ধ রয়েছে।

শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ ও সমস্যার সমাধানের দাবিতে রোববার হবিগঞ্জে মানববন্ধন করেন চা শ্রমিকেরা। পরে তাঁরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন।

নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক নেতা খেলু নায়েক জানান, শ্রমিকদের চার সপ্তাহের সাপ্তাহিক মজুরি বকেয়া রয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেক শ্রমিকের প্রায় চার হাজার টাকা করে এরিয়ার বিল পাওনা। প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা জমা হলেও শ্রমিকদের হিসাবে দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি বাগানগুলোতে চিকিৎসা, আবাসন ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান না হওয়ায় শ্রমিকেরা কাজে যাওয়া বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।

বাগান সভাপতি কমেড নায়েক বলেন, জেলা প্রশাসক স্মারকলিপি গ্রহণ করে কয়েক দিনের মধ্যে বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

দেউন্দি কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক রিয়াজ রহমান জানান, শ্রমিকেরা কাজ থেকে বিরত রয়েছেন। অর্থের সংস্থান করার চেষ্টা চলছে। টাকা পাওয়া গেলে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে। দীর্ঘদিনের লোকসানের কারণে বাগানগুলো আর্থিক সংকটে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজ স্মারকলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানে প্রশাসন কাজ করছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে ছয় দিন ধরে বন্ধ চার চা বাগান, সাড়ে চার হাজার শ্রমিকের পাওনা নিয়ে সংকট

error:

মাধবপুরে ছয় দিন ধরে বন্ধ চার চা বাগান, সাড়ে চার হাজার শ্রমিকের পাওনা নিয়ে সংকট

আপডেট সময় ১১:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

মাধবপুর প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়াসহ দেউন্দি কোম্পানির চারটি চা বাগানে ছয় দিন ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। চার সপ্তাহের বকেয়া মজুরি, রেশন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবিতে কাজে যোগ দিচ্ছেন না সাড়ে চার হাজার শ্রমিক। এতে বাগানগুলোতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

কাজ বন্ধ থাকা বাগানগুলো হলো মাধবপুরের নোয়াপাড়া, লালচান, দেউন্দি এবং মৌলভীবাজারের মিরতিংগা চা বাগান। এ ছাড়া গিলানি, কাপাই ও রঘুনন্দন ফাঁড়ি বাগানেও কাজ বন্ধ রয়েছে।

শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ ও সমস্যার সমাধানের দাবিতে রোববার হবিগঞ্জে মানববন্ধন করেন চা শ্রমিকেরা। পরে তাঁরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন।

নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক নেতা খেলু নায়েক জানান, শ্রমিকদের চার সপ্তাহের সাপ্তাহিক মজুরি বকেয়া রয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেক শ্রমিকের প্রায় চার হাজার টাকা করে এরিয়ার বিল পাওনা। প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা জমা হলেও শ্রমিকদের হিসাবে দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি বাগানগুলোতে চিকিৎসা, আবাসন ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান না হওয়ায় শ্রমিকেরা কাজে যাওয়া বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।

বাগান সভাপতি কমেড নায়েক বলেন, জেলা প্রশাসক স্মারকলিপি গ্রহণ করে কয়েক দিনের মধ্যে বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

দেউন্দি কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক রিয়াজ রহমান জানান, শ্রমিকেরা কাজ থেকে বিরত রয়েছেন। অর্থের সংস্থান করার চেষ্টা চলছে। টাকা পাওয়া গেলে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে। দীর্ঘদিনের লোকসানের কারণে বাগানগুলো আর্থিক সংকটে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজ স্মারকলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানে প্রশাসন কাজ করছে।