ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড, দুইজনের যাবজ্জীবন Logo পাঁচ চা বাগানে কর্মবিরতি, মজুরি না পেয়ে সংকটে হাজারো শ্রমিক Logo ৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব পাঠ্যবই সরবরাহের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের Logo কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা মামলা: হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আজ রায় Logo তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার Logo চুনারুঘাটে ৬১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৪ Logo মাধবপুরে ১০৪ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার, পলাতক ৩ Logo সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার Logo লাখাইয়ে তারেক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েল মিয়া গ্রেপ্তার Logo নাসিরনগরের ফান্দাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মালেক শাহকে ঘিরে আলোচনা

হবিগঞ্জে প্রতি বছর ঝরে পড়ছে ১৩ হাজার প্রাথমিক শিক্ষার্থী

হবিগঞ্জ জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। গত এক দশকে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজারে। দারিদ্র্য, ভৌগোলিক প্রতিকূলতা এবং মানসম্মত শিক্ষার অভাবকে এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলার ৯টি উপজেলার সরকারি, বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৫ হাজার ৮৮৩ জন। একই সময়ে পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৩ হাজার ৪৫৫ জন। সেই হিসাবে প্রাথমিক স্তরেই প্রতি বছর অন্তত ১২ হাজার ৪২৮ শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ছে।

তথ্য অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া প্রায় ৬৫ হাজার শিশুর মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হয় ৬৪ হাজার, তৃতীয় শ্রেণিতে ৬২ হাজার, চতুর্থ শ্রেণিতে ৫৯ হাজার এবং পঞ্চম শ্রেণিতে এসে তা কমে দাঁড়ায় ৫৩ হাজারে।

জেলায় বর্তমানে প্রায় তিন লাখ পাঁচ হাজার শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ হাজার শিশু বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেনে পড়াশোনা করছে। তবে পথশিশু, ভিক্ষুক ও অতি দরিদ্র পরিবারের অনেক শিশু প্রথম শ্রেণিতেই ভর্তি হচ্ছে না বলেও জানা গেছে। ফলে শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থেকে যাচ্ছে বিপুল সংখ্যক শিশু।

হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহ আলম বলেন, জেলার আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, নবীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার মতো এলাকায় দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক পরিবার সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছে না। কেউ কেউ ভর্তি হলেও পরবর্তী শ্রেণিতে আর টিকে থাকতে পারছে না।

তিনি আরও জানান, শিশুদের স্কুলমুখী করতে এবং বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে মিড-ডে মিল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে বাহুবল উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে মিড-ডে মিল চালু হয়েছে এবং এতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। জেলার সব উপজেলায় এই কার্যক্রম চালু করা গেলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও স্থায়িত্ব বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে হবিগঞ্জ জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২৪৯ জন প্রধান শিক্ষক ও ৪৭৭ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় স্কুল পরিদর্শকের পদও দীর্ঘদিন খালি থাকায় শিক্ষার মান পর্যবেক্ষণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড, দুইজনের যাবজ্জীবন

error:

হবিগঞ্জে প্রতি বছর ঝরে পড়ছে ১৩ হাজার প্রাথমিক শিক্ষার্থী

আপডেট সময় ১২:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। গত এক দশকে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজারে। দারিদ্র্য, ভৌগোলিক প্রতিকূলতা এবং মানসম্মত শিক্ষার অভাবকে এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলার ৯টি উপজেলার সরকারি, বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৫ হাজার ৮৮৩ জন। একই সময়ে পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৩ হাজার ৪৫৫ জন। সেই হিসাবে প্রাথমিক স্তরেই প্রতি বছর অন্তত ১২ হাজার ৪২৮ শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ছে।

তথ্য অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া প্রায় ৬৫ হাজার শিশুর মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হয় ৬৪ হাজার, তৃতীয় শ্রেণিতে ৬২ হাজার, চতুর্থ শ্রেণিতে ৫৯ হাজার এবং পঞ্চম শ্রেণিতে এসে তা কমে দাঁড়ায় ৫৩ হাজারে।

জেলায় বর্তমানে প্রায় তিন লাখ পাঁচ হাজার শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ হাজার শিশু বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেনে পড়াশোনা করছে। তবে পথশিশু, ভিক্ষুক ও অতি দরিদ্র পরিবারের অনেক শিশু প্রথম শ্রেণিতেই ভর্তি হচ্ছে না বলেও জানা গেছে। ফলে শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থেকে যাচ্ছে বিপুল সংখ্যক শিশু।

হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহ আলম বলেন, জেলার আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, নবীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার মতো এলাকায় দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক পরিবার সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছে না। কেউ কেউ ভর্তি হলেও পরবর্তী শ্রেণিতে আর টিকে থাকতে পারছে না।

তিনি আরও জানান, শিশুদের স্কুলমুখী করতে এবং বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে মিড-ডে মিল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে বাহুবল উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে মিড-ডে মিল চালু হয়েছে এবং এতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। জেলার সব উপজেলায় এই কার্যক্রম চালু করা গেলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও স্থায়িত্ব বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে হবিগঞ্জ জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২৪৯ জন প্রধান শিক্ষক ও ৪৭৭ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় স্কুল পরিদর্শকের পদও দীর্ঘদিন খালি থাকায় শিক্ষার মান পর্যবেক্ষণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।