ঢাকা ১২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ Logo বাহুবলে আবারও পুলিশের বাধায় এনসিপি Logo পুলিশকে হাসনাত: ‘দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন না’ Logo সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার Logo চট্টগ্রামে এনসিপির কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধা, হাতাহাতি Logo চা বাগানে এমপির প্রচেষ্টায় নতুন ঘর পেল আদিবাসী পরিবার Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য আনারস পাঠালেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী Logo এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি

হবিগঞ্জে প্রতি বছর ঝরে পড়ছে ১৩ হাজার প্রাথমিক শিক্ষার্থী

হবিগঞ্জ জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। গত এক দশকে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজারে। দারিদ্র্য, ভৌগোলিক প্রতিকূলতা এবং মানসম্মত শিক্ষার অভাবকে এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলার ৯টি উপজেলার সরকারি, বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৫ হাজার ৮৮৩ জন। একই সময়ে পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৩ হাজার ৪৫৫ জন। সেই হিসাবে প্রাথমিক স্তরেই প্রতি বছর অন্তত ১২ হাজার ৪২৮ শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ছে।

তথ্য অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া প্রায় ৬৫ হাজার শিশুর মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হয় ৬৪ হাজার, তৃতীয় শ্রেণিতে ৬২ হাজার, চতুর্থ শ্রেণিতে ৫৯ হাজার এবং পঞ্চম শ্রেণিতে এসে তা কমে দাঁড়ায় ৫৩ হাজারে।

জেলায় বর্তমানে প্রায় তিন লাখ পাঁচ হাজার শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ হাজার শিশু বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেনে পড়াশোনা করছে। তবে পথশিশু, ভিক্ষুক ও অতি দরিদ্র পরিবারের অনেক শিশু প্রথম শ্রেণিতেই ভর্তি হচ্ছে না বলেও জানা গেছে। ফলে শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থেকে যাচ্ছে বিপুল সংখ্যক শিশু।

হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহ আলম বলেন, জেলার আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, নবীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার মতো এলাকায় দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক পরিবার সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছে না। কেউ কেউ ভর্তি হলেও পরবর্তী শ্রেণিতে আর টিকে থাকতে পারছে না।

তিনি আরও জানান, শিশুদের স্কুলমুখী করতে এবং বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে মিড-ডে মিল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে বাহুবল উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে মিড-ডে মিল চালু হয়েছে এবং এতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। জেলার সব উপজেলায় এই কার্যক্রম চালু করা গেলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও স্থায়িত্ব বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে হবিগঞ্জ জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২৪৯ জন প্রধান শিক্ষক ও ৪৭৭ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় স্কুল পরিদর্শকের পদও দীর্ঘদিন খালি থাকায় শিক্ষার মান পর্যবেক্ষণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি

error:

হবিগঞ্জে প্রতি বছর ঝরে পড়ছে ১৩ হাজার প্রাথমিক শিক্ষার্থী

আপডেট সময় ১২:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। গত এক দশকে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজারে। দারিদ্র্য, ভৌগোলিক প্রতিকূলতা এবং মানসম্মত শিক্ষার অভাবকে এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলার ৯টি উপজেলার সরকারি, বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৫ হাজার ৮৮৩ জন। একই সময়ে পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৩ হাজার ৪৫৫ জন। সেই হিসাবে প্রাথমিক স্তরেই প্রতি বছর অন্তত ১২ হাজার ৪২৮ শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ছে।

তথ্য অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া প্রায় ৬৫ হাজার শিশুর মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হয় ৬৪ হাজার, তৃতীয় শ্রেণিতে ৬২ হাজার, চতুর্থ শ্রেণিতে ৫৯ হাজার এবং পঞ্চম শ্রেণিতে এসে তা কমে দাঁড়ায় ৫৩ হাজারে।

জেলায় বর্তমানে প্রায় তিন লাখ পাঁচ হাজার শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ হাজার শিশু বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেনে পড়াশোনা করছে। তবে পথশিশু, ভিক্ষুক ও অতি দরিদ্র পরিবারের অনেক শিশু প্রথম শ্রেণিতেই ভর্তি হচ্ছে না বলেও জানা গেছে। ফলে শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থেকে যাচ্ছে বিপুল সংখ্যক শিশু।

হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহ আলম বলেন, জেলার আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, নবীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার মতো এলাকায় দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক পরিবার সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছে না। কেউ কেউ ভর্তি হলেও পরবর্তী শ্রেণিতে আর টিকে থাকতে পারছে না।

তিনি আরও জানান, শিশুদের স্কুলমুখী করতে এবং বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে মিড-ডে মিল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে বাহুবল উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে মিড-ডে মিল চালু হয়েছে এবং এতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। জেলার সব উপজেলায় এই কার্যক্রম চালু করা গেলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও স্থায়িত্ব বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে হবিগঞ্জ জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২৪৯ জন প্রধান শিক্ষক ও ৪৭৭ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় স্কুল পরিদর্শকের পদও দীর্ঘদিন খালি থাকায় শিক্ষার মান পর্যবেক্ষণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।