ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিতর্কের মধ্যেই নাসিরনগরের ইউএনও শাহীনা নাছরিনের এডিসি পদোন্নতি Logo মাধবপুরে গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ ফারইস্ট ইসলামী লাইফের বিরুদ্ধে Logo লাখাইয়ে ৯ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার Logo সুরমা চা বাগান যুব সংঘের তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত Logo বানিয়াচংয়ে ইভটিজিং ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক Logo লাখাইয়ে ৮১ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার Logo ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মাধবপুর ইউএনওর সরকারি গাড়ি Logo আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: প্রতিমন্ত্রী Logo মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সোলার প্যানেল অকেজো, কাজে আসছে না বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা

বিতর্কের মধ্যেই নাসিরনগরের ইউএনও শাহীনা নাছরিনের এডিসি পদোন্নতি

মোঃ আব্দুল হান্নান, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও তাকে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে পদোন্নতি দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ৩৪তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিন ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর নাসিরনগরের ইউএনও হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নাসিরনগরে দায়িত্ব পালনকালে মডেল মসজিদে নিয়োগ, সরকারি লবণ বিতরণ, জলমহাল ও পশুর হাট ইজারা, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ এবং বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের কয়েকটি নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে।

মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ইমাম, খতিবসহ কয়েকটি পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ ইউএনও শাহীনা নাছরিন, জেলা প্রশাসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন চাকরিপ্রার্থী গোলাম মোস্তফা। তার অভিযোগ, লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর পেলেও মৌখিক পরীক্ষায় তাকে কোনো নম্বর দেওয়া হয়নি। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন।

এ ছাড়া সরকারি ২৪০ বস্তা লবণ বিতরণ, উপজেলা প্রশাসনের সম্পদ বিক্রি, জলমহাল ও খাস পুকুর ইজারা এবং অস্থায়ী পশুর হাট ইজারায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালীদের ইজারা দেওয়াসহ দরপত্র প্রক্রিয়ায় পক্ষপাত করা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ, সরকারি ডোবা ভরাট, সরকারি বাসভবনের সামনের পুকুর সংস্কার, কোটেশনের কাজ এবং উপজেলা পরিষদের বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। চাতলপাড় ইউনিয়নের ফকিরদিয়া চক বাজারসংলগ্ন সড়ক নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দের মধ্যে সামান্য কাজ করে বড় অংশের অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহীনা নাছরিন। তিনি বলেন, মডেল মসজিদের ইমাম নিয়োগের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। পশুর হাট ইজারার সময় কিছু বিশৃঙ্খলা হলেও তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে বিভিন্ন সুপারিশ থাকলেও কোনো অনিয়ম হয়নি। অন্য অভিযোগগুলোও সত্য নয় এবং সব কার্যক্রম নিয়ম মেনেই করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে অভিযোগগুলোর মধ্যেই শাহীনা নাছরিনের এডিসি হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বিতর্কের মধ্যেই নাসিরনগরের ইউএনও শাহীনা নাছরিনের এডিসি পদোন্নতি

error:

বিতর্কের মধ্যেই নাসিরনগরের ইউএনও শাহীনা নাছরিনের এডিসি পদোন্নতি

আপডেট সময় ০৭:১১:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ আব্দুল হান্নান, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও তাকে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে পদোন্নতি দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ৩৪তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিন ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর নাসিরনগরের ইউএনও হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নাসিরনগরে দায়িত্ব পালনকালে মডেল মসজিদে নিয়োগ, সরকারি লবণ বিতরণ, জলমহাল ও পশুর হাট ইজারা, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ এবং বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের কয়েকটি নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে।

মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ইমাম, খতিবসহ কয়েকটি পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ ইউএনও শাহীনা নাছরিন, জেলা প্রশাসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন চাকরিপ্রার্থী গোলাম মোস্তফা। তার অভিযোগ, লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর পেলেও মৌখিক পরীক্ষায় তাকে কোনো নম্বর দেওয়া হয়নি। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন।

এ ছাড়া সরকারি ২৪০ বস্তা লবণ বিতরণ, উপজেলা প্রশাসনের সম্পদ বিক্রি, জলমহাল ও খাস পুকুর ইজারা এবং অস্থায়ী পশুর হাট ইজারায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালীদের ইজারা দেওয়াসহ দরপত্র প্রক্রিয়ায় পক্ষপাত করা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ, সরকারি ডোবা ভরাট, সরকারি বাসভবনের সামনের পুকুর সংস্কার, কোটেশনের কাজ এবং উপজেলা পরিষদের বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। চাতলপাড় ইউনিয়নের ফকিরদিয়া চক বাজারসংলগ্ন সড়ক নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দের মধ্যে সামান্য কাজ করে বড় অংশের অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহীনা নাছরিন। তিনি বলেন, মডেল মসজিদের ইমাম নিয়োগের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। পশুর হাট ইজারার সময় কিছু বিশৃঙ্খলা হলেও তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে বিভিন্ন সুপারিশ থাকলেও কোনো অনিয়ম হয়নি। অন্য অভিযোগগুলোও সত্য নয় এবং সব কার্যক্রম নিয়ম মেনেই করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে অভিযোগগুলোর মধ্যেই শাহীনা নাছরিনের এডিসি হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।