
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য ও ‘ভিউ ব্যবসা’ এখন দেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে—এমন মন্তব্য উঠে এসেছে এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, যাচাই-বাছাই ছাড়াই মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে একটি চক্র সমাজে বিভ্রান্তি, হিংসা ও অস্থিরতা তৈরি করছে।
সম্প্রতি ‘সরকার টাকা ছাপিয়ে দেশ চালাচ্ছে’—এমন একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থমন্ত্রী উভয়েই এ তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেন। তবে এর আগেই গুজবটি সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষণে বলা হয়, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিছু অসাধু গোষ্ঠীর জন্য ‘ভিউ ব্যবসা’র প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। তারা মিথ্যা ও চটকদার তথ্য ছড়িয়ে অর্থ উপার্জন করছে, একইসঙ্গে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে ব্ল্যাকমেইল করছে।
এ ধরনের চক্রের কারণে নিরীহ মানুষও ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর শিকার হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রমাণ ছাড়াই কাউকে অপরাধী বানানো হচ্ছে, এমনকি মব সৃষ্টির মতো ঘটনাও ঘটছে। এতে বিচারব্যবস্থা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন রাজনৈতিক বিদ্বেষ ও বিভাজনের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হচ্ছে। ভিন্নমত প্রকাশ করলেই কাউকে অপমান করা, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করা কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করার প্রবণতা বেড়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে এ ধরনের অপতথ্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। জার্মানি, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি ও জরিমানার ব্যবস্থা চালু করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় এনে গুজব ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একইসঙ্গে ‘ভিউ ব্যবসায়ী’দের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তারা মনে করেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই অপতথ্য ও গুজব দেশের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বাংলার খবর ডেস্ক : 






















