ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জামালপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অননুমোদিত ওষুধ, দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা Logo এসআরবির মহাপরিচালক হলেন অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ Logo জামালপুরে মোবাইল কোর্টের অভিযান, তিন মামলায় ৬ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা Logo মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিষ্কারে যুবকদের নিয়ে মাঠে নামলেন রহিম মিয়া Logo মাধবপুর-চুনারুঘাটের ৫ চা বাগানে ৯ দিন রেশন বন্ধ, ৩ হাজার ৪০০ শ্রমিককে ১৭ টন চাল দিলেন শাফকাত Logo মাধবপুরে ১ কোটি ৮ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা-মেহেদীসহ কাভার্ড ভ্যান জব্দ Logo লাখাইয়ে সালিশের টাকা দিতে গিয়ে যুবককে মারধরের অভিযোগ, ছিনিয়ে নেওয়ার দাবি ২ লাখ টাকা Logo সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সরকারি ক্রয় আইন সংশোধনে মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন Logo দুপুরে ছাত্রলীগের মিছিলে অংশ, রাতেই গ্রেপ্তার নাসিরনগরের অনিক Logo তিন দিনের সরকারি সফরে হবিগঞ্জ আসছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

মাধবপুরে এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে উচ্চস্বরে গান ও অসামাজিক কার্যকলাপে ক্ষুব্ধ অভিভাবক-শিক্ষার্থী

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে উচ্চস্বরে গান-বাজনা ও কথিত বাউল গানের আসর নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রতিদিন বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে এবং ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের আড়ালে, বিশেষ করে জন্মদিন উপলক্ষে এসব আয়োজন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। অনেক ক্ষেত্রে বাউল গানের নামে অশ্লীল নাচ-গান, জুয়া ও অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপও চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে যুবসমাজ বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

হরিশ্যামা গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী অঞ্জনা শীল জানায়, উচ্চস্বরে গান বাজানোর কারণে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আফজলপুর গ্রামের পরীক্ষার্থী আবু সাঈদ। তিনি বলেন, “প্রতিদিন আমাদের আশপাশে কোথাও না কোথাও এসব গানের আসর বসছে। এর বিরুদ্ধে কেউ কথা বলে না। আমরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছি না। প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কায়েস আহমদ সালমান বলেন, “এই অশ্লীলতা বন্ধ না হলে আগামী প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অবিলম্বে এসব কার্যক্রম বন্ধ করা জরুরি।”

প্রবীণ বাউল সাধক দেওয়ান কলিম শা বলেন, “আগে বাউল গানে আধ্যাত্মিকতা ও মানবতার চর্চা হতো। কিন্তু বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে এর বিকৃতি ঘটছে, যা দুঃখজনক।”

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাশেম বলেন, “প্রত্যেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও থানার ওসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অশোভন কার্যকলাপে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অননুমোদিত ওষুধ, দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

error:

মাধবপুরে এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে উচ্চস্বরে গান ও অসামাজিক কার্যকলাপে ক্ষুব্ধ অভিভাবক-শিক্ষার্থী

আপডেট সময় ০৯:৫০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা:

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে উচ্চস্বরে গান-বাজনা ও কথিত বাউল গানের আসর নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রতিদিন বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে এবং ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের আড়ালে, বিশেষ করে জন্মদিন উপলক্ষে এসব আয়োজন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। অনেক ক্ষেত্রে বাউল গানের নামে অশ্লীল নাচ-গান, জুয়া ও অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপও চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে যুবসমাজ বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

হরিশ্যামা গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী অঞ্জনা শীল জানায়, উচ্চস্বরে গান বাজানোর কারণে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আফজলপুর গ্রামের পরীক্ষার্থী আবু সাঈদ। তিনি বলেন, “প্রতিদিন আমাদের আশপাশে কোথাও না কোথাও এসব গানের আসর বসছে। এর বিরুদ্ধে কেউ কথা বলে না। আমরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছি না। প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কায়েস আহমদ সালমান বলেন, “এই অশ্লীলতা বন্ধ না হলে আগামী প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অবিলম্বে এসব কার্যক্রম বন্ধ করা জরুরি।”

প্রবীণ বাউল সাধক দেওয়ান কলিম শা বলেন, “আগে বাউল গানে আধ্যাত্মিকতা ও মানবতার চর্চা হতো। কিন্তু বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে এর বিকৃতি ঘটছে, যা দুঃখজনক।”

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাশেম বলেন, “প্রত্যেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও থানার ওসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অশোভন কার্যকলাপে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।