
ডেস্ক নিউজ বাংলার খবর ২৪:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ১৫ জেলার অন্তত ৩৫১ প্রার্থীর ক্ষেত্রে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়োগের আদেশ জারি হওয়ার পর তালিকায় নিজেদের নাম না পেয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এসব প্রার্থী।
জেলা পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি সুনামগঞ্জে ১২০ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। এছাড়া বগুড়ায় ৪৮, পাবনায় ৩৫, চাঁদপুরে ২৭, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪, মানিকগঞ্জে ২২, কুষ্টিয়ায় ১৬, রাজবাড়ীতে ১৫, ফরিদপুর ও ঝালকাঠিতে ১২ জন করে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাতজন নিয়োগপত্র পাননি।
এ ছাড়া শরীয়তপুরে ছয়জন, মুন্সিগঞ্জ ও পাবনায় তিনজন করে এবং সাতক্ষীরা ও লক্ষ্মীপুরে দুজন করে প্রার্থীর নিয়োগপত্র না পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আরও কয়েকটি জেলায় একই ধরনের অভিযোগ থাকলেও সেসব জেলার সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।
নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের অনেকেই জানিয়েছেন, নিয়োগের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। এরপরও কেন তাদের নাম নিয়োগের আদেশে নেই, সে বিষয়ে তাদের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কয়েকটি জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
তবে অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পুলিশ ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক প্রতিবেদন, জমা দেওয়া কাগজপত্রে অসামঞ্জস্য কিংবা সংশ্লিষ্ট উপজেলায় শূন্যপদের পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণে কোনো প্রার্থীর নিয়োগ আটকে থাকতে পারে। তবে ৩৫১ জন প্রার্থীর ক্ষেত্রে ঠিক কোন কারণে নিয়োগ দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালক জয়নাল আবেদীনও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে নিয়োগপত্র না পাওয়ায় সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছিল। একই সঙ্গে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
এর আগে গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এমসিকিউ পদ্ধতির ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। মৌখিক পরীক্ষা শেষে ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ করা হয় চূড়ান্ত ফলাফল।
বাংলার খবর ডেস্ক : 



















