ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লাখাইয়ে দুর্গাপূজাকে ঘিরে মনের মাধুরী দিয়ে প্রতিমা গড়ছেন কারিগররা Logo নিখোঁজের দুই দিন পর মাদ্রাসা সুপারের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার Logo মাধবপুরে তালবীজ রোপণে সবুজ স্বপ্ন, সড়কের পাশে গড়ে উঠছে ছায়ার ভবিষ্যৎ Logo মাহিদার ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন Logo যুবদল সভাপতির বক্তব্যের প্রতিবাদে হাইমচর জামায়াতের বিবৃতি Logo হরিপুরে তিতাস নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ, দুই পাড়ে হাজারো দর্শনার্থীর ঢল Logo মাধবপুর ফাউন্ডেশন ইউএসএ ইনকের নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক Logo নোয়াপাড়ায় ৩০৫ জনের চোখ পরীক্ষা, ছানি শনাক্ত ৫৫ জন Logo সাবেক প্রধান শিক্ষকের বাসায় চুরি, হাত-পা ও চোখ বেঁধে লুট Logo গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়ের সামনে থেকে শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আটক

উচ্চ মাধ্যমিকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তিতে বড় ধস, সংকটের কারণ নিয়ে প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ বাংলার খবর ২৪:
উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তির হার কমে যাওয়ায় শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজধানীর ঢাকা উদ্যান সরকারি কলেজের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরিসংখ্যানেও এর বড় ধরনের প্রতিফলন দেখা গেছে।

কলেজটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি শিক্ষাবর্ষে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তি হয়েছে মাত্র ৫২ জন শিক্ষার্থী। বিপরীতে বিজ্ঞান বিভাগে ১১২ জন এবং মানবিক বিভাগে ২৮৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। অথচ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তি হয়েছিল ২৪২ জন। একই সময়ে বিজ্ঞান বিভাগে ২৫০ জন এবং মানবিক বিভাগে ৩০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঢাকা উদ্যান সরকারি কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তি ২৪২ জন থেকে কমে ৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। শতাংশের হিসাবে এটি প্রায় ৭৯ শতাংশ হ্রাস। এই পরিসংখ্যানকে কেন্দ্র করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শিক্ষাক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্লেষণ করা একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু সাম্প্রতিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল বা হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে অকৃতকার্যের হার দিয়ে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যায় না। এর পেছনে পাঠ্যক্রম, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম, অতিরিক্ত শিক্ষা ব্যয় এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগের মতো একাধিক বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্লেষণে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার সিলেবাসকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা এবং ব্যাংকিং ও বিমা বিষয়ে তুলনামূলকভাবে জটিল ও তাত্ত্বিক বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে মত দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া একাদশ শ্রেণিতে হিসাববিজ্ঞান প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র একসঙ্গে পড়ানোর পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিষয়টির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পাঠদানের সুযোগ সীমিত হলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শুরুতেই বিষয়টি কঠিন মনে করতে পারে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত পাঠদানের সময় না পাওয়া, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট এবং একই বিষয়ের বিভিন্ন অধ্যায় একাধিক শিক্ষকের মাধ্যমে বিচ্ছিন্নভাবে পড়ানোর বিষয়টিও ব্যবসায় শিক্ষা শিক্ষার্থীদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি কোনো কোনো শিক্ষার্থীর কোচিং ও প্রাইভেট নির্ভরতা এবং বাড়তি শিক্ষাব্যয় বহনে পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে।

ব্যবসায় শিক্ষা থেকে ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান কর্মবাজারে হিসাবরক্ষণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার কাজ ক্রমেই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠলেও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাক্রমে আধুনিক অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার, ব্যবহারিক হিসাবরক্ষণ, ব্যাংকিং প্রযুক্তি ও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের দক্ষতার সঙ্গে পর্যাপ্ত সংযোগ নেই—এমন অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষক প্রশিক্ষণের ঘাটতি, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ ও ব্যবহারিক শিক্ষার সীমাবদ্ধতা, শিল্পখাতের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্বল যোগাযোগ এবং ব্যবসায় শিক্ষা সম্পর্কে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে পর্যাপ্ত তথ্য ও সচেতনতার অভাবও এ শাখায় আগ্রহ কমার কারণ হতে পারে।

পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে হিসাববিজ্ঞানের মতো যুক্তি ও হিসাবনির্ভর বিষয়ে মূল্যায়ন পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা যাচাইয়ের উপযোগী কি না, তা নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায় শিক্ষা শাখাকে সময়োপযোগী করতে কয়েকটি পদক্ষেপের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সিলেবাস পুনর্বিন্যাস, ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বাড়ানো, শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, কম্পিউটারাইজড অ্যাকাউন্টিং ও ব্যাংকিং সফটওয়্যার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ বাড়ানো।

এ ছাড়া ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইন্টার্নশিপ ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার সম্ভাবনা ও ক্যারিয়ার সুযোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বাস্তবভিত্তিক সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

ঢাকা উদ্যান সরকারি কলেজের ভর্তি পরিসংখ্যান অন্তত একটি প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তির বড় ধরনের পতনের চিত্র তুলে ধরছে। এই প্রবণতা দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একইভাবে ঘটছে কি না, তা নির্ধারণে জাতীয় পর্যায়ে হালনাগাদ ভর্তি পরিসংখ্যান ও গবেষণাভিত্তিক মূল্যায়ন প্রয়োজন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পাঠ্যক্রম, পাঠদান ও কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা গেলে ব্যবসায় শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইয়ে দুর্গাপূজাকে ঘিরে মনের মাধুরী দিয়ে প্রতিমা গড়ছেন কারিগররা

error:

উচ্চ মাধ্যমিকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তিতে বড় ধস, সংকটের কারণ নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় ০১:৩৮:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেস্ক নিউজ বাংলার খবর ২৪:
উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তির হার কমে যাওয়ায় শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজধানীর ঢাকা উদ্যান সরকারি কলেজের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরিসংখ্যানেও এর বড় ধরনের প্রতিফলন দেখা গেছে।

কলেজটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি শিক্ষাবর্ষে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তি হয়েছে মাত্র ৫২ জন শিক্ষার্থী। বিপরীতে বিজ্ঞান বিভাগে ১১২ জন এবং মানবিক বিভাগে ২৮৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। অথচ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তি হয়েছিল ২৪২ জন। একই সময়ে বিজ্ঞান বিভাগে ২৫০ জন এবং মানবিক বিভাগে ৩০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঢাকা উদ্যান সরকারি কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তি ২৪২ জন থেকে কমে ৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। শতাংশের হিসাবে এটি প্রায় ৭৯ শতাংশ হ্রাস। এই পরিসংখ্যানকে কেন্দ্র করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শিক্ষাক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্লেষণ করা একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু সাম্প্রতিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল বা হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে অকৃতকার্যের হার দিয়ে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যায় না। এর পেছনে পাঠ্যক্রম, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম, অতিরিক্ত শিক্ষা ব্যয় এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগের মতো একাধিক বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্লেষণে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার সিলেবাসকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা এবং ব্যাংকিং ও বিমা বিষয়ে তুলনামূলকভাবে জটিল ও তাত্ত্বিক বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে মত দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া একাদশ শ্রেণিতে হিসাববিজ্ঞান প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র একসঙ্গে পড়ানোর পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিষয়টির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পাঠদানের সুযোগ সীমিত হলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শুরুতেই বিষয়টি কঠিন মনে করতে পারে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত পাঠদানের সময় না পাওয়া, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট এবং একই বিষয়ের বিভিন্ন অধ্যায় একাধিক শিক্ষকের মাধ্যমে বিচ্ছিন্নভাবে পড়ানোর বিষয়টিও ব্যবসায় শিক্ষা শিক্ষার্থীদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি কোনো কোনো শিক্ষার্থীর কোচিং ও প্রাইভেট নির্ভরতা এবং বাড়তি শিক্ষাব্যয় বহনে পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে।

ব্যবসায় শিক্ষা থেকে ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান কর্মবাজারে হিসাবরক্ষণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার কাজ ক্রমেই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠলেও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাক্রমে আধুনিক অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার, ব্যবহারিক হিসাবরক্ষণ, ব্যাংকিং প্রযুক্তি ও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের দক্ষতার সঙ্গে পর্যাপ্ত সংযোগ নেই—এমন অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষক প্রশিক্ষণের ঘাটতি, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ ও ব্যবহারিক শিক্ষার সীমাবদ্ধতা, শিল্পখাতের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্বল যোগাযোগ এবং ব্যবসায় শিক্ষা সম্পর্কে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে পর্যাপ্ত তথ্য ও সচেতনতার অভাবও এ শাখায় আগ্রহ কমার কারণ হতে পারে।

পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে হিসাববিজ্ঞানের মতো যুক্তি ও হিসাবনির্ভর বিষয়ে মূল্যায়ন পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা যাচাইয়ের উপযোগী কি না, তা নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায় শিক্ষা শাখাকে সময়োপযোগী করতে কয়েকটি পদক্ষেপের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সিলেবাস পুনর্বিন্যাস, ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বাড়ানো, শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, কম্পিউটারাইজড অ্যাকাউন্টিং ও ব্যাংকিং সফটওয়্যার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ বাড়ানো।

এ ছাড়া ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইন্টার্নশিপ ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার সম্ভাবনা ও ক্যারিয়ার সুযোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বাস্তবভিত্তিক সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

ঢাকা উদ্যান সরকারি কলেজের ভর্তি পরিসংখ্যান অন্তত একটি প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তির বড় ধরনের পতনের চিত্র তুলে ধরছে। এই প্রবণতা দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একইভাবে ঘটছে কি না, তা নির্ধারণে জাতীয় পর্যায়ে হালনাগাদ ভর্তি পরিসংখ্যান ও গবেষণাভিত্তিক মূল্যায়ন প্রয়োজন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পাঠ্যক্রম, পাঠদান ও কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা গেলে ব্যবসায় শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।