ঢাকা ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo দৈনিক ভোরের ডাকের সংবাদের প্রতিবাদ, প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান চেয়ারম্যান নোমান মিয়ার Logo মাধবপুরে ৫৯ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার Logo মাধবপুরে নিখোঁজ মাদক ব্যবসায়ীকে উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন, কালনী ট্রেন অবরোধ Logo নিজ অর্থায়নে উন্নয়ন কাজে প্রশংসিত মীর ইব্রাহিম মিয়া Logo শিগগির খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার Logo চুনারুঘাটের শালটিলা বন বিটে ২৫ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ Logo চুনারুঘাটে অভিযানে গ্রেপ্তার মাদক মামলার আসামি ফিরোজ মিয়া Logo সংসদে মাধবপুর-চুনারুঘাটের উন্নয়ন দাবিতে সোচ্চার এমপি ফয়সল, চৌমুহনী রাবার ড্যাম পুনরায় চালুর আহ্বান Logo মাধবপুরে জুলাই শহীদ শামীম মিয়ার নামে সড়ক নামকরণের দাবিতে স্মারকলিপি Logo হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদ ধসের ঘটনায় আদালতের নির্দেশ

মাধবপুরে অবৈধ বালু মহোৎসব: প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দখলদারিত্বে হুমকিতে পরিবেশ ও কৃষিজমি

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার হরিণখোলা গ্রামে ডরা ছড়া নদীতে চলছে প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে ট্রাক্টরে করে বিক্রি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে মাসে কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে এই অবৈধ বালু ব্যবসায়। প্রতিদিনই নদীর বুক চিরে ড্রেজার মেশিনে বালু তোলা হচ্ছে, যার ফলে নদীর পাড় ভেঙে আশপাশের পৈত্রিক সম্পত্তি ও কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী ট্রাক্টরের চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলোও অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, মোঃ জিয়াউর রহমান (জিয়া) নামের এক ব্যক্তি এই অবৈধ বালু ব্যবসার মূল পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। এ বিষয়ে আঃ মান্নান নামে এক ব্যক্তি মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান জিয়া পূর্ববর্তী সরকারের আমলে প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দালালি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি সম্প্রতি স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীও এ বালু ব্যবসায় ‘শেয়ার নেওয়ার চেষ্টা’ করছেন, যার ফলে প্রশাসনের অভিযান কার্যকর হচ্ছে না।

হরিণখোলা গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
> “ডরা ছড়ার পাড়ে আমার পৈত্রিক জমি ছিল, এখন অর্ধেক নদীর মধ্যে চলে গেছে। ট্রাক্টরের শব্দে রাতে ঘুমানো যায় না, রাস্তাগুলো ভেঙে গেছে।”

এ বিষয়ে মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুল ইসলাম জানান,
> “অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ডরা ছড়া নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে, পাশাপাশি সরকারি রাজস্বেরও বিপুল ক্ষতি হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

দৈনিক ভোরের ডাকের সংবাদের প্রতিবাদ, প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান চেয়ারম্যান নোমান মিয়ার

মাধবপুরে অবৈধ বালু মহোৎসব: প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দখলদারিত্বে হুমকিতে পরিবেশ ও কৃষিজমি

আপডেট সময় ০৭:১১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার হরিণখোলা গ্রামে ডরা ছড়া নদীতে চলছে প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে ট্রাক্টরে করে বিক্রি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে মাসে কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে এই অবৈধ বালু ব্যবসায়। প্রতিদিনই নদীর বুক চিরে ড্রেজার মেশিনে বালু তোলা হচ্ছে, যার ফলে নদীর পাড় ভেঙে আশপাশের পৈত্রিক সম্পত্তি ও কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী ট্রাক্টরের চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলোও অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, মোঃ জিয়াউর রহমান (জিয়া) নামের এক ব্যক্তি এই অবৈধ বালু ব্যবসার মূল পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। এ বিষয়ে আঃ মান্নান নামে এক ব্যক্তি মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান জিয়া পূর্ববর্তী সরকারের আমলে প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দালালি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি সম্প্রতি স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীও এ বালু ব্যবসায় ‘শেয়ার নেওয়ার চেষ্টা’ করছেন, যার ফলে প্রশাসনের অভিযান কার্যকর হচ্ছে না।

হরিণখোলা গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
> “ডরা ছড়ার পাড়ে আমার পৈত্রিক জমি ছিল, এখন অর্ধেক নদীর মধ্যে চলে গেছে। ট্রাক্টরের শব্দে রাতে ঘুমানো যায় না, রাস্তাগুলো ভেঙে গেছে।”

এ বিষয়ে মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুল ইসলাম জানান,
> “অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ডরা ছড়া নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে, পাশাপাশি সরকারি রাজস্বেরও বিপুল ক্ষতি হবে।