ঢাকা ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন: চলছে দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ Logo তালশহর স্টেশনে ইঞ্জিন বিকল, থেমে গেল কালনী এক্সপ্রেস—ভোগান্তিতে ঢাকাগামী যাত্রী Logo আখাউড়া শিবনগর সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকালে আটক ২ Logo লাখাইয়ে কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডব: শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, দিশেহারা মানুষ Logo লাখাইয়ের প্রধান সড়কের বলভদ্র সেতুর সংযোগস্থলে ভাঙন, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা Logo লাখাইয়ে অকাল বন্যা ও ঝোড়ো বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ৭০ হেক্টর জমির ধান, দিশেহারা কৃষক Logo মাধবপুরে শিক্ষার্থীকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ Logo লাখাইয়ে উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী সম্পন্ন Logo মাধবপুরে ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, বোরো ধানের ক্ষতি Logo মঙ্গলবার ভোর থেকে ঘূর্ণিঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি, দ্রুত মেরামতে মাঠে পিডিবি

মাধবপুরে অবৈধ বালু মহোৎসব: প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দখলদারিত্বে হুমকিতে পরিবেশ ও কৃষিজমি

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার হরিণখোলা গ্রামে ডরা ছড়া নদীতে চলছে প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে ট্রাক্টরে করে বিক্রি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে মাসে কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে এই অবৈধ বালু ব্যবসায়। প্রতিদিনই নদীর বুক চিরে ড্রেজার মেশিনে বালু তোলা হচ্ছে, যার ফলে নদীর পাড় ভেঙে আশপাশের পৈত্রিক সম্পত্তি ও কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী ট্রাক্টরের চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলোও অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, মোঃ জিয়াউর রহমান (জিয়া) নামের এক ব্যক্তি এই অবৈধ বালু ব্যবসার মূল পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। এ বিষয়ে আঃ মান্নান নামে এক ব্যক্তি মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান জিয়া পূর্ববর্তী সরকারের আমলে প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দালালি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি সম্প্রতি স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীও এ বালু ব্যবসায় ‘শেয়ার নেওয়ার চেষ্টা’ করছেন, যার ফলে প্রশাসনের অভিযান কার্যকর হচ্ছে না।

হরিণখোলা গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
> “ডরা ছড়ার পাড়ে আমার পৈত্রিক জমি ছিল, এখন অর্ধেক নদীর মধ্যে চলে গেছে। ট্রাক্টরের শব্দে রাতে ঘুমানো যায় না, রাস্তাগুলো ভেঙে গেছে।”

এ বিষয়ে মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুল ইসলাম জানান,
> “অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ডরা ছড়া নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে, পাশাপাশি সরকারি রাজস্বেরও বিপুল ক্ষতি হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন: চলছে দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ

error:

মাধবপুরে অবৈধ বালু মহোৎসব: প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দখলদারিত্বে হুমকিতে পরিবেশ ও কৃষিজমি

আপডেট সময় ০৭:১১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার হরিণখোলা গ্রামে ডরা ছড়া নদীতে চলছে প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে ট্রাক্টরে করে বিক্রি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে মাসে কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে এই অবৈধ বালু ব্যবসায়। প্রতিদিনই নদীর বুক চিরে ড্রেজার মেশিনে বালু তোলা হচ্ছে, যার ফলে নদীর পাড় ভেঙে আশপাশের পৈত্রিক সম্পত্তি ও কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভারী ট্রাক্টরের চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলোও অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, মোঃ জিয়াউর রহমান (জিয়া) নামের এক ব্যক্তি এই অবৈধ বালু ব্যবসার মূল পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। এ বিষয়ে আঃ মান্নান নামে এক ব্যক্তি মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান জিয়া পূর্ববর্তী সরকারের আমলে প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দালালি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি সম্প্রতি স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীও এ বালু ব্যবসায় ‘শেয়ার নেওয়ার চেষ্টা’ করছেন, যার ফলে প্রশাসনের অভিযান কার্যকর হচ্ছে না।

হরিণখোলা গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
> “ডরা ছড়ার পাড়ে আমার পৈত্রিক জমি ছিল, এখন অর্ধেক নদীর মধ্যে চলে গেছে। ট্রাক্টরের শব্দে রাতে ঘুমানো যায় না, রাস্তাগুলো ভেঙে গেছে।”

এ বিষয়ে মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুল ইসলাম জানান,
> “অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ডরা ছড়া নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে, পাশাপাশি সরকারি রাজস্বেরও বিপুল ক্ষতি হবে।