ঢাকা ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ Logo হৃদরোগ নাকি বিষাক্ত মদ? লাখাইয়ে ৬ জনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য Logo হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযানে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ Logo বাহুবলে ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের মোবাইল কোর্ট: মাদকবিরোধী অভিযানে দুইজনের কারাদণ্ড Logo বাহুবলে পূর্ব জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদন্তে গড়িমসি, প্রশ্নের মুখে শিক্ষা বিভাগ Logo নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে ছিনতাইকৃত ২ মোবাইল উদ্ধার, আটক ২ Logo মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল ৬ আগস্ট Logo হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলায় ছাত্রদলের চার নেতা-কর্মীকে শনাক্তের দাবি Logo হবিগঞ্জ ছাত্রদলের সভাপতিসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এনসিপির মামলা Logo লাখাইয়ে সরকারি বই পাচার মামলার সুরাহা কবে? দুদকের ধীরগতিতে জনমনে চরম ক্ষোভ

মাধবপুরে নিশানের টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত নিশান সোসাইটির গ্রাহকরা বকেয়া টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন, প্রতিবাদ মিছিল ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় তেলিয়াপাড়া নিশান সোসাইটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে জগদীশপুর তেমুনিয়া মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে গ্রাহকরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা চলা এ অবরোধের কারণে মহাসড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে মাধবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, নিশান সোসাইটি প্রতি লাখে মাসে ২-৩ হাজার টাকা লাভের প্রলোভন দেখিয়ে হবিগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় শাখা খুলে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। কিন্তু এক বছর আগে থেকে গ্রাহকরা টাকা ফেরত চাইলে কর্মকর্তারা গড়িমসি শুরু করেন। এরপর পরিচালক সায়েম ও সালমান পালিয়ে যান। চেয়ারম্যান বেলাল ও তার স্ত্রী আমেনাকেও গ্রাহকরা একসময় নজরবন্দি করেছিলেন, তবে তারাও মাসখানেক আগে আত্মগোপনে চলে যান। সোসাইটির এমডি জালাল উদ্দিনও একাধিক সভায় প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে লাপাত্তা হয়ে যান।

গোয়াছনগর গ্রামের নুরুল ইসলাম জানান,
“লাভের আশায় জমি বিক্রি করে নিশানে টাকা জমা করেছিলাম। এখন সব টাকা হাতিয়ে তারা পালিয়ে গেছে।”

সুরমা গ্রামের মানিক মিয়া বলেন,
“আমার বাবা আরজু মিয়া টাকা ফেরত না পেয়ে কষ্টে হঠাৎ মারা গেছেন।”

সুরমা বাগানের চা শ্রমিক রোমানা বেগম বলেন,
“কষ্টার্জিত টাকা জমা দিয়েছিলাম। সময় পার হলেও ফেরত দিচ্ছে না। বরং নিশান গা-ঢাকা দেওয়ায় কিছু লোক তাদের সম্পত্তি দখল করছে। আমাদের দাবি—সরকার যেন তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেয়।”

এ বিষয়ে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। টাকা ফেরতের বিষয়ে গ্রাহকদের আইনি প্রক্রিয়ায় এগুতে হবে। মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা করলে সমস্যার সমাধান আরও জটিল হবে।”

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী: হবিগঞ্জে হামলায় চোখ হারালেন ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ

error:

মাধবপুরে নিশানের টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ

আপডেট সময় ০৫:৩৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত নিশান সোসাইটির গ্রাহকরা বকেয়া টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন, প্রতিবাদ মিছিল ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় তেলিয়াপাড়া নিশান সোসাইটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে জগদীশপুর তেমুনিয়া মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে গ্রাহকরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা চলা এ অবরোধের কারণে মহাসড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে মাধবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, নিশান সোসাইটি প্রতি লাখে মাসে ২-৩ হাজার টাকা লাভের প্রলোভন দেখিয়ে হবিগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় শাখা খুলে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। কিন্তু এক বছর আগে থেকে গ্রাহকরা টাকা ফেরত চাইলে কর্মকর্তারা গড়িমসি শুরু করেন। এরপর পরিচালক সায়েম ও সালমান পালিয়ে যান। চেয়ারম্যান বেলাল ও তার স্ত্রী আমেনাকেও গ্রাহকরা একসময় নজরবন্দি করেছিলেন, তবে তারাও মাসখানেক আগে আত্মগোপনে চলে যান। সোসাইটির এমডি জালাল উদ্দিনও একাধিক সভায় প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে লাপাত্তা হয়ে যান।

গোয়াছনগর গ্রামের নুরুল ইসলাম জানান,
“লাভের আশায় জমি বিক্রি করে নিশানে টাকা জমা করেছিলাম। এখন সব টাকা হাতিয়ে তারা পালিয়ে গেছে।”

সুরমা গ্রামের মানিক মিয়া বলেন,
“আমার বাবা আরজু মিয়া টাকা ফেরত না পেয়ে কষ্টে হঠাৎ মারা গেছেন।”

সুরমা বাগানের চা শ্রমিক রোমানা বেগম বলেন,
“কষ্টার্জিত টাকা জমা দিয়েছিলাম। সময় পার হলেও ফেরত দিচ্ছে না। বরং নিশান গা-ঢাকা দেওয়ায় কিছু লোক তাদের সম্পত্তি দখল করছে। আমাদের দাবি—সরকার যেন তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেয়।”

এ বিষয়ে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। টাকা ফেরতের বিষয়ে গ্রাহকদের আইনি প্রক্রিয়ায় এগুতে হবে। মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা করলে সমস্যার সমাধান আরও জটিল হবে।”