ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাধবপুরে সাড়ে তিন বছর পর সেফটিক ট্যাংকে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির কঙ্কাল, আটক চার Logo ঠাকুরগাঁওয়ে জয়-পরাজয়ের পর সৌজন্য সাক্ষাৎ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে উন্নয়নের আহ্বান মির্জা ফয়সল আমিনের Logo রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে স্বপরিবারে সাক্ষাৎ করলেন এমপি সৈয়দ মো. ফয়সল Logo মালদ্বীপে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল Logo হাইমচরে কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত Logo দুর্নীতিই দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল Logo ৩১ অক্টোবর মাধবপুরে গাউছিয়া খায়েরিয়া দরবার শরীফের ৭৫তম ওরশ ও দোয়া মাহফিল Logo মাধবপুরে গ্যাসের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, ৫ কিলোমিটার যানজট Logo জুমার জামাতে ঐক্য, সমাজে বিভেদের দেয়াল Logo লাখাইয়ে বুল্লা সিংহগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ফজলুল করিমকে বিদায় সংবর্ধনা

মরেও অমর লিটন দাশ, মেডিকেল শিক্ষায় দেহ দান

জালাল উদ্দিন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার:
মৃত্যুর পরও যেন তাঁর দেহ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগে—এই প্রত্যয় থেকে নিজের মৃতদেহ চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষা ও গবেষণার জন্য দান করে গেছেন নবীগঞ্জের মানবদরদি যুবক লিটন দাশ তালুকদার।

দীর্ঘদিন ধরে দুই কিডনি নষ্ট হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা লিটন দাশ গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে নবীগঞ্জ পৌরসভার শিবপাশা এলাকার নিজ বাসভবনে মারা যান।

মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগে, গত ১৩ আগস্ট নোটারীকৃত ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে তিনি তাঁর মৃতদেহ হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য দানের ইচ্ছা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। ঘোষণাপত্রটি তিনি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

তাঁর মৃত্যুর পর জেলা প্রশাসনের অনুমতিসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে লিটন দাশের বড় ভাই দিপু চন্দ্র দাশ তালুকদার ও স্বজনরা তাঁর মরদেহ হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ সময় মেডিকেল কলেজের এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সুপার্থ ভট্টাচার্য্য, প্রধান টেকনোলজিস্ট প্রশান্ত চন্দ্র দেব, হিসাবরক্ষক সূর্য লাল রায় ও ক্যাশিয়ার নারায়ণ পালসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়।

মরদেহ হস্তান্তরের আগে বাসদ হবিগঞ্জ জেলা ও নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা লিটন দাশের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং ‘লাল সালাম’ প্রদান করেন।

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্রধান টেকনোলজিস্ট প্রশান্ত চন্দ্র দেব বলেন, “আমাদের দেহ পচনশীল, কর্মটাই মূল। লিটন দাশ সেই মূল কাজটিই করে গেছেন। এ কারণে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ পরিবার আজীবন তাঁর মানবিক অবদানের কথা স্মরণ রাখবে।”

লিটন দাশের পিতা মৃত দ্বিজেন্দ্র দাশ তালুকদার ও মা রেখা রানী দাশ। তাঁর বড় ভাই দিপু চন্দ্র দাশ তালুকদার বাসদ নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সদস্য।

পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, হবিগঞ্জ জেলার কোনো ব্যক্তির মরণোত্তর দেহদানের এমন ঘটনা এটিই প্রথম। একই সঙ্গে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজেও এটি প্রথম কোনো মরণোত্তর দেহ গ্রহণের ঘটনা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাধবপুরে সাড়ে তিন বছর পর সেফটিক ট্যাংকে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির কঙ্কাল, আটক চার

error:

মরেও অমর লিটন দাশ, মেডিকেল শিক্ষায় দেহ দান

আপডেট সময় ০৩:২২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জালাল উদ্দিন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার:
মৃত্যুর পরও যেন তাঁর দেহ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগে—এই প্রত্যয় থেকে নিজের মৃতদেহ চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষা ও গবেষণার জন্য দান করে গেছেন নবীগঞ্জের মানবদরদি যুবক লিটন দাশ তালুকদার।

দীর্ঘদিন ধরে দুই কিডনি নষ্ট হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা লিটন দাশ গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে নবীগঞ্জ পৌরসভার শিবপাশা এলাকার নিজ বাসভবনে মারা যান।

মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগে, গত ১৩ আগস্ট নোটারীকৃত ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে তিনি তাঁর মৃতদেহ হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য দানের ইচ্ছা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। ঘোষণাপত্রটি তিনি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

তাঁর মৃত্যুর পর জেলা প্রশাসনের অনুমতিসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে লিটন দাশের বড় ভাই দিপু চন্দ্র দাশ তালুকদার ও স্বজনরা তাঁর মরদেহ হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ সময় মেডিকেল কলেজের এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সুপার্থ ভট্টাচার্য্য, প্রধান টেকনোলজিস্ট প্রশান্ত চন্দ্র দেব, হিসাবরক্ষক সূর্য লাল রায় ও ক্যাশিয়ার নারায়ণ পালসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়।

মরদেহ হস্তান্তরের আগে বাসদ হবিগঞ্জ জেলা ও নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা লিটন দাশের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং ‘লাল সালাম’ প্রদান করেন।

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্রধান টেকনোলজিস্ট প্রশান্ত চন্দ্র দেব বলেন, “আমাদের দেহ পচনশীল, কর্মটাই মূল। লিটন দাশ সেই মূল কাজটিই করে গেছেন। এ কারণে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ পরিবার আজীবন তাঁর মানবিক অবদানের কথা স্মরণ রাখবে।”

লিটন দাশের পিতা মৃত দ্বিজেন্দ্র দাশ তালুকদার ও মা রেখা রানী দাশ। তাঁর বড় ভাই দিপু চন্দ্র দাশ তালুকদার বাসদ নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সদস্য।

পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, হবিগঞ্জ জেলার কোনো ব্যক্তির মরণোত্তর দেহদানের এমন ঘটনা এটিই প্রথম। একই সঙ্গে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজেও এটি প্রথম কোনো মরণোত্তর দেহ গ্রহণের ঘটনা।