ঢাকা ০৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মরেও অমর লিটন দাশ, মেডিকেল শিক্ষায় দেহ দান Logo ডোপ টেস্ট পজিটিভ, পুলিশ সুপার নিজাম উদ্দিন সাময়িক বরখাস্ত Logo মঙ্গলবার রাত থেকে কলকারখানায় আগের মতো গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস Logo লাখাইয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo মাধবপুরের ঐতিহ্যবাহী ফিল্টার শিল্প বিলুপ্তির পথে Logo জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির রায় মঙ্গলবার Logo আশুগঞ্জে প্রাইভেটকারে ৫২ কেজি গাঁজা, গ্রেফতার ১ Logo হাইমচরে শিক্ষার্থীদের ওপর বাঁশ দিয়ে হামলার অভিযোগ, হাসপাতালে ২ Logo বিতর্কের মধ্যেই নাসিরনগরের ইউএনও শাহীনা নাছরিনের এডিসি পদোন্নতি Logo মাধবপুরে গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ ফারইস্ট ইসলামী লাইফের বিরুদ্ধে

মরেও অমর লিটন দাশ, মেডিকেল শিক্ষায় দেহ দান

জালাল উদ্দিন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার:
মৃত্যুর পরও যেন তাঁর দেহ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগে—এই প্রত্যয় থেকে নিজের মৃতদেহ চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষা ও গবেষণার জন্য দান করে গেছেন নবীগঞ্জের মানবদরদি যুবক লিটন দাশ তালুকদার।

দীর্ঘদিন ধরে দুই কিডনি নষ্ট হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা লিটন দাশ গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে নবীগঞ্জ পৌরসভার শিবপাশা এলাকার নিজ বাসভবনে মারা যান।

মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগে, গত ১৩ আগস্ট নোটারীকৃত ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে তিনি তাঁর মৃতদেহ হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য দানের ইচ্ছা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। ঘোষণাপত্রটি তিনি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

তাঁর মৃত্যুর পর জেলা প্রশাসনের অনুমতিসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে লিটন দাশের বড় ভাই দিপু চন্দ্র দাশ তালুকদার ও স্বজনরা তাঁর মরদেহ হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ সময় মেডিকেল কলেজের এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সুপার্থ ভট্টাচার্য্য, প্রধান টেকনোলজিস্ট প্রশান্ত চন্দ্র দেব, হিসাবরক্ষক সূর্য লাল রায় ও ক্যাশিয়ার নারায়ণ পালসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়।

মরদেহ হস্তান্তরের আগে বাসদ হবিগঞ্জ জেলা ও নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা লিটন দাশের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং ‘লাল সালাম’ প্রদান করেন।

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্রধান টেকনোলজিস্ট প্রশান্ত চন্দ্র দেব বলেন, “আমাদের দেহ পচনশীল, কর্মটাই মূল। লিটন দাশ সেই মূল কাজটিই করে গেছেন। এ কারণে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ পরিবার আজীবন তাঁর মানবিক অবদানের কথা স্মরণ রাখবে।”

লিটন দাশের পিতা মৃত দ্বিজেন্দ্র দাশ তালুকদার ও মা রেখা রানী দাশ। তাঁর বড় ভাই দিপু চন্দ্র দাশ তালুকদার বাসদ নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সদস্য।

পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, হবিগঞ্জ জেলার কোনো ব্যক্তির মরণোত্তর দেহদানের এমন ঘটনা এটিই প্রথম। একই সঙ্গে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজেও এটি প্রথম কোনো মরণোত্তর দেহ গ্রহণের ঘটনা।

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলার খবর

জনপ্রিয় সংবাদ

মরেও অমর লিটন দাশ, মেডিকেল শিক্ষায় দেহ দান

error:

মরেও অমর লিটন দাশ, মেডিকেল শিক্ষায় দেহ দান

আপডেট সময় ০৩:২২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জালাল উদ্দিন লস্কর, স্টাফ রিপোর্টার:
মৃত্যুর পরও যেন তাঁর দেহ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগে—এই প্রত্যয় থেকে নিজের মৃতদেহ চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষা ও গবেষণার জন্য দান করে গেছেন নবীগঞ্জের মানবদরদি যুবক লিটন দাশ তালুকদার।

দীর্ঘদিন ধরে দুই কিডনি নষ্ট হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা লিটন দাশ গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে নবীগঞ্জ পৌরসভার শিবপাশা এলাকার নিজ বাসভবনে মারা যান।

মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগে, গত ১৩ আগস্ট নোটারীকৃত ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে তিনি তাঁর মৃতদেহ হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য দানের ইচ্ছা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। ঘোষণাপত্রটি তিনি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

তাঁর মৃত্যুর পর জেলা প্রশাসনের অনুমতিসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে লিটন দাশের বড় ভাই দিপু চন্দ্র দাশ তালুকদার ও স্বজনরা তাঁর মরদেহ হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ সময় মেডিকেল কলেজের এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সুপার্থ ভট্টাচার্য্য, প্রধান টেকনোলজিস্ট প্রশান্ত চন্দ্র দেব, হিসাবরক্ষক সূর্য লাল রায় ও ক্যাশিয়ার নারায়ণ পালসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়।

মরদেহ হস্তান্তরের আগে বাসদ হবিগঞ্জ জেলা ও নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা লিটন দাশের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং ‘লাল সালাম’ প্রদান করেন।

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্রধান টেকনোলজিস্ট প্রশান্ত চন্দ্র দেব বলেন, “আমাদের দেহ পচনশীল, কর্মটাই মূল। লিটন দাশ সেই মূল কাজটিই করে গেছেন। এ কারণে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ পরিবার আজীবন তাঁর মানবিক অবদানের কথা স্মরণ রাখবে।”

লিটন দাশের পিতা মৃত দ্বিজেন্দ্র দাশ তালুকদার ও মা রেখা রানী দাশ। তাঁর বড় ভাই দিপু চন্দ্র দাশ তালুকদার বাসদ নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সদস্য।

পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, হবিগঞ্জ জেলার কোনো ব্যক্তির মরণোত্তর দেহদানের এমন ঘটনা এটিই প্রথম। একই সঙ্গে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজেও এটি প্রথম কোনো মরণোত্তর দেহ গ্রহণের ঘটনা।